বাম রাজনীতির তাত্ত্বিক ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় কমিটির উপদেষ্টা হায়দার আকবর খান রনোকে আগামী সোমবার (১৩ মে) রাজধানীর বনানীস্থ কবরস্থানে দাফন করা হবে। এর আগে ওইদিন সকাল ১১টায় কমরেড হায়দার খান রনোর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। জাতির পক্ষ থেকে সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে। পরে দুপুর দেড়টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) পার্টির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্সের স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। কমরেড হায়দার আকবর খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতিতে দলটির নেতারা বলেন, হায়দার আকবার খান রনোর মৃত্যুতে দেশ একজন দেশপ্রেমিক, আজীবন সংগ্রামী, দেশের মানুষের শোষণ মুক্তির সংগ্রামের প্রিয় মানুষকে হারালো।
এর আগে শুক্রবার (১১ মে) দিবাগত রাত ২টা ৫ মিনিটে মারা যান হায়দার আকবর খান রনো। তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর। মৃত্যুকালে তিনি রাজধানীর হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে তার মরদেহ হাসপাতালের মরচুয়ারিতে রাখা হয়। আগামী সোমবার (১৩ মে) সকাল ১০টার দিকে শহীদ মিনারে নেওয়ার আগে তার মরদেহ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিপি) কেন্দ্রীয় কার্যালয় মুক্তিভবনে আনা হবে। সেখানে পার্টির পক্ষ থেকে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হবে।
এছাড়া আগামী ১৩ মে সোমবার সারা দেশে পার্টি কার্যালয়ে কালো পতাকা উত্তোলন, দলীয় পতাকা অর্ধনমিত ও কমরেড হায়দার আকবর খান প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন ও শোক দিবসের কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে।
বিবৃতি নেতারা বলেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সারা দেশের নেতাকর্মীরা কমরেড রনোর মৃত্যুতে গভীর শোকাহত। এই শোকাহত মুহূর্তে আমরা তার শোকসন্তপ্ত পরিবার পরিজনের প্রতি সমবেদনা জানাই। একইসঙ্গে এই প্রত্যয় ব্যক্ত করি যে, তার কর্মযজ্ঞকে সামনে রেখে আগামী দিনে দেশে সমাজতন্ত্র তথা ‘মুক্ত মানবের মুক্ত সমাজ’ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম বেগবান করার মধ্য দিয়ে তাকে প্রতি মুহূর্তে আমরা স্মরণ করবো।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে কমরেড রনো ৬২’র শিক্ষা আন্দোলন থেকে শুরু করে পাকিস্তানি স্বৈরাচারবিরোধী সংগ্রাম, মহান মুক্তিযুদ্ধ, এদেশে অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অবিচল ছিলেন উল্লেখ করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জেল-জুলুম নির্যাতন উপেক্ষা করে তিনি তার সংগ্রামী জীবন অব্যাহত রেখেছিলেন। একজন মার্কসবাদী তাত্ত্বিক হিসাবে তিনি অসংখ্য লেখনি রেখে গেছেন যা নতুন প্রজন্মের জন্য সংগ্রামের প্রেরণা হিসাবে থাকবে। তিনি জীবনের শুরুতেই ছাত্র আন্দোলনের সাথে যুক্ত হন। ছাত্র আন্দোলন শেষে শ্রমিকের লড়াইয়ে শামিল হন তিনি। এই অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়ে শ্রমিকশ্রেণির মুক্তি আন্দোলনকেও ত্বরান্বিত করেছেন। এই দেশের শ্রমজীবী মেহনতি মানুষকে সংগঠিত করার মাধ্যমে শোষণমুক্তি ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আজীবন তিনি নিয়োজিত ছিলেন। বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) প্রেসিডিয়াম সদস্য এবং উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করার সময় তিনি সংগঠন অগ্রসর করার কাজেও আত্মনিয়োগ করেছিলেন। দীর্ঘ অসুস্থতার মধ্যেও পার্টির দায়িত্ব পালনে তিনি কখনো পিছু হটেননি।








