ক্রিকেট দল হিসেবে পাকিস্তানের গায়ে লেগে গেছে অননুমেয় তকমা। অর্থাৎ এই দলটিকে নিয়ে আপনি ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারবেন না। অসম্ভবকে সম্ভব করে ফেলে তারা, আবার কখনও কখনও অতি সহজকেও অসম্ভব বানিয়ে ছাড়ে। তবে ক্রিকেটের বিশ্ব সংসারে পাকিস্তান সবসময়ই সমীহ জাগানো দল। মানে, সামর্থ্যে আর প্রতিভায় ভরা দলটি সবসময়ই লড়াকু। এটি খুব ভালো করে জানেন সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক এবং ক্রিকেট ‘পন্ডিত’ মাইক আথারটন।
পাকিস্তান সুপার লিগ উপলক্ষ্যে গত মাসে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন আথারটন। সেখানেই পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) মিডিয়া টিমের কাছে মস্ত এক সাক্ষাৎকার দেন। পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরা, পাকিস্তানের ক্রিকেট কাঠামো, দর্শক্- ইত্যাদি বিষয় নিয়ে কথা বলার এক ফাঁকে ইংল্যান্ডের সাবেক ব্যাটসম্যান বলে দেন পাকিস্তান অনেক বড় বড় ক্রিকেটারের জন্ম দিলেও তুলনামূলকভাবে দুর্দান্ত সব বোলারই যেন বেশি পায়।
কীভাবে এটা হয়, ঠিক জানেন না আথারটন। তবে তার ধারণা, ক্রিকেট অবকাঠামো ততটা ভালো না হওয়াতেই ভালো ভালো বোলার উঠে আসে পাকিস্তানে। অপ্রিয় সত্য কথা সোজাসাপ্টা বলে ফেলার জন্য ‘বিখ্যাত’ সাবেক ইংলিশ ক্রিকেটার বলেন, ‘আমি ঠিক জানি না পাকিস্তানে কেন বিশেষ করে বড় বড় সব বোলার উঠে আসে। আমার সন্দেহ জাগে, এটা সম্ভবত তাদের তুলনামূলক অনুন্নত অবকাঠামোর কারণে হয়। অনেক অনেক বড় ব্যাটসম্যান গড়ে তুলতে গেলে আপনার অনেক সুযোগ-সুবিধা থাকতে হবে, অবকাঠামো থাকতে হবে, অনেক কোচ লাগবে, একটা প্রাতিষ্ঠানিক পদ্ধতি থাকতেই হবে। কিন্তু আমি মনে করি বোলাররা যেকোনও অবস্থায় যেকোনও জায়গা থেকেই উঠে আসতে পারে। আর এ কারণেই পাকিস্তান রাশি রাশি ভালো বোলার পেয়ে যায়।’
নিজের সময়ের সঙ্গে মিলিয়েই তো আথারটন উদাহরণ দিতে পারেন পাকিস্তানের সমৃদ্ধ বোলিংয়ের ধারাটির, ‘আমি যখন তাদের বিপক্ষে খেলেছি, কী সব বড় বড় বোলার ছিল। ২০০০ সালে এখানে সফর করতে এসে সর্বশেষ যে বোলিং আক্রমণ আমাকে সামলাতে হয়েছে, সেটি গড়া ছিল ওয়াসিম, ওয়াকার (ইউনিস), মুশতাক (আহমেদ) ও সাকলায়েনকে (মুশতাক) নিয়ে। এরা চারজনই তো ম্যাচ উইনিং বোলার।’
আসন্ন ইংলিশ গ্রীষ্মে পাকিস্তানের ইংল্যান্ড সফরে যাওয়ার কথা ছিল। করোনাভাইরাস মহামারি সেই সফরকে পুরো অনিশ্চয়তায় ফেলে দিয়েছে। সূচি পুনর্বিন্যস্ত হয়ে সেই সফরটি যদি হয়ও পাকিস্তানের ব্যাটসম্যানদের বড় পরীক্ষাই দিতে হবে। তবে ইংল্যান্ড সফরে পাকিস্তানের অতীত সাফল্য বিবেচনায় আথারটন মনে করেন পাকিস্তানই সেই চ্যালেঞ্জটা নিতে পারে। বাবর আজম আথারটনের খুব প্রিয় ব্যাটসম্যান, আর তার ব্যাটিং দেখার জন্য উন্মুখ তিনি, ‘ তার (বাবর) নৈপুণ্যের কারণেই মাঝেমাঝে ব্যাটিংটাকে যে কী সহজ-সাবলীল দেখায়। আমি তার ব্যাটিং দেখার অপেক্ষায় আছি।’








