ইতোমধ্যে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন রাজশাহীর বাঁহাতি ব্যাটসম্যান নাজমুল হোসেন শান্ত। স্ট্রোকের ভাণ্ডার আর বড় ইনিংস খেলার দক্ষতা দেখিয়েছেন। যুবাদের ২০১৬ বিশ্বকাপে তার ব্যাটে ভর করেই তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল বাংলাদেশ।
আগামী দিনে বাংলাদেশের টপ অর্ডারের জন্য দারুণ এক সম্পদ হয়ে উঠতে পারেন নাজমুল হোসেন শান্ত। প্রিমিয়ার লিগে চার সেঞ্চুরিতে লিগের সর্বোচ্চ সংগ্রাহক আবাহনীর নাজমুল হোসেন। তাই ১৬ ম্যাচে ৫৭.৬১ গড়ে ৭৪৯ রান করা এই ব্যাটসম্যানকে লম্বা রেসের ঘোড়া হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন মাশরাফি।
বৃহস্পতিবার আবাহনীর শিরোপাজয়ী ম্যাচে শান্তর অবদান ১১৩ রান। পুরো লিগে শান্তর পারফরম্যান্স কি জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার মতো? এমন প্রশ্নের জবাবে এখনোই শান্তকে জাতীয় দলে দেখতে চান না বলে জানালেন ওয়ানডে অধিনায়ক। যদিও ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচয় ঘটেছে শান্তর। বেশ কয়েকজনের ইনজুরিতে গত বছর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ টেস্টেও মাঠে নামতে বাধ্য হয়েছিলেন।
তারপরও এক টেস্টের অভিজ্ঞতা থাকা শান্তকে জাতীয় দলে দেখতে আরও অপেক্ষা করতে চান ওয়ানডে অধিনায়ক। বৃহস্পতিবার ম্যাচ শেষে মাশরাফি বলেছেন, ‘শান্তকে জাতীয় দলে নিয়মিতভাবে চিন্তা করলে সেটা খুব দ্রুত ভাবা হয়ে যাবে। এতো দ্রুত সুযোগ পেলে আমাদের প্রত্যাশাটা পূরণ নাও হতে পারে। আমি নিশ্চিত শান্ত লম্বা রেসের ঘোড়া।’
শান্তর পারফরম্যান্স নজর এড়ায়নি মাশরাফির। তার দৃষ্টিতে, ‘বিপিএলে ও মোটামুটি পারফরম্যান্স করেছে। ঘরোয়া ক্রিকেটেও নিয়মিত পারফরম্যান্স করছে। এই লিগে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হিসেবে নিজেকে তৈরি করা বাকি। এখান থেকে যেন আরেক ধাপ এগিয়ে মানিয়ে নিতে পারে। তেমনভাবেই প্রস্তুত হতে হবে। যাতে দীর্ঘদিন দেশকে সেবা দিতে পারে। স্বপ্নটা যেন ছোট না হয়।’
লিগে আর কারও পারফরম্যান্স কি আপনার চোখে লেগেছে? এমন প্রশ্নে মাশরাফির উত্তর, ‘অনেক খেলোয়াড় আছে। আমাদের দলে শান্ত আছে, বিজয় অসাধারণ খেলেছে। মিঠুন কয়েকটা ম্যাচে ভালো করেছে। সাইফ ভালো করেছে, কিন্তু টিম কম্বিনেশনের কারণে হয়তো শেষ কয়েকটা ম্যাচে খেলতে পারেনি। অন্য দলগুলোতে বেশ কিছু খেলোয়াড় আছে। সামনে ‘এ’ টিম কিংবা এইচপি দলে সুযোগ পেয়ে নিজেদের প্রমাণ করবে।’
গত কিছুদিন ধরে ফর্মটা ভালো যাচ্ছে না মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও তাসকিন আহমেদের। মোসদ্দেক ১৫ ম্যাচে ২৪.৩০ গড়ে করেছেন ২৪৩ রান। অন্যদিকে তাসকিন ৯ ম্যাচে নিয়েছেন ১৬টি উইকেট। মাশরাফি অবশ্য তাদের নিয়ে ধৈর্য্য ধরার আহবান জানালেন, ‘ক্রিকেটাদের খারাপ সময় যায়। এটা নিয়ে হতাশ হওয়ার কারণ নেই। গত কয়েকমাস তাসকিনের চোট যাচ্ছে। মোসাদ্দেকও চোখের একটা সমস্যা কাটিয়ে আসছে। যেটা মোস্তাফিজের সঙ্গে হয়েছিল। মোস্তাফিজ আস্তে আস্তে পুরনো রুপে ফিরছে। আমাদের ধৈর্য্য রেখে ওদের একটু সময় দিতে হবে। আশা করি ওরা ফর্মে ফিরবে।’








