দীর্ঘ আট বছর পর বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের আয়োজক। আগামী ১৫ জানুয়ারি মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে শুরু হতে যাওয়া এই প্রতিযোগিতায় স্বাগতিকদের দুই প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা ও জিম্বাবুয়ে। তামিম, মাহমুদউল্লাহ, মাশরাফি, সুজনের পর নিজেদেরকে এগিয়ে রাখলেন সাকিবও।
২০১০ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নিয়েছিল শ্রীলঙ্কা ও ভারত। সেই টুর্নামেন্টে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বে চার ম্যাচের চারটিতেই হার মেনেছিল বাংলাদেশ। তবে এবার স্বাগতিকদের নিয়ে সাকিব আশাবাদী, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। আমার তো মনে হয় আমাদের খুব ভালো সম্ভাবনাই আছে। কিন্তু দুইটা দলই ভালো। দুটি দলই আমাদের খেলোয়াড় এবং কন্ডিশন সম্পর্কে ভালো জানে। তাই আমার মনে হয় কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতায় পড়তে হবে। তবে যেহেতু আমরা অনেক ভালো একটা দলে পরিণত হয়েছি। সেই হিসেবে আমাদের ভালো করার সম্ভাবনাই অনেক বেশি।’
হাথুরুসিংহের বিদায়ের পর বিসিবি নতুন কোচ নিয়োগ দেয়নি। খালেদ মাহমুদ সুজন টেকনিক্যাল ডিরেক্টরের পদ নিয়েই কোচিংয়ের কাজটা চালিয়ে নিচ্ছেন। এছাড়া ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি এবং টেস্ট ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিবকে কোচের অবর্তমানে বাড়তি দায়িত্ব নিয়েই খেলতে হবে। বোর্ড সভাপতি কয়েকদিন আগে ত্রিদেশীয় সিরিজ ও শ্রীলঙ্কা সিরিজের জন্য ‘কোচ’ হিসেবে এই দুই অধিনায়কের কথাই বলেছেন। সাকিবকে এই বিষয়টি মনে করিয়ে দিতেই তিনি বললেন, ‘সবাই সবার দায়িত্ব সম্পর্কে খুব ভালো করেই জানে। সবাই সবার কাজটা ঠিকমতো করলে আমরা সাফল্য পাবো। যেহেতু আমরা অধিনায়ক, স্বাভাবিকভাবেই আমাদের ওপর একটি বেশি দায়িত্ব থাকে। তাই সেগুলো আমরা করতে প্রস্তুত।’
বৃহস্পতিবার মিরপুরের সেন্টার উইকেটে বাংলাদেশ দল অনুশীলন করেছে। খালেদ মাহমুদ সুজনের তত্ত্বাবধানে মুশফিক-তামিম-মাহমুদউল্লাহ অনেকক্ষণ ব্যাটিং করেছেন। সাকিব-মাশরাফি বোলিংয়ের ওপরই জোর দিলেন বেশি। আরও কয়েকদিন টাইগাররা সেন্টার উইকেটে অনুশীলন করবে। অনুশীলন শেষে সাকিব দল নির্বাচনের প্রক্রিয়া নিয়ে জানতে চাইলে বলেন, ‘দল নির্বাচনের আগ পর্যন্ত এ আলোচনা প্রতিদিনই হতে থাকে। একটা দুইটা জায়গা নিয়ে সবসময়ই আলোচনা হয়।’
উইকেট কেমন হবে বিষয়টি নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবছেন না সাকিব। নিজেদের খেলাটার দিকেই বরং মনোযোগ টেস্ট ক্রিকেটে দায়িত্ব পাওয়া এই ক্রিকেটারের, ‘পিচ কেমন হবে, আবহাওয়া কেমন থাকবে-এসব আসলে চিন্তার বিষয় হওয়া উচিৎ না। যেটা হবে দুই দলের জন্য একই থাকবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ভালো খেলতে হবে। আমাদের ফোকাস থাকবে দল হিসেবে ভালো খেলা।’
২০১১ সাল থেকে কলকাতা নাইট রাইডার্সের হয়ে আইপিএলে খেলছেন সাকিব। নাইট রাইডার্সের জার্সিতে ৪৩ ম্যাচ খেলে দুটি হাফসেঞ্চুরিসহ ৪৯৮ রান করেছেন। ছিল ৪৩টি উইকেট। এবার কলকাতা ধরে না রাখলেও টি-টোয়েন্টির সেরা অলরাউন্ডারের ঠিকানা হতে পারে অন্য কোনও দল। সেটা জানতে অপেক্ষা করতে হবে ২৮ জানুয়ারি পর্যন্ত। এ ব্যাপারে কী ভাবছেন সাকিব? জানতে চাইলে সাকিব বলেছেন, ‘এখানে কেমন লাগার কোনও বিষয় নেই। নিলামে নাম থাকবে। যদি কেউ পিক করে তাহলে ভালো। আর না করলে কোনও ব্যাপার না।’








