আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের কাছে প্রশ্ন রেখে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ যদি আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে কেন ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরে মানুষের ভোটের অধিকারকে আপনারা ভয় পাচ্ছেন?
বুধবার (২০ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘বাজার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে গণপ্রতিরোধ গড়ে তোলো, একতরফা নির্বাচন ও পরিকল্পিত সহিংসতার প্রতিবাদে’ গণতন্ত্র মঞ্চ আয়োজিত এক বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
ওবায়দুল কাদেরের দেওয়া বক্তব্যের প্রসঙ্গে সাইফুল হক বলেন, ‘গতকালকে (মঙ্গলবার) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, ৭০ শতাংশ মানুষ নাকি শেখ হাসিনার সরকারকে ভোট দেওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়ে আছে। আমি ওবায়দুল কাদেরকে জিজ্ঞেস করতে চাই— দেশের ৭০ শতাংশ মানুষ যদি আওয়ামী লীগকে ভোট দেওয়ার জন্য তৈরি হয়ে থাকে, তাহলে কেন ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার পরেও মানুষের ভোটের অধিকারকে আপনারা ভয় পাচ্ছেন? কেন একটা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনকে আপনারা ভয় পাচ্ছেন?’
তিনি বলেন, ‘একজন উন্মত্ত জুয়ারি যখন জুয়া খেলতে খেলতে সব হারিয়ে ফেলে, তখন শেষ পর্যন্ত জুয়ার নেশায় সে তার নিজের পরিবারকেও বাজি ধরে। এই সরকার ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে নানা ধরনের নাশকতা, সহিংসতা করে বিরোধী দলের ওপর দায় চাপিয়ে তাদের দমন করতে যেয়ে, পুরো দেশকে নিয়ে তারা বাজি ধরেছে। জনগণকে নিয়ে বাজি ধরেছে। এই জুয়ারির কাছে মানুষ নিরাপদ না, জনগণ নিরাপদ না। দেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যৎ কোনোভাবেই নিরাপদ না। সেজন্যই আজকে রাজপথে বিরোধী দলগুলোর ঐক্য গড়ে উঠেছে।’
গণতন্ত্র মঞ্চের এই নেতা বলেন, ‘‘আপনারা জানেন, কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন— ‘আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চের দিকে দেশ একটা দুর্ভিক্ষের মধ্যে পড়বে।’ তিনি সে ব্যাপারে একটা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন— অগ্রিম ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন। পরিস্থিতি খুবই শোচনীয়, সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। সাধারণ মানুষ বলে, বাজারে গেলে মনে হয় না দেশে কোনও সরকার আছে। পরিকল্পিত নৈরাজ্যের মধ্যে দিয়ে এখানে বাজার চলছে। বাজার সিন্ডিকেট এবং সরকার এখন একাকার। এদের থেকে পার্থক্য করবার কোনও সুযোগ নেই।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের চলমান যে আন্দোলন, সেটা আগামীকাল থেকে চলবে। আমাদের যে কর্মসূচি সেটাও চলবে। আমাদের সভা-সমাবেশ-গণমিছিল আমরা অব্যাহত রাখবো।’
দেশের পুরো অর্থনীতি সরকারের সিন্ডিকেটের কাছে আক্রান্ত এমন মন্তব্য করে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘রাতের আঁধারে যখন বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের সরকার ধরতে আসে, তখন তারা পরাক্রমশালী। আর বাজার সিন্ডিকেটকে যখন ধরতে বলা হয়— সরকার বলে তাদের ধরা যাবে না। তাদের ধরলে বাজারে নাকি দাম আরও বেড়ে যাবে। এর অর্থ কী দাঁড়ায়, সরকার নিজেই সিন্ডিকেট। এই সিন্ডিকেট গ্রাম থেকে শুরু করে সারা দেশে বিস্তৃত। দেশের পুরো অর্থনীতি সিন্ডিকেটের কাছে আক্রান্ত।’
এতে বক্তব্য রাখেন নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলু, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপনসহ গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা।








