মুশফিককে ভাঙা হাতের সেই দিনের গল্প শোনালেন তামিম

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
০৩ মে ২০২০, ১২:৫০আপডেট : ০৩ মে ২০২০, ১৩:১২

  মুশফিককে ভাঙা হাতের সেই দিনের গল্প শোনালেন তামিম ২০১৮ সালের এশিয়া কাপের কথা। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ভাঙা হাত নিয়েও ইনিংসের শেষ পথে নেমেছিলেন তামিম ইকবাল। যা আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের ক্রিকেটে বীরত্বের অনন্য উদাহরণ হয়ে আছে। 

শনিবার সাড়ে দশটার পর বাংলাদেশের অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটার তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম ইন্সটাগ্রামের লাইভে আড্ডা দিয়েছেন।  সেখানেই তামিমের কাছে সেইদিনের পেছনের গল্পটা জানতে চেয়েছিলেন মুশফিক। জাতীয় দলের সতীর্থকে সেই গল্প শুনিয়েছেন তামিম।

সেদিন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে হাতে চোট পেয়ে মাঠ ছেড়ে যেতে হয় তামিমকে। সেখান থেকে ড্রেসিংরুম, এর পর সোজা হাসপাতাল। হাতে ব্যান্ডেজ বেঁধে তারপরই ফিরেছেন ড্রেসিংরুমে। ততক্ষণে তামিম ইকবাল জেনে গেছেন, পুরো এশিয়া কাপই তার শেষ! কিন্তু আচমকা বাংলাদেশের ইনিংসের শেষভাগে মুশফিককে সঙ্গ দিতে ভাঙা হাত নিয়েই মাঠে নেমে পড়েন বাংলাদেশের সেরা এই ওপেনার। কিছুটা ব্যাকফুটে গিয়ে সুরাঙ্গা লাকমালের বলটি ঠেকালেন। তামিমের ওই এক বল খেলার কারণে, পরের ১৬ বলে মুশফিকুর রহিম তুলেছেন ৩২টি রান। তাতেই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শক্ত লক্ষ্য দাঁড় করাতে পারে বাংলাদেশ।

সেঞ্চুরি করে মুশফিক ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেলেও বাংলাদেশের ড্রেসিংরুমের নায়ক ছিলেন তামিম। সেদিন তার মাঠে ফেরার গল্পটা জানা ছিল না মুশফিকের, কেননা তখন তিনে মাঠে লড়ছিলেন। শুরুতেই তামিম বলেছেন, ‘আমি হাসপাতাল যাচ্ছিলাম ও মোবাইলে স্কোর দেখছিলাম। আমাদের দুই-তিনটা উইকেট খুব তাড়াতাড়ি পড়ে গেলো। তোর আর মিঠুনের একটা দারুণ জুটি হলো। ডাক্তারের কাছে যাওয়ার আগে এ পরিস্থিতি ছিল। আমি যখন আবার ফেরত আসছিলাম তখন আবার একটা ধস নামলো। দুই-তিনটা উইকেট পড়ে গেলো। ব্যাটসম্যানরা সবাই আউট। ড্রেসিংরুমে ঢুকে দেখি ‍তুই ব্যাটিংয়ে। আর দলের স্কোর কোনওমতে এগিয়ে যাচ্ছে।’

ড্রেসিংরুমে ফিরতেই মাশরাফি বিন মুর্তজা নাকি তামিমকে বলেছিলেন, ‘ব্যাটিংয়ে যা!’ মাশরাফির এমন কথা শুনে চোখ কপালে ওঠে গিয়েছিল তামিমের, ‘‘ড্রেসিংরুমে কথা বলতে বলতে মাশরাফি ভাই (তখন অধিনায়ক ছিলেন) আমাকে বলে, যা ব্যাটিং কর। আমি শুরুতে ফাজলামো হিসেবে নিয়েছিলাম। আমাদের ফিজিও থিহান আবার মাশরাফি ভাইকে বলছিল, ‘তুমি কি পাগল নাকি! ওর স্লিং লাগানো। কীভাবে ব্যাটিং করবে।’’

মাশরাফির কথাতে যতটা না অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন তামিম, তার চেয়ে বেশি উদ্দীপনা এসেছিল মুশফিকের ঝড়ো ব্যাটিং দেখে। শনিবার তামিমের কথায় সেটাই বুঝা গেলো, ‘নামবো কি নামবো না- এটা নিয়ে আলোচনা করতে করতে দেখি তুই মারা শুরু করেছিস। একশ’র কাছাকাছি হয়ে গেছে তোর স্কোর। তখন আলোচনা গুরুতর হয়ে গেল। আলোচনা করে সিদ্ধান্তে আসলাম, যদি মুশফিক স্ট্রাইকে থাকে এবং ওভার বাকি থাকে, তাহলে ওভাবেই আমি ব্যাটিংয়ে যাবো। আমাকে ডাক্তার বলেছিল, ওটা নিয়ে দৌড়ানো যাবে না। কারণ মাত্রই হাত ভেঙেছিল। রিপ্লেসমেন্টের ব্যাপার আছে। দুর্ভাগ্যবশত চার বা পাঁচ নম্বর (পাঁচ নম্বর) বলে মুস্তাফিজ আউট হয়ে গেল।’

 এটা যে স্রেফ পাগলামি ছিল, তামিম অকপটে স্বীকার করে নিলেন, ‘‘আমাদের সবার জীবনে এমন একটা সময় আসে, যখন পাগলামি ভর করে। হয়তো বা তুই নিজেও জানিস না যে, তুই কী করতে যাচ্ছিস। ওই পাঁচ সেকেন্ড আমার ওটাই হয়েছিল। আমি ব্যাট নিয়ে হাঁটা শুরু করেছিলাম। আমাদের কোচ স্টিভ রোডস পেছন থেকে দৌড়ে এসেছিল। আমাকে থামিয়ে বলে, ‘তুমি কী করতে যাচ্ছো? আমি বললাম, ‘আমি যাই।’ ও আমায় আবার বলল, ‘এটা তো পরিকল্পনা ছিলো না।’ আমি বললাম, ‘আমি ম্যানেজ করতে পারবো।’ তখন ও আমাকে আমার দায়িত্বে যেতে বললো।’’

ব্যাটিংয়ে নেমে ঘোরের মধ্যে ছিলেন তামিম ইকবাল। এতটাই ঘোরের মধ্যে ছিলেন যে, মুশফিকের কত রান সেটাই ভুলে গিয়েছিলেন তিনি, ‘আমার মতে ওই মুহূর্তে আমি ঠিক কাজটা করেছি। আর ওই সময়ে আমাকে সবচেয়ে সহজ বলটাই ওরা করেছে। বোলার যদি আমাকে ইয়র্কার বা উইকেটে বল করতো তাহলে কঠিন হয়ে যেতো। তুই জানিস যে, আমার সব পরিসংখ্যান, সব ইনিংস মনে থাকে। কিন্তু তোর ওই ইনিংস আমার মনে নেই। এত ব্যথায় ছিলাম যে, আমি কিছু মনে রাখতে পারিনি। যেভাবে চার-ছয় মেরেছিলি আমার কোনও ধারণা ছিল না।’

তামিমকে মাঠে ঢুকতে দেখে মুশফিকের প্রতিক্রিয়া কী হয়েছিল? মুশফিকের কাছে এমন প্রশ্ন রেখেছিলেন তামিম। তামিমকে আসতে দেখে নিজেকে রাজা ভাবা শুরু করেন মুশফিক, ‘আমি আসলে ওরকম কিছু প্রত্যাশা করিনি। আমার কাছে সেরকম কোনও তথ্য আসেনি যে, আমি থাকলে তুই ব্যাটিংয়ে আসবি। ওভাবে চিন্তা করে খেলিনি। আমি চাচ্ছিলাম শেষ পর্যন্ত থাকতে। কারণ, শেষ দুই তিন ওভারে যত রান করতে পারবো, সেটা বোনাস হবে। আমি জানতাম এবং মিঠুনের সঙ্গেও কথা বলছিলাম যে, এখানে যদি ২৩০ এর বেশি করি তাহলে চ্যালেঞ্জিং স্কোর হবে। মুস্তাফিজ আউট হওয়ার পর খারাপ লাগছিল। কারণ, তখন মাত্র আমি মারা শুরু করেছিলাম।  আফসোস করেছিলাম যে, আরেকটু থাকলে ভালো হতো।’

মুশফিক আরও বলেছেন, ‘কিন্তু তোকে আসতে দেখে মনে হয়েছিল আমি এখন রাজা। আমাকে শাসন করতে হবে। এরকম আত্মবিশ্বাস জন্ম নিয়েছিল। পরের ওভারে দেখি থিসারা পেরেরা আসছে। ওকে দেখে আরও মন ভালো হয়ে যায়। যে যে জায়গায় বলগুলো চেয়েছিলাম, সেখানে সেখানে বলগুলো দিয়েছে। ডেথ ওভারে যেসব জায়গায় বল খুঁজি ও সেগুলিই করেছে। যে স্কোর হয়েছিল, ওটা চ্যালেঞ্জিং। কিন্তু বোলারদের কৃতিত্ব দিতে হবে। সবাই খুব ভালো বোলিং করেছিল।’

/আরআই/এফআইআর/
সম্পর্কিত
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
এলিসের ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ে সিরিজে সমতা অস্ট্রেলিয়ার
১৫ বলে ফিফটি, পারভেজের রেকর্ডে ভাগ বসালেন হাবিবুর
সর্বশেষ খবর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
যেখানে সকালে বারান্দায় এলেই দেখা মেলে জোড়া রংধনুর
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
সরকারি কর্মকর্তাদের বিদেশ সফরের আড়ালে কী
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
গরমে শিশুর সুরক্ষা: সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
থানার ভেতরে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটিয়ে আহত, ৩ পুলিশ প্রত্যাহার
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম