জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম ওয়ানডেতে বোলিং-ফিল্ডিং ভালো হলেও ব্যাটিং ততটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। যদিও ইমরুলের সেঞ্চুরি (১৪৪) এবং সাইফউদ্দিনের দায়িত্বশীল ব্যাটিং (৫০) বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডকে করে সমৃদ্ধ। চট্টগ্রামের ব্যাটিং স্বর্গে দ্বিতীয় ম্যাচে মাশরাফি ব্যাটসম্যানদের কাছে আরও দায়িত্বশীল পারফরম্যান্স আশা করছেন।
প্রায় দুই বছর পর ওয়ানডে ম্যাচ হতে যাচ্ছে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। এমনিতে এখানকার উইকেট ব্যাটিং বান্ধব। মিরপুরে ব্যাটসম্যানরা জ্বলে উঠতে না পারলেও প্রথম ম্যাচে তাদের কাছে বেশি প্রত্যাশা ছিলো অধিনায়কের। তেমন কিছু না হওয়ায় দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের জ্বলে ওঠার প্রত্যাশা মাশরাফির, ‘প্রথম ম্যাচে ২৭০ রানের চেয়ে বেশি আশা করেছি। মিরপুরের উইকেটের বাউন্স অনিয়মিত ছিলো। মিঠুন-ইমরুল যেভাবে ব্যাটিং করছিল ওখান থেকে অনায়াসে ৩১০-১৫ করা যেত। কিন্তু হয়নি। এখানকার উইকেটে বাউন্স অনিয়মিত হয় না। আরও বেশি রান হয়। সেক্ষেত্রে কোনো অঘটন না হলে বড় রান আশা করছি।’
তবে এ ক্ষেত্রে বেশ কিছু প্রভাবককে সামনে আনলেন তিনি, ‘আমরা আগে ব্যাটিং করলে উইকেট কতটুকু টার্ন করবে সেটা প্রভাব বিস্তার করবে। তবে পরে ব্যাটিং করলে শিশির থাকবে, এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে সুবিধামতো ব্যাটিং করতে পারলে ভালো স্কোর আসবে। সব মিলিয়ে দলের কাছে ব্যাটিং-বোলিং মিলিয়ে দায়িত্বশীল পারফরম্যান্সের আশা করছি।’
১৩৯ রানে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশ যখন দুইশোর নিচে অলআউট হওয়ার আশঙ্কায় ছিলো। তখনই ত্রাতার ভূমিকাতে সপ্তম উইকেটে জুটি গড়েন ইমরুল। ওপেনিংয়ে নামা ইমরুল ও সাত নম্বরে নামা সাইফউদ্দিন নেমে গড়লেন রেকর্ড ১২৭ রানের জুটি। মাশরাফি আগের ম্যাচের ব্যাটিং ব্যর্থতাকে এক হিসেবে ইতিবাচক দৃষ্টিকোণ থেকেই দেখছেন, ‘ব্যাটিং ব্যর্থতায় একদিক থেকে লাভই হয়েছে। সাইফউদ্দিন রান করতে পেরেছে। ব্যাটিং ধস না হলে ওইসব পজিশনে ব্যাটসম্যানদের ব্যাটিং দেখা সম্ভব হয় না। এটা আমাদের উপরে যেতে সহায়তা করবে।’
এশিয়া কাপের ফাইনালের পর জিম্বাবুয়ে সিরিজের প্রথম ম্যাচেও দুই ওপেনারের একজন সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। তারপরও দলীয় স্কোর ৩০০ পার করতে পারছে না বলে কপালে চিন্তার ভাঁজ মাশরাফির, ‘একজন একশ করার পরও রানটা তিনশ হচ্ছে না। টপ অর্ডারে একজন একশ করলে কিন্তু রান তিনশ হওয়া স্বাভাবিক। এই জায়গা নিয়ে আমি উদ্বিগ্ন। যে একশ করেছে তাকে অন্যরা শুরুর দিকে সাহায্য করতে পারছে না। পরে হয়তো করছে, কিন্তু ততক্ষণে দেরি হয়ে যাওয়াতে রানটা আর তিনশোতে যাচ্ছে না।’
ক্যারিয়ারের প্রথম হাফসেঞ্চুরি তুলে নিয়ে রেকর্ড জুটিতে ভূমিকা রেখেছেন তরুণ ব্যাটিং অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন। মাশরাফি তার ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করে বললেন, ‘আমরা দুই জায়গায় পিছিয়ে ছিলাম। একটা পেস বোলিং অলরাউন্ডার এবং আরেকটা রিস্ট স্পিনার বিষয়ে। সাইফউদ্দিনকে যে কারণে নেওয়া, তা সে দারুণভাবে করেছে। ও যদি এভাবে খেলতে পারে, তাহলে আমরা বিপদ কাটিয়ে উঠতে পারব। গত ম্যাচে সে অসাধারণ পারফরম্যান্স করেছে। যা ওর নিজের আত্মবিশ্বাসও বাড়তে ভূমিকা রাখবে। আশা করি সামনের ম্যাচেও সাইফউদ্দিন ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে পারবে।’








