একমাত্র টেস্টে ৩৯৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে আফগানদের স্পিনে ধুঁকছে বাংলাদেশ। প্রথম সেশন নিরাপদে কাটালেও দ্বিতীয় সেশনে ৭২ রানের বিনিময়ে ৪ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা। চতুর্থ দিন দ্বিতীয় ইনিংসে চা পানের বিরতিতে যাওয়া আগে ৪ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছে ১০২ রান।
চট্টগ্রাম জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরুতে দুই ঘণ্টার বেশি খেলা বন্ধ ছিল বৃষ্টিতে। প্রথম সেশনের পরে ফের বৃষ্টি নামলে দেরি করে শুরু হয় দ্বিতীয় সেশনের খেলা। তবে শুরুটা ভালো হয়নি স্বাগতিকদের। সেশনের দ্বিতীয় ওভারে জহির খানের বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন লিটন দাস। বড় ইনিংস উপহার না দিয়ে ৯ রানে ফেরেন তিনি। অবশ্য আগের বলেই রিভিউ নিয়ে বেঁচেছিলেন। আম্পায়ার আফগানদের কট বিহাইন্ডের আবেদনে সাড়া দিলে রিভিউ নেন লিটন। তাতে সফল ছিলেন তিনি।
ওপেনিংয়ের মতো ব্যাটিং অর্ডারে পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ। বামহাতি-ডানহাতি কম্বিনেশন মেলাতে লিটন দাসকে নামানোর পর এবার নেমেছেন মোসাদ্দেক। সাদমানের সঙ্গী হয়েছেন তিনি। সেই কৌশলও কাজে আসেনি। সেই চায়নাম্যান স্পিনার জহির খানের বলে উড়িয়ে মেরে উইকেট বিলিয়ে দিয়েছেন মোসাদ্দেক। ফিরে গেছেন ১২ রানে।
ডানহাতি কম্বিনেশন বজায় ছিল এরপরেও। তবে কম্বিনেশন পাল্টেও আফগান স্পিনারদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়া যায়নি। একপ্রান্তে রশিদ খান অপরপ্রান্তে জহির খান ঘূর্ণিজাল ফেলে বিপদে ফেলছেন স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের। সেই জালে ধরাশায়ী হন মুশফিকও। রশিদ খানের গুগলি গিয়ে লাগে তার প্যাডে। লেগ বিফোর হয়ে অভিজ্ঞ এই তারকা বিদায় নেন ২৩ রানে। মুশফিক রিভিউ নিয়েও রক্ষা পাননি।
আগের ম্যাচে মুমিনুল ফিফটি করেছিলেন। বড় ইনিংসের প্রত্যাশা ছিল তার কাছ থেকে। সেই মুমিনুলও ধরাশয়াী হয়েছেন রশিদ খানের স্পিনে। তাকে বিদায় নিতে হয়েছে ৩ রানে। তবে অপরপ্রান্ত আগলে খেলছেন সাদমান। ব্যাট করছেন ৩৩ রানে। নতুন নামা সাকিব ক্রিজে আছেন ১৪ রানে।
সাকিব অবশ্য অল্পের জন্য রক্ষা পেয়েছেন। ৩২তম ওভারে রশিদ খানের বলে ফিরতি ক্যাচের সুযোগ দিয়েছিলেন। যদিও রশিদ খান তালুবন্দী করতে পারেননি সেই ক্যাচ।
তার আগে লিটন-সাদমানে প্রথম সেশনটা ভালো গেছে বাংলাদেশের। বিনা উইকেটে সংগ্রহ ছিল ৩০। সকালের প্রথম সেশনে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩৯৭ রানের লিড পেয়ে আফগানিস্তান গুটিয়ে গেছে ২৬০ রানে।
এই টেস্ট জিততে অগ্নিপরীক্ষার মুখোমুখি এখন বাংলাদেশ। রান তাড়া করে জিততে হলে রেকর্ড গড়তে হবে স্বাগতিকদের। ২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ২১৫ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ড আছে তাদের। তাই এই টেস্ট জিততে হলে নিজেদের রেকর্ডকে পেছনে ফেলে গড়তে হবে নতুন রেকর্ড।
আবার সার্বিকভাবে টেস্টে এত বিশাল রান তাড়া করে জেতার নজিরও খুব বিরল। সর্বোচ্চ ৪১৮ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটা ওয়েস্ট ইন্ডিজের, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ২০০২-০৩ সালে। ১৯৪৮ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪০৪ রান তাড়া করে এই রেকর্ডের তালিকায় পরেই আছে অস্ট্রেলিয়া। তৃতীয় অবস্থানে ভারত। তারা ১৯৭৫-৭৬ সালে ৪০৩ রান তাড়া করে জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে।








