পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বাংলাদেশের হেড কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। বৃহস্পতিবার ক্রীড়াঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল এটি। আর এ নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনকে। হেড কোচ চলে যাওয়ার খবরে শুধু অবাকই হননি তিনি। জানালেন দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের পর থেকেই চুপচাপ ছিলেন শ্রীলঙ্কান এই কোচ। হয়তো কয়েকজনের আচরণে কষ্ট পেয়েই এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকতে পারেন হাথুরুসিংহে, ‘দুই-একজন ক্রিকেটারের কথা হয়তো তাকে কষ্ট দিয়েছে। আমি জানি না কী হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকায়তো ছিলাম না। এখন ও যদি মনে করে আমার কথা শুনছে না, তাহলে এই দল আমি চালাবো কেন? এটা একটা কারণ হতে পারে।’
এছাড়া ব্যক্তিগত কারণকেও নাকোচ করছেন না তিনি। মনে করছেন এই সিদ্ধান্তে জড়িয়ে আছে আবেগঘন কিছু, ‘আসলে একটু অবাকই হচ্ছি। এটাতে মনে হচ্ছে, আবেগঘন বিষয় আছে। এতদিন ওকে আবেগ ছাড়া মনে হতো। কিন্তু যেহেতু আমার সঙ্গেও কথা বললো না বা জানালো না। তাই মনে হচ্ছে এবার এমন একটা কিছু হয়েছে, যেটা নিয়ে আর কথাই বলতে চাচ্ছে না।’
কোচ হাথুরুসিংহের চুক্তি ছিল আগামী ২০১৯ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। এই অবস্থায় বিসিবির পরিকল্পনায় বড় ধাক্কা হয়েই এসেছে হাথুরুসিংহের পদত্যাগের খবর, ‘ধাক্কা কিনা জানি না। ক্রিকেটারদেরও অনেকে খুশি হবে, অনেকে বলবে ক্ষতি হয়ে যাচ্ছে। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আমাদের একটা পরিকল্পনা ছিল। সেটি বাধাগ্রস্ত হবে তো বটেই।
গণমাধ্যমে নিজের নেতিবাচক উপস্থাপনায় উদ্বিগ্ন ছিলেন হাথুরুসিংহে। এনিয়ে বিসিবি সভাপতির সঙ্গেও কথা বলেছিলেন হাথুরুসিংহে, ‘এমনিতে সবসময় বলতো- খেলোয়াড়রা যেসব কথা বলে, সেগুলো কেন বলে? এই প্রশ্ন তো আমাকে সবসময় করতো। আমি ওকে নিয়ে কয়েকবার খেলোয়াড়দের সামনেও বসেছি। সে বলতো এসব বলে কেন? এসব তো মিথ্যা!’
পদত্যাগপত্র নিয়ে হাথুরুসিংহের সঙ্গে কথা হয়নি বিসিবি সভাপতির। তবে আশা করছেন এই মাসেই হয়তো যোগাযোগ করতে পারবেন তিনি, ‘আমার ধারণা, এই মাসেই যোগাযোগ হবে। কথা বলেই ঠিক করবো। অনেক সময় আবেগপ্রবণ হয়ে মানুষ চিঠি পাঠিয়ে দেয়। আমার মনে হয়, এই সিরিজে গিয়ে সে মনে কষ্ট পেয়েছে। কিসের জন্য আমি ঠিক জানি না। কথা না বলা পর্যন্ত বলা মুশকিল।’
এই অবস্থায় হাথুরুসিংহে না থাকলে বিসিবির পদক্ষেপ কী হবে এমন প্রশ্নে নাজমুল হাসান পাপনের উত্তর, ‘না থাকলে আরেকটা কোচ নিতে হবে। আর শুধু নিলেই তো হবে না। আরেকজনকে পেতে হবে। ভালো মানের পাওয়া যায় কিনা দেখতে হবে। সেক্ষেত্রে বিদেশি কাউকে না পেলে স্থানীয় কোচ থাকতেই পারে। তবে তাদের স্থায়ীভাবে রাখার সুযোগ নেই।’








