বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি আরিফুল ইসলাম ও ঢাবি শাখার সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক সৌভিক করিমের ‘দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু’র ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে প্রতিবাদী মানববন্ধনের আয়োজন করে ছাত্র ফেডারেশন। শনিবার (১১ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর ইস্কাটন টিএমসি মার্কেটের সামনে এ প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আরিফুল ইসলাম ও সৌভিক করিম সমাজের সবার মঙ্গলের জন্য চিন্তা করতেন এবং সে কাজে নিবেদিত ছিলেন। আরিফুল ইসলাম ছিলেন ছাত্র রাজনীতির এক উজ্জ্বল নাম। তিনি গণতান্ত্রিক ছাত্র রাজনীতির ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সব চেষ্টা তার রাজনৈতিক জীবনের শুরুতেই করেছেন। ছাত্র রাজনীতি শেষ করে তিনি গণসংহতি আন্দোলনে যুক্ত হন এবং দেশের গণমানুষের রাজনীতি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। এর পাশাপাশি তিনি মননশীলতার চর্চায় ভূমিকা রাখতে প্রকৃতি-পরিচয় প্রকাশনা এবং ইউপিএলে যুক্ত হয়ে জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ নির্মাণে ভূমিকা রেখেছেন।
সৌভিক করিম ছাত্রজীবন শেষ করে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন, পাশাপাশি তার সংগীত চর্চা ও লেখালেখি অব্যাহত রাখেন। তরুণ বয়সেই তিনি এ দেশের সংগীত চর্চায় তার উজ্জ্বল অবদান রেখে গেছেন। তার রচিত গান বাংলা সিনেমার সর্বকালের সেরা ১০০ গানের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে মশিউর রহমান খান রিচার্ড বলেন, ‘বাংলাদেশে সড়কে প্রতিবছর হাজার মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যায়। ২০১৮ সালে এই দেশের কিশোররা নিরাপদ সড়কের দাবিতে গণআন্দোলন গড়ে তুলেছিল; আরিফুল ইসলাম সেই আন্দোলনেও যুক্ত হয়েছিলেন। সরকার কি নির্মমভাবে সেই আন্দোলন দমন করেছিল, তা আমরা সবাই জানি। সরকার যখন নাগরিকের প্রতি যত্নশীল না হয়, নাগরিকের জীবন যখন তাদের কাছে শুধু সংখ্যা হয়; তখনই তারা এভাবে চোখ-কান বন্ধ করে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারে। যে রাষ্ট্রে সড়কে প্রতি বছরে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারান। আমাদের অগ্রজ আরিফুল ইসলাম ও সৌভিক করিম তাদের জীবনের পুরোটা সময় এদেশের মানুষের জীবনকে নিরাপদ করার সংগ্রাম করে গেছেন, আমরা তাদের উত্তরসূরী হিসেবে আমাদের লড়াই চালিয়ে নেবো।’
বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি মশিউর রহমান খান রিচার্ডের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সৈকত আরিফের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি প্রবীর সাহা, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও চলচিত্র নির্মাতা হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ যুব ফেডারেশনের আহবায়ক উৎসব মোসাদ্দেক, ঢাবি ছাত্র ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি আবু রায়হান খান, ঢাকা নগর ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি অনুপম রায় রূপক এবং ঢাবি ছাত্র ফেডারেশনের আহ্বায়ক আরমানুল হকসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা।









