মুখোমুখি লড়াইয়ে ভারতের সঙ্গে ৮-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে মাঠে নামছে বাংলাদেশ। সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের এই ক্রিকেটে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা এখনো গেরো খুলতে পারেনি।
তবুও এশিয়ার এ দুটি দেশ যখন মাঠে নামে, তখন উত্তেজনা থাকে চরমে। ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ যে আটটি ম্যাচ খেলেছে এর মধ্যে তিনটি অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকায়, তিনটি হয়েছে কলম্বোতে, একটি হয়েছে বেঙ্গালুরুতে ও একটি নটিংহামে।
নটিংহামে ২০০৯ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো এই সংস্করণে ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম মুখোমুখিতে আশরাফুলের নেতৃত্বে খেলে বাংলাদেশ হার মেনেছিল ২৫ রানে। ভারতের ১৮০ রানের জবাবে বাংলাদেশ অলআউট হয়েছে ১৫৫ রানে।
এরপর ২০১৪ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ফের ভারতের মুখোমুখি হয়েছিল স্বাগতিকরা। ফলাফলের কোনো পরিবর্তন হয়নি এবারেও। মুশফিকের নেতৃত্বে খেলতে নামা বাংলাদেশ ৭ উইকেট হারিয়ে ১৩৮ রান সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৪৪ রানের ইনিংস খেলেছিলেন এনামুল হক বিজয়। জবাবে রোহিত শর্মা (৫৬) ও বিরাট কোহলির (৫৭) রানের ইনিংসে ভর করে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে জিতে যায় ভারত।
টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের সামনে শিরোপা জেতার প্রথম সুযোগ এসেছিল ২০১৬ সালে। ওই বছর এশিয়া কাপে প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টিতে কোনো টুর্নামেন্টের ফাইনালে ওঠে বাংলাদেশ। গ্রুপ পর্বে ভারতের বিপক্ষে ৪৫ রানে হারলেও ফাইনালে হার মানে আরও বড় ব্যবধানে।
এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে রোহিত শর্মার ৮৩ রানের ওপর ভর করে ভারত ১৬৬ রানের সংগ্রহ পায়। জবাবে ১২১ রানে অলআউট হয় মাশরাফি মুর্তজার দল। ফাইনালে ভারতের কাছে হারটা ছিল ৮ উইকেটে। আগে ব্যাটিং করা বাংলাদেশ নির্ধারিত ওভারে ১২০ রান করতে পারে। জবাবে মাত্র দুই উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মহেন্দ্র সিং ধোনির দল।
এই হারের গ্লানি নিয়েই ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আরেকটি হতাশার জন্ম দেয় বাংলাদেশ। ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বেঙ্গালুরুতে ভারতের বিপক্ষে প্রায় জিতেই গিয়েছিল বাংলাদেশ! স্নায়ুক্ষয়ী সেই ম্যাচে তারা হেরে যায় মাত্র ১ রানে। সেই হারে খেলোয়াড়সহ কেঁদেছিল কোটি কোটি টাইগার ভক্ত। সেটি ছিল ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ।
দুই বছর পর ২০১৮ সালে কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে আবারও ভারতকে হারানোর সুযোগ এসেছিল। কিন্তু সেবারও ভারত বাধা অতিক্রম করতে পারেনি সাকিবরা। স্বাগতিক ভারত, বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে আয়োজিত হয়েছিল নিদাহাস ট্রফি। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচটিতে খুব একটা লড়াই করতে না পারলেও দ্বিতীয় ম্যাচে লড়াই করেছিল সাকিব-তামিমরা। ভারতের দেওয়া ১৭৬ রানের জবাবে বাংলাদেশ ১৫৯ রান করতে পেরেছিল। ওই ম্যাচটিতে বাংলাদেশ হারে ১৭ রানে।
ওই টুর্নামেন্টে স্বাগতিক শ্রীলঙ্কাকে বিদায় করে ফাইনালে নাম লিখিয়েছিল সাকিবরা। যদিও ভারতের বিপক্ষে ৪ উইকেটে হেরে আরও একবার হতাশায় ডুবতে হয় বাংলাদেশকে। শেষ বলে ভারতের প্রয়োজন ছিল ৫ রানের। দীনেশ কার্তিক সৌম্যকে ছক্কা মেরে তুলে নেন অবিশ্বাস্য এক জয়।
এবার প্রথমবারের মতো ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে চলেছে সফরকারীরা। হয়তো এই সিরিজ দিয়েই নতুন দিনের সূচনা হবে! এমন প্রত্যাশা ক্রিকেট ভক্তদের।








