গণতন্ত্রে তরুণ ও নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সম্প্রতি সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক নাগরিক ও গণতান্ত্রিক সম্পৃক্ততা’ শীর্ষক বিভাগীয় সংলাপের প্রথম আয়োজন হয় ঢাকায়। বাকি সাতটি বিভাগেও পর্যায়ক্রমে এ আয়োজন করা হবে।
জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের বাস্তবায়নে পরিচালিত ‘অ্যাহেড বাংলাদেশ’ প্রকল্পের আওতায় ‘একান্নর জাগরণ’ এর উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই সংলাপের আয়োজন করা হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে এতে সহায়তা করে ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এতে বলা হয়, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও অংশগ্রহণমূলক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে রাজনৈতিক দল, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ এবং তরুণ ও নারী নেতৃত্বের মধ্যে নিয়মিত সংলাপ জরুরি। এই প্রয়োজন থেকেই বিভাগীয় পর্যায়ে একটি নিরপেক্ষ ও কাঠামোবদ্ধ আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো, জাতীয় পর্যায়ের গণতান্ত্রিক অঙ্গীকারের সঙ্গে স্থানীয় বাস্তবতার সংযোগ তৈরি করা।
সংলাপে বিএনপির ইলেকশন অবজারভেশন কমিটির সদস্য ড. নাহরিন ইসলাম খান বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় আস্থা রক্ষার জন্য ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট প্রতিরোধ করা জরুরি। রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব হলো সঠিক তথ্যের চর্চা উৎসাহিত করা এবং নাগরিকদের সচেতন সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করা। নারীর অংশগ্রহণ কেবল প্রতীকী উপস্থিতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রতিটি স্তরে নারীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
সম্মিলিত নারী প্রয়াসের সেক্রেটারি এবং জামায়াতে ইসলামী নারী বিভাগের সদস্য ড. ফেরদৌস আরা খানম বলেন, নারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগে নিরাপত্তা ও চলাচলের স্বাধীনতা এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। পরিবার, সমাজ ও প্রতিষ্ঠান সব পক্ষের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমেই নারীরা যেন নিরাপদ ও নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেন সে পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, গণতন্ত্র টেকসই করতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি জোরদার করতে হবে। তরুণ ও নারীদের ক্ষমতায়ন তখনই অর্থবহ হবে যখন তারা নিরাপদভাবে মত প্রকাশ, তথ্যপ্রাপ্তি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ পাবে।
বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, গণতন্ত্রে অংশগ্রহণই সব। ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউরোপীয় পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসির সহযোগিতায় আয়োজিত এই বিভাগীয় সংলাপগুলো নারী ও তরুণদের বিশেষ করে নতুন ভোটারদের উৎসাহিত করছে।
জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার কামরুল কিবরিয়া অয়ন বলেন, অ্যাহেড বাংলাদেশ প্রকল্পের মাধ্যমে আমরা সংলাপের একটি নির্ভরযোগ্য প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে চাই; যেখানে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও তরুণরা একসঙ্গে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ নিয়ে কথা বলবে। এ ধরনের সংলাপই ভবিষ্যৎ নাগরিক ও ভোটার শিক্ষা কার্যক্রমকে আরও প্রাসঙ্গিক ও কার্যকর করে তুলবে।
অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন সরকারি কর্মকর্তা, নাগরিক সমাজ সংগঠন, নারী নেত্রী ও তরুণ প্রতিনিধিরা।









