করোনাকালের লকডাউনে স্থবির হয়ে আছে গোটা দেশ। এই ভাইরাস থেকে বাঁচতে যে যার মতো গৃহবন্দি হয়ে দিন কাটাচ্ছেন। খেলা না থাকায় ক্রিকেটাররাও সুদিনের অপেক্ষায় ঘরে থাকছেন। তবে অনুশীলনও করছেন। এই পরিস্থিতিতে গত মাসের শেষ দিকে ফেনীতে চলে যান অলরাউন্ডার সাইফউদ্দিন। করোনাকলে কীভাবে দিন কাটাচ্ছেন, তার বিস্তারিত জানালেন বাংলা ট্রিবিউনকে।
রোজার আগে স্বাভাবিক নিয়মে কঠোর অনুশীলন করতেন সাইফ। কিন্তু রোজার পর অনেকটা ছাড় দেওয়া হয়েছে সেই অনুশীলনে। বাংলা ট্রিবিউনকে চলমান রুটিন নিয়ে তিনি বললেন, ‘যেহেতু রোজা শুরু হয়েছে, সেভাবে কঠোর পরিশ্রম করছি না। তবুও ফজরের নামাজ পড়ে হালকা একটু দৌড়ে আসি। আমাদের বাসার পাশে ফেনী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। ওখানেই কিছুক্ষণ দৌড়াই। ওই সময় কোনও মানুষ থাকে না বলে ঝুঁকি নেই। ছাদে দৌড়ালে হ্যামস্ট্রিংয়ে সমস্যা হতে পারে। তাই ওভাবেই পরিকল্পনা করেছি।’
এখন আপাতত হালকা ওয়ার্ম আপেই কাজ সারছেন সাইফ। যাতে কোনও সমস্যায় পড়তে না হয়, ‘রোজা রাখার কারণে ইফতারের পর হালকা একটু ওয়ার্মআপ করি। যাতে হাত পায়ের জড়তা যেন না থাকে।’
ক্রিকেটারদের নির্ধারিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে। সেখান থেকে নিয়মিত আপডেট পান সব ক্রিকেটাররা। সাইফ জানালেন এই গ্রুপ থেকে পাওয়া ফিজিও ট্রেনারের নির্দেশনা অনুযায়ীই কাজ করছেন তিনি, ‘গ্রুপে আমাদের কিছুদিন পর পরই কিছু না কিছু নির্দেশনা আসে। সেগুলো অনুসরণ করছি। ’
অনুশীলনের পাশাপাশি পরিবারের সঙ্গেও ভালো সময় কাটছে সাইফের। যার খণ্ডচিত্রটা এমন, ‘পরিবারের সঙ্গে আড্ডা দিয়েই অনেক সময় কেটে যায়। টিভি দেখি, গল্পের বই পড়ি, ক্যারম খেলি, অনলাইনে লুডু খেলি। মাঝে মাঝে ছাদে গিয়ে টেপ টেনিস দিয়ে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে ক্রিকেট খেলি। সবমিলিয়ে একেবারে খারাপ সময় কাটছে না।’
তাই বলে ক্রিকেটকেও মিস করছেন না, এমনটা ভাবলে ভুল হবে। আক্ষেপ করেই সাইফ বললেন, ‘হয়তো পরিবারকে অনেক সময় দিতে পারছি। কিন্ত এভাবে ক্রিকেট ছেড়ে থাকা খুব কঠিন। এখন কেবল প্রহর গুনছি, কবে ক্রিকেট মাঠে ফিরবো।’








