ধর্মের ভিত্তিতে দেশে কোনও ধরনের বৈষম্য বা বিভক্তি চায় না বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। উভয় দলের প্রধানরা ধর্ম–বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কোনও বৈষম্য বা বিভক্তি ছাড়া বাংলাদেশ গড়তে চাওয়ার অভিব্যক্তি প্রকাশ করেছেন। তবে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা ইসলামের ইনসাফ চায়।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) দেশের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত নির্বাচনি জনসভায় সাধারণ মানুষের উদ্দেশে এসব কথা বলেন তারা।
ঠাকুরগাঁওয়ে দলীয় এক নির্বাচনি গণসমাবেশে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে ধর্মের ভিত্তিতে কেউ বৈষম্যের শিকার হবে না। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সব নাগরিক মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সমান সুযোগ পাবে। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে খেটে খাওয়া মানুষ, ব্যবসায়ী ও নারীরা নিরাপদে চলাচল ও জীবনযাপন করতে পারবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘মানুষ জীবন দিয়েছেন, বিগত সরকারের আমলে অত্যাচারিত ও নির্যাতিত হয়েছেন। তাদের এই ত্যাগ কোনোভাবেই বৃথা যেতে দেওয়া যাবে না। এবারের নির্বাচন শুধু প্রতিনিধি নির্বাচন নয়, এবারের নির্বাচন হবে দেশ পুনর্গঠনের নির্বাচন।’
হবিগঞ্জের এক জনসভায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশকে আমরা ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত হতে দেবো না। ধর্মের ভিত্তিতে বাড়াবাড়ি ইসলাম পছন্দ করে না। কোনও ধার্মিক মানুষ অন্য ধর্মের মানুষের ক্ষতি করতে পারে না—তার সাক্ষী বাংলাদেশের জনগণ। এ দেশে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—চারটি ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে বসবাস করে আসছেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা দেখে আসছি এ দেশে বংশানুক্রমে রাজার ছেলে রাজা হয়। আমরা সেই ধারা পাল্টে দিতে চাই। একজন সাধারণ শ্রমিকের সন্তান যদি মেধাবী হয়, তাহলে তার মেধার বিকাশ ঘটিয়ে আমরা চাই, সে হবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। সেই রাজনীতির ধারাই আমরা চালু করতে চাই। এখন তারা ভোটের সময় জনগণের কাছে আসে। তখন একেকজন দরবেশ–আউলিয়া হয়ে যান, বসন্তের কোকিলের মতো হাজির হন। উন্নয়নের ফিরিস্তি দিয়ে পদ্মা–মেঘনা–কুশিয়ারা নদী ভাসিয়ে দেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে আর তাদের খুঁজে পাওয়া যায় না।’
এদিকে পটুয়াখালীর এক দলীয় নির্বাচনি জনসভায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বলেন, ‘বিএনপি–জামায়াত কেউই বলেনি ইসলামভিত্তিক রাষ্ট্র পরিচালনা করবে। তারা বলেছে প্রচলিত ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্র চালাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ যারা দাঁড়িপাল্লা নিয়ে আসছে, তারা স্বার্থান্বেষী মহল। তারা বলে দাঁড়িপাল্লা ইনসাফের প্রতীক। কিন্তু কোন ইনসাফ? দাঁড়িপাল্লার দুই পাল্লা—এক পাল্লায় গোপনে আমেরিকা, আরেক পাল্লায় ভারত। আমরা বাংলাদেশের মানুষ। আমরা আমেরিকার ইনসাফ চাই না, ভারতের ইনসাফ চাই না—আমরা ইসলামের ইনসাফ চাই।’
অপরদিকে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা–১১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে লিভ টু আপিল করেছেন একই আসনের প্রার্থী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে রবিবার (ভোটের আগেই) এ আবেদনের শুনানি করার চেষ্টা থাকবে বলে জানিয়েছেন নাহিদ ইসলামের আইনজীবী।
এর আগে কাইয়ুমের প্রার্থিতার বৈধতা নিয়ে নাহিদের করা রিট ৩ ফেব্রুয়ারি সরাসরি খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। ওই আদেশের বিরুদ্ধে ৫ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় লিভ টু আপিল দায়ের করেন নাহিদ ইসলাম।









