গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি এবং নির্বাহী সমন্বয়কারী আবুল হাসান রুবেল বলেছেন, আজ বাংলাদেশে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারকে হটিয়ে দিয়েছে শিক্ষার্থী-জনতার গণঅভ্যুত্থান। এখন দেশটাকে সবাই মিলে গড়তে হবে। দেশে এখন গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই সবার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। শিক্ষার্থী ও জনতার অভ্যুত্থানের মূল চালিকাশক্তি হলো ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান, স্বৈরতন্ত্রের আর ফিরে না আসার নিশ্চয়তা। এই গণআন্দোলন চেয়েছে, এই রাষ্ট্র হবে জনগণের জন্য বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, শান্তিপূর্ণ, মর্যাদাপূর্ণ, সার্বভৌম নতুন বাংলাদেশ। সেই আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ সব কথা বলেন তারা। বিবৃতিতে তারা অবিলম্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করে দেশে শান্তিশৃঙ্খলা, জনগণের নিরাপত্তা এবং দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার আহ্বান জানান।
সারা দেশে এই মুহূর্ত থেকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধের দাবি করে জোনায়েদ সাকি ও আবুল হাসান রুবেল বলেন, দেশজুড়ে অনেক সন্ত্রাস সহিংসতার ঘটনা ঘটতে দেখা যাচ্ছে। নানা দিক থেকে এসে ঘাপটি মেরে বসে থাকা সন্ত্রাসীরা সংখ্যালঘুদের ঘরবাড়ি লুটপাট করেছে, মন্দিরে হামলা করেছে এবং অনেক সরকারি স্থাপনায় ভাংচুর হয়েছে। এর ফলে অনেকে হতাহত হয়েছেন। এটা এই মুহূর্তে বন্ধ করার উদ্যোগ নিতে হবে। শিক্ষার্থী ও জনতার অভ্যুত্থানের মূল চালিকাশক্তি হলো ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে অবস্থান, স্বৈরতন্ত্রের আর ফিরে না আসার নিশ্চয়তা।
তারা বলেন, জাতির উদ্দেশে শিক্ষার্থী-জনতা যে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা বলেছেন, তা সামনের দিনের জাতীয় রূপরেখায় নির্দেশনা হিসেবে গণ্য হবে।
ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে দেশের কোনও সম্পদ যেন বিনষ্ট করা না হয় এবং কোনোভাবেই ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট না হয়, কোনও উপাসনালয়ে যাতে হামলা করা না হয়, সে জন্য সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালনের জোর আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।
তারা উল্লেখ করেন, সারা দেশে সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি রোধ করতে দেশের দায়িত্ব নিতে ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে পাড়ায় পাড়ায় দেশ রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠন করতে হবে। গণসংহতি আন্দোলনের নেতাকর্মীদের এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে ও ছাত্র জনতাকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।
নেতা আরও বলেন, গণআন্দোলনের সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে অতি দ্রুত শান্তিশৃঙ্খলা ফেরাতে আমরা সেনাবাহিনীসহ দেশের আন্দোলনরত জনতাকে ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানাই। অবিলম্বে সব হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং গ্রেফতার শিক্ষার্থী-জনতার মুক্তি দিতে হবে।
বিবৃতিতে বলা হয়, এক দফার আন্দোলনে শরিক হওয়া প্রত্যেকটি ছাত্র-জনতাকে আন্তরিক অভিনন্দন জানাই। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণ করে হাজার হাজার মানুষ গুলি খেয়েছেন, শত শত ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন। আমরা শহীদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং আহত ও নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।
সারা দেশে মানুষের জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি রোধে ছাত্র-জনতার সমন্বয়ে পাড়ায় পাড়ায় দেশ রক্ষায় স্বেচ্ছাসেবক কমিটি গঠনের আহ্বান জানান গণসংহতি আন্দোলনের দুই শীর্ষনেতা।








