এক ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজ জেতার সুবর্ণ সুযোগ, কিন্তু মুঠোর ভেতর থাকা সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলো না বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার শেষ ওভারে অবিশ্বাস্যভাবে হেরেছে সফরকারীরা। পরিকল্পনার অভাবে জিততে যাওয়া ম্যাচ হাতছাড়া হওয়াতে হতাশ অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা। তিনি মনে করছেন, ভুল থেকে শিখতে পারছে না দল।
২০১২ ও ২০১৬ এশিয়া কাপের ফাইনাল, ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের কাছে হার। এছাড়া চলতি বছর নিদাহাস ট্রফিতে ভারতের বিপক্ষে ফাইনালে হার। সবগুলো ম্যাচেই তীরে এসে তরী ডুবেছে বাংলাদেশের। শেষ ওভারের জুজু যেন কাটছেই না। তাতে হতাশা ঝরেছে অধিনায়ক মাশরাফির কণ্ঠে, ‘এই ধরনের ম্যাচ হারা সব সময়ই হতাশার। শেষ ১৩ বলে ১৪ রান লাগবে, তখন ৬ উইকেট হাতে। সেখান থেকে ম্যাচ হারার কথা নয়।’
মাশরাফির কণ্ঠে বেশি হতাশা একই ভুল বার বার হওয়াতে। ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ ওভারে হেরে যাওয়া ম্যাচটির দায় কিছুটা হলেও মুশফিক-মাহমুদউল্লাহর কাঁধে পড়ছে। বৃহস্পতিবারও এই দুইজনের জুটির ওপর ভর করে বাংলাদেশ জয়ের বন্দরে প্রায় পৌঁছে গিয়েছিল। শেষ ওভারে জেসন হোল্ডারের করা ফুলটস বলটা ডিপ মিড-উইকেট অঞ্চলে পাঠালেও বাউন্ডারি পার করতে পারেননি মুশফিক। তাতে কিমো পলের হাতে ধরা পড়ে দুই বছর আগে বেঙ্গালুরুতে ঘটে যাওয়া নাটকেরেই পুনরাবৃত্তি হলো। এমন একই ভুল বার বার হওয়াতে মাশরাফি ভুল থেকে না শেখার প্রবৃত্তিকেই তুলে আনলেন সামনে, ‘এমন না যে এটা প্রথমবার হলো। সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কয়েকবার আমরা এভাবে ম্যাচ হেরেছি। আর এটাই সবচেয়ে বেশি হতাশার। আমরা বারবার ভুল থেকে হয়ত শিখছি না। সহজেই শেষ করা উচিত ছিল এই ম্যাচ।’
বিষয়টি কৌশলের অভাব নাকি মানসিক দুর্বলতার প্রভাব সেটা নিজেও বুঝতে পারছেন না মাশরাফি, ‘বিষয়টা আসলে কৌশলগত নাকি মানসিক সেটা আসলে ব্যাখ্যা করা কঠিন। এমন যদি হতো যে ১২ বলে ২০ রান লাগবে, অন্য কথা ছিল। কিন্তু ১৩ বলে যখন ১৪ লাগবে, তখন কৌশল বা মানসিক দুর্বলতা সেটা বলা কঠিন।’
মাশরাফি মনে করেন নড়বড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে সিঙ্গেল নিয়ে হলেও ম্যাচটা জেতা জেত, ‘সত্যিকার অর্থে বললে, আমরা এই ধরনের ভুল বারবার করছি। একই পরিস্থিতিতে হয়ত নার্ভ আরও সহজ রাখা যেত। বল প্রতি রান দরকার ছিল। এক এক করে রান নিয়েই শেষ করা যেত, যেটা আমরা করতে পারিনি।’
ম্যাচ হারের পেছনে ছোট ছোট অনেক কারণ থাকলেও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের রান আউটকে আলাদা করে সামনে আনলেন মাশরাফি। সেই সঙ্গে সাব্বিরের শট সীমানা পেরিয়ে যেতে না পারায় হতাশা আরও বেশি গ্রাস করেছে অধিনায়ককে, ‘সুযোগতো শেষ বল পর্যন্তই ছিল। এই ধরনের ম্যাচে আসলে কোথায় আমরা হেরে গেছি, এমনটা বলা কঠিন। তারপরও রিয়াদের রান আউটটা না হলে হয়তোবা আরও আগে আমরা ম্যাচ জিততাম। রুম্মনের (সাব্বির রহমান) শটটা ছক্কাও হতে পারতো। তবে কারণ যাই হোক না কেন, এমন ম্যাচে হার সত্যিই হতাশাজনক।’








