চন্ডিকা হাথুরুসিংহে কোচ থাকা অবস্থায় গত তিন বছরে সাদা পোশাকে ব্রাত্যই ছিলেন মুমিনুল হক। এমনকি তাকে শ্রীলঙ্কাতে শততম টেস্টের একাদশ থেকে বাদ দেওয়ার পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঘরের মাঠে টেস্টেও রাখতে চাননি সাবেক কোচ। কিন্তু বুধবার ১৭৬ রানের ইনিংস খেলে সাবেক কোচকে ভালোভাবেই জবাব দিলেন মুমিনুল। বুনো উল্লাস করে হয়তো এও বলতে চাইলেন-‘পকেট ডায়নামো’ কখনও ফেলনা নয়!
শান্ত স্বভাবের মুমিনুল বড় প্রাপ্তিতে সব সময়ই আবেগ ধরে রাখতে পছন্দ করেন। কিন্তু চট্টগ্রামে যেন নতুন মুমিনুল খোলস ছেড়ে বের হয়ে এলেন। ৯৬ বলে সেঞ্চুরি ছোঁয়ার সঙ্গে সঙ্গে বুনো উল্লাসে মেতে উঠেন। ক্রিজ থেকে দৌড়ে যেতে চাচ্ছিলেন শ্রীলঙ্কার ড্রেসিংরুমের দিকেই! শেষ পর্যন্ত নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করে বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমের দিকে ফিরে মুষ্টিবদ্ধ হাতে বাতাসে ঘুষি ছুড়ে মারছিলেন। অনেকেই ধরে নিয়েছেন আগ্রাসী এমন আচরণটা ছিল হাথুরুসিংহেকে উদ্দেশ্য করেই! কিন্তু মুমিনুল স্বীকার করলেন না সে কথা। সংবাদ সম্মেলনে ব্যাখ্যায় বললেন, ‘বিশেষ কোনও কারণ নেই। আপনারা যা মনে করছেন, বিষয়টি তেমন নয়। অনেকদিন সেঞ্চুরি করতে পারছিলাম না। তাই নিজের মধ্যে চ্যালেঞ্জ ছিল। সেঞ্চুরি পেয়ে ভালো লেগেছে বলেই এমন উদযাপন!’
বুধবার ১৭৫ রানে অপরাজিত থেকে দিন শেষ করেন মুমিনুল। কিন্তু বৃহস্পতিবার মাত্র এক রান যোগ করেই ফেরেন সাজঘরে।
এর আগে ২০১৩ সালে চট্টগ্রামেই ১৮১ রান করে আউট হয়েছিলেন। সেবারের আক্ষেপটা দূর করার সুযোগ ছিল এবার। কিন্তু ১৭৬ রানে হেরাথের বলে উইকেট কিপার মেন্ডিসকে ক্যাচ দিলে দারুণ একটি ইনিংসের অপমৃত্যু ঘটে। তবে একে ভিন্নভাবে দেখছেন মুমিনুল, ‘দুর্ভাগ্য বলবো না। আমি একটু বেশি মাত্রায় সাধারণ ছিলাম। তবে প্রথম সেশনটা পার হতে পারলে ২০০ হয়ে যেত।’
২০১৪ সালের নভেম্বরে চট্টগ্রামেই সর্বশেষ সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন মুমিনুল হক। তিন বছর পর চট্টগ্রাম টেস্টের দ্বিতীয় দিনে ক্যারিয়ারের পঞ্চম সেঞ্চুরির মুখ দেখলেন নিজ বিভাগেই। এর আগে বেশ কয়েকটি হাফসেঞ্চুরি পেলেও ইনিংসগুলোকে বড় করতে পারছিলেন না। মুমিনুল মনে করেন সবার সমর্থনের কারণেই বড় ইনিংস খেলতে পেরেছেন, ‘বাড়তি কিছু করিনি। আগে ৬০ থেকে ৭০ রানের মধ্যে আউট হচ্ছিলাম। ইনিংসগুলো বড় করা নিয়ে আমার নিজের কাছেই চ্যালেঞ্জ ছিল। দলের সবাই সমর্থন দিয়েছে, আপনারাও সমর্থন দিয়েছেন।’








