সরকারের প্রতি আনুগত্যের পরীক্ষায় যারা ১০০-তে ৯৯ নম্বর পেয়েছেন তাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। যারা ১০০-তে ১০০ নম্বর পেয়েছেন তাদেরই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
সোমবার (২৭ নভেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে অবরোধের সমর্থনে বিক্ষোভ মিছিল পরবর্তী সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
সমাবেশে সাইফুল হক বলেন, আগেরবারের ৭১ জন সংসদ সদস্য এবার আওয়ামী লীগের প্রতীক পান নাই। আমরা লক্ষ করেছি, যারা সরকারের প্রতি আনুগত্যের পরীক্ষায় ১০০-তে ৯৯ নম্বর পেয়েছেন তাদের মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। যারা ১০০-তে ১০০ নম্বর পেয়েছেন তাদেরই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। গত পাঁচ বছরে যারা ব্যাংকগুলোকে খালি করেছে, শেয়ার মার্কেট লুট করেছে, অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের জন্য দায়ী, যাদের নেতৃত্বে বাজার সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা জনগণের বিরুদ্ধে, দেশের বিরুদ্ধে অপরাধ করেছে, এদের প্রায় সবাইকে এবার মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন ৩০০টা আসনে ডামি প্রার্থী রাখতে হবে। ডামি প্রার্থী কেন? কারণ হিসেবে বলেছেন, কোনও আসন যাতে ফাঁকা না যায়। এই নীলনকশার নির্বাচনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যেন আরেকজন ডামি প্রার্থী থাকে। যাতে দেশের মানুষ এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বলতে না পারে যে সেখানে আওয়ামী ছাড়া অন্য কোনও দলের প্রার্থী ছিল না।
সরকার বিএনপি থেকে নেতাকর্মীকে ভাগিয়ে আনবে এমন মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, সরকারের মধ্যে বিরাট হতাশা তৈরি হয়েছে। তারা ভেবেছিল বিএনপিকে ভেঙে খান খান করে দেবে। ভেবেছিল বিএনপি নাই, তৃণমূল বিএনপি আছে, এই কথা বলে বিএনপি থেকে নেতাকর্মীকে তারা ভাগিয়ে আনবে। কিন্তু তাদের সেই স্বপ্নটা পূরণ হয় নাই। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ঘুম হারাম হয়ে গেছে। গত কয়েক দিন ধরে গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চাপ-হুমকি-প্রলোভন এমন কোনও অপতৎপরতা নাই যেটা তারা প্রকাশ্যে বা অপ্রকাশ্যে সংঘটিত করে নাই।
সাইফুল হক আরও বলেন, ২০১৪, ২০১৮ সালের চালাকি তো ২০২৩, ২০২৪ সালে করা যাবে না। মানুষ তো এটা ইতোমধ্যে ধরে ফেলেছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ গত রাতে একটা প্রতিবেদন বের করেছে। তারা বলেছে ২৮ অক্টোবরের পরে বিরোধী দলের প্রতি কীভাবে রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস পরিচালনা করা হচ্ছে। কীভাবে ১০ হাজারের ওপর নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত ১৯ হাজারের মতো বিএনপি ও গণতন্ত্র মঞ্চের নেতাদের জেলে পাঠানো হয়েছে। এই সরকার এতই নির্লজ্জ, এতই বেহায়া।
নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, সারা বিশ্ব বলছে একটা অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। বাংলাদেশের বাচ্চারাও বলছে ভোটের কোনও নজির নাই। বাংলাদেশের গ্রাম-গ্রামান্তরে কোথাও ভোটের কোনও নজির আমরা দেখতে পাচ্ছি না। তাই শেষবারের মতো বলছি, এটা (একতরফা ভোট) বন্ধ করে দেন।
আওয়ামী লীগ নিঃশেষ হয়ে যাবে এমন মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, সারা দেশের মানুষ যেরকম করে রাজপথে নেমেছে, যেরকম করে আন্দোলন চলছে, আপনাদের কোনও কৌশল টিকবে না। আবারও বলছি, এই নির্বাচন আপনাদের দলগতভাবে, রাজনৈতিকভাবে নির্বাসনে পাঠাবে। সর্বাংশে আওয়ামী লীগ নিঃশেষ হয়ে যাবে। এর কোনও বিকল্প নাই। গণতন্ত্র মঞ্চ সেই লড়াই করছে এবং করতে থাকবে।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনসহ মঞ্চের নেতারা।







