করোনা সংক্রমণে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত নারায়ণগঞ্জ জেলা। সেই জেলারই সন্তান, ক্রিকেটার নাজমুল ইসলাম অপু। সংক্রমণের শুরু থেকেই নিজ এলাকার অসহায় মানুষের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। তার সঙ্গে হাতে হাত রেখে কাজ করছেন জাতীয় দলের অধিনায়ক তামিম ইকবালও। এবার দুজনেই মুক্তিযোদ্ধাদের সাহায্যে এগিয়ে এসেছেন।
বুধবার নারায়ণগঞ্জের ফরাজিকান্দা এলাকায় ১৫ মুক্তিযোদ্ধাকে তারা স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে নগদ অর্থ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য তুলে দিয়েছেন।
এই কার্যক্রম সম্পর্কে নাজমুল ইসলাম অপু বিস্তারিত জানিয়েছেন বাংলা ট্রিবিউনকে, ‘আমরা চিন্তা করেছি ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য। অনেকেই আছেন বিপদের কথা কাউকে বলতে পারছেন না। এর মধ্যে আমাদের এলাকাতে (ফরাজিকান্দা) এমন অনেক মুক্তিযোদ্ধা আছেন যারা বিপদে আছেন। তাই আমার ও তামিম ভাইয়ের পক্ষ থেকে তাদের একটি সম্মানী উপহার হিসেবে দিতে চেয়েছি। তাদেরকে নিত্যপ্রয়োজনীয় কিছু পণ্য ও নগদ অর্থ দেওয়া হয়েছে। যা তুলে দিয়েছেন ইউএনও ম্যাডাম।’
দেশের মধ্যে রাজধানী ঢাকার পরেই নারায়ণগঞ্জে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বেশি। তাই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ছড়ানোর প্রায় শুরুর দিকেই জেলাটিকে লকডাউন ঘোষণা করে স্থানীয় প্রশাসন। সেই জেলার একজন বাসিন্দা হিসেবে করোনাকালে অসহায়দের পাশে ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন নাজমুল ইসলাম অপু। সঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন এলাকার আরও ১৪ জনকে। অপুর এই উদ্যোগে পরে যোগ দিয়েছেন তামিম।
ব্যক্তিগতভাবে অপু ও তামিম বিভিন্নভাবে মানুষকে সাহায্য করছেন। বেতনের অর্ধেক টাকা তারা দিয়ে দিয়েছেন। ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগে তামিম অ্যাথলেট সামিউলকে সাহায্য করেছেন। পাশাপাশি দেশের ৯১জন ক্রীড়াবিদকে সাহায্য করেছেন। নাজমুলের সঙ্গে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবিকা নাফিসা খানের উদ্যোগে ঢাকার চার অঞ্চলের অসহায় মানুষদের ঘরে খাবার পৌঁছে দিতে আর্থিক সহায়তাও দিয়েছেন। এছাড়া নাজমুল প্রতি সপ্তাহে ত্রাণ কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি রোজায় ১৮০০ মানুষের ইফতারের ব্যবস্থা করেছেন।
অথচ এমন মহৎ কাজের জন্য করোনার শুরু থেকেই পরিবার থেকে আলাদা থাকছেন বাঁহাতি এই স্পিনার!








