বাংলাদেশের হয়ে টানা দুই ইনিংসে টেস্ট সেঞ্চুরির কীর্তি ছিল না কারও। টেস্ট স্পেশালিস্ট হিসেবে তকমা পাওয়া মুমিনুল রবিবার সেই আক্ষেপটা পূরণ করে দিয়েছেন অবশেষে। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দুই ইনিংসে সেঞ্চুরি করে প্রথম স্লিপে ধরা পড়েছেন মুমিনুল। মুমিনুলের পর নড়বড়ে নব্বইয়ের শিকার হয়েছেন লিটন দাস। দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশের সংগ্রহ ৫ উইকেটে ২৭৯ রান। বাংলাদেশের লিড ৮০ রান।
মুমিনুল ফিরেছেন ১০৫ রানে। তার দায়িত্বশীল ১৭৪ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও দুটি ছয়। অপর দিকে ৯৪ রানে ক্রিজে থাকা লিটন রঙ্গনা হেরাথের বলে ছয় মেরে পূরণ করতে চেয়েছিলেন সেঞ্চুরি। মিড অফে তার ক্যাচ লুফে নিতে ভুল করেননি দিলুরুয়ান পেরেরা। তার ১৮২ বলের ইনিংসে ছিল ১১টি চার। ক্রিজে আছেন মাহমুদউল্লাহ ও মোসাদ্দেক।
আগের দিন হতাশায় মোড়ানো ছিল বাংলাদেশের। টেস্টের ফল নিয়ে চিন্তিত বাংলাদেশের শেষ দিন ভিন্ন ইতিহাস রচনার প্রয়োজন ছিল। সেটা করে দিয়ে গেছেন মুমিনুল হক। এক সময় ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কায় থাকা বাংলাদেশকে লিডের ভিত্তি গড়ে দিয়েছেন মুমিনুল। আর সেই ভিত্তি গড়তে রেকর্ডবুকটাও নতুন করে লিখেছেন। টানা দুই ইনিংসে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়া ছাড়াও এখন এক টেস্টে সর্বাধিক রানের মালিক এখন মুমিনুল।
এমন ঐতিহাসিক দিনে প্রথম সেশনটা দাপটের সঙ্গে শেষ করেন মুমিনুল হক ও লিটন দাস জুটি। মধ্যাহ্নভোজনের পর ক্যারিয়ারের তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন লিটন দাস। দাপটের সঙ্গে প্রথম সেশন পার করা জুটি ২৮.১ ওভারে বিনা উইকেটে করে ১০৬ রান।
এর আগে সকালটা ৩ উইকেটে ৮১ রান নিয়ে শুরু করে বাংলাদেশ। পঞ্চম ও শেষ দিন বলেই শুরুটা দেখে শুনে করেছিলেন আগের ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান মুমিনুল হক ও লিটন দাস। ধীরে ধীরে প্রতিরোধের দেয়াল লম্বা করতে থাকে এই জুটি। প্রথম সেশনে এই জুটিতে আসে ১০৬ রান। এরপর দ্বিতীয় সেশনে ১৮০ রানের এই বিশাল জুটি ভেঙে দেন ধনঞ্জয়া ডি সিলভা। ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ সেঞ্চুরি তুলে নেওয়া মুমিনুলকে ফেরান সাজঘরে।
৪৮তম ওভারে আচমকা হেলমেটে আঘাত পেয়েছিলেন মুমিনুল। কুমারার শর্ট বল ঠিকমতো বুঝতে পারেননি। বল এসে লাগে হেলমেটে। অবশ্য তেমন কোনও বিপদের মধ্যে পড়তে হয়নি তাকে। এরপরেই এক টেস্টে সর্বাধিক রানের রেকর্ড নিজের করে নেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।
২৩১ রান করে এক টেস্টে সর্বাধিক রান নিয়ে এতদিন শীর্ষে ছিলেন তামিম ইকবাল। পাকিস্তানের বিপক্ষে ২০১৫ সালে এই রেকর্ড গড়েছিলেন। এবার শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তামিমকে টপকে শীর্ষে চলে এসেছেন মুমিনুল।








