গণতন্ত্র মঞ্চের নেতারা বলেছেন, ‘বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলার কোনও সরকার দেশে নেই। এ দেশে আছে অন্য দেশের তাবেদার সরকার। আওয়ামী লীগ এবং বর্তমান সরকার বাস্তবে এখন ভারতীয় স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করছে।’
শুক্রবার (৫ জুলাই) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে ‘বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী ও নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টিকারী সমঝোতা স্মারকের প্রতিবাদে’ গণতন্ত্র মঞ্চ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে এসব কথা বলেন নেতারা।
গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যতম নেতা এবং নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না বলেছেন, ভারত তথাকথিত সিকিউরিটির (নিরাপত্তার) নামে বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিকশিত হতে দেয় না। ১৫ বছর ধরে গায়ের জোরে যে সরকার ক্ষমতায় বসে আছে তাকেই ক্ষমতায় রাখবার চেষ্টা করে। সরকার এখন ভারতের সঙ্গে স্যাটেলাইট চুক্তি করেছে। ভারতের স্যাটেলাইট এখন বাংলাদেশের যেকোনও জায়গায় তদন্ত-তদারকি করতে পারবে। আমার দেশের সিকিউরিটি ভারতের হাতে চলে গেছে। এবারের ভারত সফরে শেখ হাসিনা আমাদের দেশের সমস্ত শর্ত জলাঞ্জলি দিয়ে দিয়েছে। আমরা ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখতে চাই কিন্তু ভারত আমাদের সঙ্গে বন্ধুত্বসুলভ আচরণ করছে না।
বিক্ষোভ সমাবেশে মঞ্চের আরেক নেতা বিপ্লবী ওয়ার্কাস পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, আওয়ামী লীগ এবং বর্তমান সরকার বাস্তবে এখন ভারতীয় স্বার্থের প্রতিনিধিত্ব করছে। ফলে এই সরকার যে সমঝোতা চুক্তি করেছে সেটা কোনোভাবেই বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না। এ সরকারের কাছে কোনও কিছুই এখন আর নিরাপদ নয়। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, জাতীয় নিরাপত্তা সবকিছুই আজ হুমকির মুখে। এ সরকারকে গলায় গামছা দিয়ে বিদায় দেওয়া ছাড়া আমরা আমাদের বর্তমান-ভবিষ্যত কোনও কিছুকেই রক্ষা করতে পারবো না।
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, শুষ্ক মৌসুমে পানি আটকে রেখে আমাদেরকে আবার পানিতে মারবেন, সীমান্তের কাঁটাতারে আমাদের নাগরিকদের প্রতিদিন গুলি করে হত্যা করবেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বন্ধুত্বের কথা বলে বাণিজ্যে সমস্ত ধরনের অশুল্ক বাধা সৃষ্টি করে রাখবেন, আপনাদের যা চাহিদা বাংলাদেশ তা পূরণ করবে— এইরকম অবস্থা এ দেশে নির্বাচিত সরকার যদি থাকতো তাহলে হতো না। আমাদের দেশের সরকার একটা জিনিসই জানেন সেটি হলো কীভাবে গদি রক্ষা করতে হয়। বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলার কোনও সরকার দেশে নাই। এদেশে আছে অন্য দেশের তাবেদার সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চীনে যাওয়ার জন্য ভারতের অনুমতি নিয়ে এসেছেন, এই হলো ৫৩ বছরের মুক্তিযুদ্ধের বাংলাদেশের অবস্থা। বিদেশি প্রভুর দয়ায় যারা ক্ষমতায় আছে তারা এইভাবে অনুমতি নিয়ে সব কাজ করবে।
এসময় তিনি ছাত্র-শিক্ষকদের আন্দোলনে সমর্থন জানিয়ে বলেন, আমরা পরিষ্কারভাবে ছাত্রদের আন্দোলনকে সমর্থন জানাই। শিক্ষকদের আন্দোলনকে সমর্থন জানাই। এদেশের মানুষের প্রতিটি আন্দোলনে আমরা আছি। আমরা সবাই একসঙ্গে সমস্ত বিরোধী দলকে ঐক্যবদ্ধ করে আন্দোলনের মাধ্যমে আপনাদেরকে (সরকার) ক্ষমতা থেকে নামিয়ে দেবো।
ভাসানী অনুসারী পরিষদের আহ্বায়ক শেখ রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে এসময় বিক্ষোভ সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সহ-সভাপতি তানিয়া রবসহ গণতন্ত্র মঞ্চের অন্যান্য নেতারা।







