জোট হলেও নতুন বন্দোবস্তের লড়াই অব্যাহত: নাহিদ ইসলাম

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট  
৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ১৮:৩৫আপডেট : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ২১:৪৭

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনে জোট গঠন করলেও নতুন বন্দোবস্ত বাস্তবায়নে তাদের লড়াই অব্যাহত রয়েছে। ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যে এনসিপির লক্ষ্য সংস্কার বাস্তবায়ন করা।

শুক্রবার (৩০ নভেম্বর) বিকালে রাজধানীর গুলশানের লেকশোর গ্র্যান্ড হোটেলে এনসিপির নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও কূটনীতিকরা অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দলটির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় ৩৬ দফা ইশতেহারের বিস্তারিত তুলে ধরা হয়।

নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপির জন্য এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। গণঅভ্যুত্থানের মতো পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে ২০২৪-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশে একটি নতুন রাজনৈতিক দল গঠিত হয়েছে। সেই দল একটি জোট প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছে। এখানে কিছু বিষয় আছে, যেগুলো পুরো এনসিপির যাত্রার সঙ্গে সম্পর্কিত। আমরা যখন জাতীয় নাগরিক পার্টি শুরু করি, তখন কিছু প্রতিশ্রুতি ও ঘোষণাপত্র দিয়ে শুরু করেছিলাম।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়েই আমাদের দলের নেতৃত্ব তৈরি হয়েছে। আমাদের চিন্তা ও আদর্শের জায়গাটাও তৈরি হয়েছে গণঅভ্যুত্থানের সঙ্গে সম্পর্কিতভাবে।

নাহিদ বলেন, আমরা আগস্টে শহীদ মিনারে স্পষ্টভাবে কয়েকটি কথা বলেছিলাম—ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিলোপ এবং একটি নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কথা। গত ১৬ বছরে এবং স্বাধীনতার পর গত ৫০ বছরে যে ব্যবস্থা তৈরি হয়েছে, তার কারণেই আমরা প্রকৃত গণতন্ত্রে পৌঁছাতে পারিনি।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, শেখ হাসিনার সময় বা বিগত রেজিম এই ব্যবস্থাকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল। এতে দেশের মানুষের ওপর ব্যাপক দমন-পীড়ন ও নির্যাতন হয়েছে। অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল, রাজনৈতিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছিল এবং জাতীয় মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছিল। জুলাইয়ের পরিস্থিতিতে সারা দেশের মানুষ রাজপথে নেমে সেই ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল। এই ব্যবস্থাকে বিলুপ্ত করে এমন একটি নতুন বন্দোবস্ত করতে হবে, যা স্বৈরতন্ত্রের পুনরাবৃত্তি রোধ করবে।

তিনি বলেন, এই বন্দোবস্ত গণতন্ত্র নিশ্চিত করবে, অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করবে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ নিশ্চিত করবে। আমাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষা করে জাতীয় মর্যাদা নিয়ে বিশ্বের বুকে দাঁড়ানোর সুযোগ তৈরি করবে। এটি ছিল আমাদের প্রাথমিক আকাঙ্ক্ষা। সেই জায়গা থেকে অন্তর্বর্তী সরকার ও গত দেড় বছরের নানা ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে আমরা আজকের অবস্থানে এসেছি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা জোট করার ফলে এই প্রশ্নটি অনেকবার এসেছে। পক্ষে-বিপক্ষে সমালোচনা ও আলোচনা হয়েছে। তবে আমরা আমাদের নতুন বন্দোবস্তের যে লড়াই ও দাবি নিয়ে শুরু করেছিলাম, এখনও সেই দাবিতেই আছি।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রথমত আমাদের লক্ষ্য ছিল সাংবিধানিক পরিবর্তন। আমরা নতুন সংবিধান চেয়েছিলাম। পরে সংস্কারের পর্যায়ে এসে কমিশনের মাধ্যমে একটি মধ্যস্থতা হয়। সেখানে আমরা আমাদের পরিপূর্ণ লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে পারিনি। নতুন বন্দোবস্তের আকাঙ্ক্ষাকে আমরা এখন দীর্ঘমেয়াদি লড়াই হিসেবে দেখি, যা দীর্ঘ যাত্রার মধ্য দিয়েই অর্জন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, আমরা অনেক সুযোগ মিস করেছি। তবে এই সময়ে অনেক সম্ভাবনা ও অর্জনও হয়েছে। সংস্কারের অনেক প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে, যা নির্বাচনে গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হবে। এরপর আমরা নতুন বন্দোবস্তের লড়াইয়ে এগোবো।

নাহিদ বলেন, জোট প্রসঙ্গে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন—পুরোনো দলের সঙ্গে যুক্ত হলে আমাদের নতুন বন্দোবস্তের লক্ষ্য থেকে সরে যাচ্ছি কিনা। আমরা স্পষ্ট করেছি, আমাদের জোট ন্যূনতম কিছু রাজনৈতিক জায়গায় ঐকমত্যের ভিত্তিতে গঠিত এবং এটি মূলত একটি নির্বাচনি জোট। এ জোটের নামও ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য। এই জোটের মধ্য দিয়েই আমরা সংস্কারের দাবিগুলো বাস্তবায়নের চেষ্টা করবো। সে কারণেই এনসিপির পক্ষ থেকে আলাদা ইশতেহার দেওয়া হয়েছে। জামায়াতে ইসলামীও তাদের ইশতেহার দিয়েছে।

ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে এনসিপি নেতৃবৃন্দ

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, গণঅভ্যুত্থানে ২৪-এর প্রজন্ম একটি নতুন প্রজন্ম হিসেবে বাংলাদেশে আবির্ভূত হয়েছে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে এই প্রজন্মকে কীভাবে কাজে লাগানো যায়, সেটাই আমাদের ভাবনা। তাই তারুণ্য আমাদের অন্যতম প্রধান এজেন্ডা। দ্বিতীয়টি হলো মর্যাদা বা ডিগনিটি। ফ্যাসিবাদের সময় নাগরিক অধিকার ও মর্যাদা বারবার ভূলুণ্ঠিত হয়েছে। মানুষের ন্যূনতম মানবাধিকার ও অর্থনৈতিক অধিকার আমরা গত ১৬ বছর পাইনি।

তিনি বলেন, নাগরিক হিসেবে মানুষের মানবাধিকার, অর্থনৈতিক অধিকার ও রাজনৈতিক অধিকার কীভাবে নিশ্চিত করা যায়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। পাশাপাশি জাতীয় মর্যাদা বৃদ্ধি করতে নিজেদের সক্ষমতা বাড়াতে হবে। আধিপত্যবাদ বিরোধিতা আমাদের স্লোগান। কিন্তু তার বাস্তবায়নের উপায় হলো নিজেদের অর্থনীতি ও রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করা। সেটাই জাতীয় মর্যাদা বাড়াবে।

নাহিদ আরও বলেন, তারুণ্য ও মর্যাদাকে প্রাধান্য দিয়ে পুরো ইশতেহার তৈরি করা হয়েছে। এটি সবকিছু কভার করে—এমন দাবি আমরা করছি না। তবে ১১ দলীয় জোট সরকার গঠন করলে, সরকার ও সংসদে আমরা কোন বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেবো, তা চিহ্নিত করা হয়েছে।

অনুষ্ঠানে এনসিপির মুখপাত্র ও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, দীর্ঘদিন ক্ষমতার দলীয়করণ রাষ্ট্রব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলেছে। আমাদের ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’-এর দাবি কোনও স্লোগান নয়; এটি একটি জবাবদিহিতামূলক ও উন্নয়নমূলক রাষ্ট্রের অঙ্গীকার। আধুনিক রাষ্ট্র গড়তে সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে এই ইশতেহার প্রস্তুত করা হয়েছে।

/এমকে/এম/এমওএফ/ 
সম্পর্কিত
‘পাটওয়ারীর ওপর হামলার জন্য মোড়ে মোড়ে অবস্থান নেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা’
হাদির প্রকৃত হত্যাকারীরা কোন রাজনৈতিক দলের, পরিচয় প্রকাশ করুন: নাসীরুদ্দীন
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর গাড়িবহরে হামলা-ডিম নিক্ষেপ, পুলিশ বলছে মিথ্যা 
সর্বশেষ খবর
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণ
শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণ
সেই কুমির ফেরত চান মাজারের খাদেম যুবদল নেতা
সেই কুমির ফেরত চান মাজারের খাদেম যুবদল নেতা
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী