পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ জেতার দিনেই আঘাত প্রাপ্ত হয়েছেন অধিনায়ক মাশরাফি। দ্বিতীয় ইনিংসে সুপার ম্যানের মতো দর্শনীয় এক ক্যাচ লুফে নিয়েছিলেন। আপাতদৃষ্টিতে এমন ক্যাচে চোখ জুড়িয়ে গেলেও এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে আছে মাশরাফির অস্ফুট বেদনার ইতিহাস। দুর্দান্ত সেই ক্যাচে আঘাত প্রাপ্ত হয়েও খেলা চালিয়ে গেছেন সেবা নিয়ে। ব্যথায় তার অস্বস্তিতে ভোগার দৃশ্যটি চোখ এড়ায়নি কারো। সেই ব্যথা নিয়েই এশিয়া কাপের ফাইনালে খেলবেন বাংলাদেশ ওয়ানডে অধিনায়ক। ইতোমধ্যে চোটের তালিকা দীর্ঘ হয়েছে বাংলাদেশের। ভারতের বিপক্ষে সাকিব-তামিমহীন ফাইনাল ম্যাচটি তাই কোন ভাবে মিস করতে চান না বাংলাদেশের সেরা এই পেসার।
মাশরাফি যেন এক পরশ পাথর। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ একের পর এক সাফল্য পাচ্ছে। সবশেষ বুধবার পাকিস্তানকে হারিয়ে দলকে নিয়ে গেছেন আরেকটি ফাইনালে। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে শোয়েব মালিকের দুর্দান্ত সেই ক্যাচ না নিলে হয়তো ফাইনালে যাওয়া হতো না টাইগারদের। বুধবার তিন বিভাগে আলো ছড়িয়েছে তার অধীনেই। ইনিংসের শেষ দিকে ব্যাট হাতে ১৩ রানের কার্যকর ইনিংসের পর বল হাতেও ছিলেন কার্যকরী। উইকেটশূন্য ছিলেন, ৭ ওভারে মেডেনসহ গড়ে ৪.৭৫ রান দিয়েছেন।
তবে সব ছাপিয়ে দারুণ এক ক্যাচে ম্যাচের মহানায়ক হয়ে উঠেন তিনি। ডাইভ দিয়ে সুপার ম্যানের মতো শোয়েব মালিকের ক্যাচটা নিয়ে নিয়েছেন অনায়াসে। রুবেল হোসেনের বলে শট মিড উইকেটে মাশরাফির সেই ক্যাচেই ফিরতে হয় শোয়েবকে। এমন ক্যাচে মাশরাফি ডান হাতের কনিষ্ঠ আঙুলে চোট পেয়েছেন। ফাইনানের আগের দিনও আঙুলে ব্যথা অনুভব করছেন। চোটগ্রস্ত আঙুলটি ফুলে গেছে তার।
বৃহস্পতিবার টিম হোটেলে আঙুলে ব্যান্ডেজ বাঁধা বাংলাদেশ অধিনায়কের দেখা মিললে জানালেন ব্যথার তীব্রতার কথা। তবে শুক্রবার ভারতের বিপক্ষে ব্যথানাশক নিয়েই মাঠে নামার কথা জানালেন। এমনকি ইনজুরির অবস্থা জানতে এক্সরেও করেননি। স্ক্যান কিংবা এক্সরে করালে মনের মধ্যে প্রভাব পড়বে বলেই মাশরাফির এমন সিদ্ধান্ত। সেই চোট নিয়ে মাশরাফির কথা, ‘ক্যাচটি বাঁহাতে জমে যাওয়ার আগে ডান হাতের আঙুলে লাগে। এ কারণেই ব্যথাটা পেয়েছি। ফিজিও আঙুল দেখে বলেছেন, ছোটখাট চিড় থাকতে পারে। স্ক্যান করালে হয়ত বোঝা যাবে। এই মুহূর্তে আমি এটা নিয়ে ভাবছি না। ফাইনাল খেলতে হবে। আপাতত মাথায় এটাই আছে।’








