বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) তৃতীয় আসরের ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে শনিবার দুপুর দুইটায় মিরপুর স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স ও রংপুর রাইডার্স। লড়াইটা দুই দলের অধিনায়ক মাশরাফি ও সাকিবের মধ্যেও। প্রথম কোয়ালিফায়ারে যারা জিতবে তারাই চলে যাবে ফাইনালে।
শনিবার ম্যাচ শুরুর পর নিশ্চিতভাবে দুই ভাগে ভাগ হয়ে যাবে বাংলাদেশের সমর্থকরা। আঞ্চলিক টানে কুমিল্লাবাসী মাশরাফির পক্ষে চলে যাবে। আর সাকিবের পক্ষে চলে যাবে রংপুরবাসীরা। আর যারা কেবল মারকুটে ক্রিকেট আশা করছেন, তারা নিশ্চয় শনিবার দ্বিধায় পড়ে যাবেন! কেননা দুই দলই বিপিএলজুড়ে ভক্তদের উপহার দিয়েছে দুর্দান্ত ক্রিকেট।
১০ ম্যাচের মধ্যে ৩টি করে হেরেছে দুই দলই। লিগ পর্ব শেষে দুই দলের পয়েন্ট তাই সমান। রানরেটের সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় টেবিলের সবার উপরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। অথচ বিপিএলের শুরুতে এতোটা আশাই করেননি কুমিল্লার অধিনায়ক। তাইতো লিগ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে সিলেট সুপার স্টারসকে ৭১ রানে হারানোর পর সংবাদ সম্মেলনে এসে মাশরাফি বলেন, ‘এতোটা দূর আসবো ভাবতে পারিনি। কিন্তু আমাদের দল শেষ পর্যন্ত অবিশ্বাস্য ভালো খেলেছে বলেই আমরা এখানে আসতে পেরেছি।'
কুমিল্লার হয়ে আসরের সেরা পাঁচ ব্যাটসম্যানের তালিকায় আছেন কেবল ইমরুল। লিগ পর্বের সবগুলো ম্যাচ খেলে কোনও হাফ সেঞ্চুরি না করেই তার সংগ্রহ ১৯২ রান। সেরা ৫ বোলারের তালিকায় আছেন আবু হায়দার রনি। ১৭ উইকেট নিয়ে এখন পর্যন্ত উইকেট সংগ্রহে সাকিবের সঙ্গে যৌথভাবে এক নম্বর তিনি।
শনিবারের ম্যাচে অধিনায়ক মাশরাফির ট্রাম কার্ড ইমরুল-রনিই। সঙ্গে থাকবেন আহমেদ শেহজাদ, ইনজুরি কাটিয়ে ফেরা শোয়েব মালিক, আসহার জাইদি ও আন্দ্রে রাসেল।
রংপুরের বিপক্ষে ম্যাচ নিয়ে কুমিল্লার কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বলেন, ‘রংপুর ভালো দল। তবে তারা অপরাজেয় নয়। বিশেষ করে তাদের ব্যাটিং লাইনটাকে মনে হয়েছে জয় করা যাবে।’
কুমিল্লা শতভাগ আশাবাদী হলেও ড্যারেন স্যামি নিশ্চিত যুদ্ধের ঘোষণা দিলেন। শুক্রবার অনুশীলন শেষে বলেছেন, ‘আমাদের পূর্ণ মনোযোগ নিজেদের পারফর্মের দিকে। আমরা আমাদের মৌলিক বিষয়গুলো ঠিকঠাক রাখার চেষ্টা করবো। কুমিল্লার বিপক্ষে শেষ ম্যাচটি কিন্তু আমরাই জিতেছি। আমাদের ওপেনিং এবং টপ অর্ডার ব্যাটিং নিয়ে একটু দুশ্চিন্তা হয়তো আছে। কিন্তু রংপুর এখনো নিজেদের সেরাটা খেলেনি। আশা করি কালই (শনিবার) সেটা হয়ে যাবে।’
সাকিবের দলের রয়েছে অলাউন্ডার পারফরমার। সাকিব নিজেই বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। এছাড়া ড্যারেন স্যামির সঙ্গে আছেন মোহাম্মদ নবী, থিসারা পেরেরা মতো ক্রিকেটার।
যুদ্ধের দামামা শেষে যারা জিতবে তারা চলে যাবে ফাইনালে। আর যারা হেরে যাবে তাদের জন্য একটি পথ খোলা রয়েছে। শনিবার সন্ধ্যায় ঢাকা ডায়নামাইটস ও বরিশাল বুলসের ম্যাচে যারা জিতবে, তাদের সঙ্গে দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার খেলে ফাইনালে উঠার পথ করে নিতে পারবে প্রথম কোয়ালিফায়ার হেরে যাওয়া দল।
সেক্ষেত্রে বরিশাল বুলস কিংবা ঢাকা ডায়নামইটসকেও ফাইনালের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখতে হলে জিততেই হবে। কিন্তু খেলায় দুই দলের জেতার সুযোগ নেই। তাই ঢাকা কিংবা বরিশাল যে কোনও এক দলকে হারতেই হবে!
/আরআই/এমআর/








