ছেলেদের ফুটবল যেমনই হোক, মেয়েদের ফুটবলে ইদানীং বাংলাদেশের সাফল্য ঈর্ষণীয়। গত ডিসেম্বরে সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ ফুটবলে শক্তিশালী ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশ পেয়েছিল শিরোপার মধুর স্বাদ। শুধু দলীয় সাফল্য নয়, ব্যক্তিগত পর্যায়েও অর্জনে ভাস্বর নারী ফুটবলাররা। সাফল্য আর অর্জনে সবচেয়ে এগিয়ে সাবিনা খাতুন। দেশসেরা স্ট্রাইকার সম্প্রতি ভারতের মাটিতে উড়িয়েছেন বিজয় নিশান।
ভারতের আগে মালদ্বীপেও খেলেছিলেন সাবিনা। তবে ভারতেই তার পারফরম্যান্সে মুগ্ধ দেশের ফুটবলাঙ্গন। তামিলনাড়ুর সেথু এফসির হয়ে ভারতীয় মহিলা লিগের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত খেলেছেন। দলের ১১ গোলের মধ্যে ছয়টিই বাংলাদেশ অধিনায়কের! সাবিনার গোল মানেই দলের জয় এমন কথাও চালু হয়ে যায় সেথু এফসিতে।
অবশ্য ভারত যাত্রা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা ছিল। ভিসা জটিলতায় লিগ শুরুর আগের দিনও সাবিনা জানতেন না, ভারতে যেতে পারবেন কিনা। তবে ভিসা পেয়ে প্রতিবেশী দেশে পা রাখার পর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বল পায়ে আলো ছড়িয়ে দলকে নিয়ে গেছেন সেমিফাইনালে। ভালো খেলার ব্যাপারে সাবিনার অবশ্য যথেষ্ট আত্মবিশ্বাস ছিল, ‘আমার নিজের ওপর আস্থা ছিল। তাই ভারতে যেতে দেরি হলেও আশা হারাইনি, হতোদ্যম হইনি। লিগের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। শুধু নিজের কথা নয়, দেশের সম্মানের কথা সব সময় চিন্তা করেছি। আমার এবারের পারফরম্যান্সে শুধু ভারত নয়, অন্য দেশেও বাংলাদেশের মেয়েদের খেলতে যাওয়ার সম্ভাবনা উজ্জ্বল হলো।’
সাবিনাকে নিয়ে কম হৈচৈ হয়নি ভারতে। দেশটির সংবাদ মাধ্যমে তাকে নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ভারতীয় লিগে বাংলাদেশের একটি মেয়ের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স অবাক করেছে অনেককেই। কারণ ভারতের সেরা ফুটবলারদের পাশাপাশি আফ্রিকার খেলোয়াড়রাও ছিলেন এই লিগে। ভারতে নারী ফুটবলের সূচনা প্রায় ৫০ বছর আগে। আর বাংলাদেশের মেয়েরা প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলছে কয়েক বছর ধরে। এমন অসম অবস্থান থেকে নিজেকে এতটা উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া সোজা কথা নয়!
সাবিনার খেলা মুগ্ধ করেছে তানভি হ্যান্সকেও। ইংলিশ লিগে খেলার অভিজ্ঞতা থাকলেও সাবিনার জন্য তেমন মাঠে নামার সুযোগ পাননি। তবু হ্যান্সের মনে কোনও ক্ষোভ নেই। বাংলাদেশি স্ট্রাইকারের উদ্দেশে তার দরাজ সার্টিফিকেট, ‘সাবিনা ভালো খেলোয়াড়, সুযোগ পেলে ইংলিশ লিগে খেলতে পারবে।’
শুধু ইংল্যান্ড নয়, সাবিনার স্বপ্নের পরিধি আরও বড়। তার স্বপ্ন বিশ্বকাপ ঘিরে, ‘বাংলাদেশের মহিলা ফুটবল যে এগিয়ে যাচ্ছে, তা প্রমাণিত। এখন দরকার নিবিড় পরিচর্যা আর পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা, নিয়মিত ঘরোয়া লিগ আয়োজন। তাহলে ভবিষ্যতে বিশ্বকাপেও খেলতে পারবো আমরা। সেদিন হয়তো বেশি দূরে নয়।’








