মঈন আলীর মতো স্পিনিং অলরাউন্ডারকে সরিয়ে দলে ঢুকেছেন। জ্যাক লিচ ইংল্যান্ড টেস্ট দলে নিজের সামর্থ্যেরও প্রমাণ দিয়ে চলেছেন। বাঁহাতি এই স্পিনার সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন গত বছর মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। সেখানে হ্যামিল্টনে দ্বিতীয় টেস্ট খেলেননি, আসলে খেলতে পারেননি। পরে যাননি দক্ষিণ আফ্রিকা সফরেও। টানা পাঁচটি টেস্টে তাকে পায়নি ইংল্যান্ড। অবশেষে লিচ ফিরেছেন ইংল্যান্ড টেস্ট দলে। বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের অংশ দুই টেস্টের সিরিজ খেলতে ইংল্যান্ড এখন শ্রীলঙ্কায়। ১৯ মার্চ থেকে প্রথম টেস্টেই ন্যাড়া মাথার ক্রিকেটারটিকে হয়তো দেখা যাবে গলের ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।
ঘটনা এমন ছিল যে লিচকে আর হয়তো ক্রিকেটেই কোনওদিন দেখা যেতো না। এমনকি চলেও যেতে পারতেন না ফেরার দেশে। চাঞ্চল্যকর এই সত্যটা নিজেই জানিয়েছেন লিচ। নিউজিল্যান্ডে হ্যামিল্টন টেস্টের আগে সেপসিসে আক্রান্ত হয়েছিলেন। সেপসিসের কারণে জীবনাশঙ্কাই দেখা দিয়েছিল তার।
সোজা কথায় সেপসিস হলো রক্তে সংক্রমণ। রক্তে জীবানু সংক্রমণে সারা শরীরে শুরু হয় প্রদাহ, যাতে ক্ষতি হতে পারে অনেক অঙ্গের। সেসব অঙ্গ কার্যকারিতাই হারিয়ে ফেলতে পারে এতে, যা শেষপর্যন্ত ডেকে আনে মৃত্যু।
ইংলিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইলের কাছে সম্প্রতি লিচ জানিয়েছেন, সেপসিস হওয়ার পর সারাক্ষণ ঘুমিয়ে থাকার চেষ্টা করতেন, কেননা ভয় তাকে এমনই পেয়ে বসেছিল যে তার মনে হতো ঘুমিয়ে পড়লে সেই ঘুম আর কখনও ভাঙবে না। ‘সেই সময় এ সম্পর্কে খুব বেশি বুঝতে পারিনি কতটা বিপজ্জনক এটি হতে পারে। কিন্তু আমার মনে পড়ে আমি খুব, খুবই অসুস্থ বোধ করছিলাম। এটাও মনে করতে পারি যে আমি ভাবছিলাম ঘুমোনো যাবে না, কারণ ঘুম আর কখনও নাও ভাঙতে পারে’- মৃত্যুশঙ্কা তাকে কীভাবে পেয়ে বসেছিল, সেটাই বলেছেন লিচ।
শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি, কীভাবে চিকিৎসা হলো নিউজিল্যান্ডে- সেসব নতুন জীবন পাওয়া মানুষের মতোই বর্ণনা করেছেন ২৮ বছর বয়সী ইংলিশ ক্রিকেটার, ‘সত্যি কী ঘটছে তা আমি বুঝতে পারছিলাম না। যখন আমাকে অ্যাম্বুলেন্সে করে আমাকে তারা হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছিল আমার রক্তচাপ কমে যেতে থাকে দ্রুত, হৃৎকম্পন ছিল ১৯০ এবং তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির ঘরে।’
‘হাসপাতালে গেলে আমার হাতে পুশ করা হয় অ্যান্টিবায়োটিক ইঞ্জেকশন, শিরায় দেওয়া হয় ফোটা ফোটা করে। আমি দ্রুতই ভালো বোধ করতে থাকলাম, তারপরও হাসপাতালে কাটাতে হয় দুই রাত। আমি যখন নিউজিল্যান্ড থেকে বিমানে ইংল্যান্ডে রওনা হই, তখনও সুস্থ হয়ে উঠিনি। যা ভেবেছিলাম, তার চেয়েও বেশি সময় লাগে আমার সুস্থ হয়ে উঠতে।’








