সত্যি কথাটা বলে ফেলেন নির্দ্বিধায়। কোনও ভনিতা নেই। তিনি স্পষ্টবাদী। কোনও বিষয়ে নিজের মত দিতে কুণ্ঠিত নন কখনও। ইয়ান চ্যাপেলকে আপনি ভালো বাসতে পারেন, নাও পারেন, তাতে তার কিছুই এসে যায় না। তবে ক্রিকেটের বিশ্বসংসারের অনেকেই কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়কের মন্তব্যের অপেক্ষায় থাকে। এই ক্রিকেট পন্ডিতের মন্তব্য বা মূল্যায়ন যে অনেকাংশেই খেটে যায়।
তার সাম্প্রতিক বক্তব্যটি যদি খেটে যায় ক্রিকেটের ‘সম্প্রসারণবাদী’ ধারণাটটি একটু ধাক্কা খাবে। কিংবা অন্যভাবেও বলা যায়, যারা নানা ধরনের ক্রিকেট-পসরা সাজাতে চলেছেন, তাদের মন খারাপ হবে। চ্যাপেল বলেছেন, ভবিষ্যতে একই সঙ্গে ক্রিকেটের তিনটি সংস্করণের চলার পথটা খুব কঠিন হয়ে যাবে। তিনটি কেন, ইংল্যান্ডের প্রস্তাবিত ১০০ বলের প্রতিযোগিতা দ্য হান্ড্রেড যুক্ত হলে সংস্করণ দাঁড়াবে চারটি। করোনাভাইরাসের রূঢ় বাস্তবতা ইয়ান চ্যাপেলকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করছে যে ভবিষ্যতে ক্রিকেটের এতগুলো সংস্করণ একসঙ্গে চলবে না। চ্যাপেল ভাইদের বড়জন দ্য হান্ড্রেড চালু করতে যাওয়ার কোনও যুক্তিই দেখেন না।
ইয়ান চ্যাপেলে বলেছেন, ‘খেলাটার প্রতি তরুণ সমর্থকদের আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে আমি মনে করি টি-টোয়েন্টি বেশ কার্যকর। আমি আগে থেকেই বলে আসছি যে ক্রিকেটের কাজ এটি নিশ্চিত করা যে এই তরুণদের টি-টোয়েন্টির ভক্তের চেয়ে ক্রিকেটভক্ত রূপে গড়ে তোলা। আমি নিশ্চিত নই যে খেলাটা একইসঙ্গে তিন ফরম্যাট বা চার ফরম্যাটে চলতে পারবে যদি আপনি দ্য হান্ড্রেডকেও ধরেন।’
রাজদীপ সারদেশাইয়ের সঞ্চালনায় ‘সনি টেন পিট স্টপ’ অনুষ্ঠানে চ্যাপেল আরও বলেছেন, ‘১২০ বল থেকে ১০০ বলে যাওয়ার কোনও যুক্তি দেখি না আমি। কিন্তু আমি চাইবো না যে ৫০ ওভারের খেলাটা চলে যাক, কারণ আমি মনে করি এটি খুব ভালো সময় এবং এখনও এর মধ্যে ক্রিকেট আছে। আমি ৫০ ওভারের খেলাটা উপভোগ করি। আমি ওপরের তিনে ব্যাট না করলে মনে হয় না টি-টোয়েন্টিকে আমি ততটা উপভোগ করতাম।’
এই অনুষ্ঠানে ভারতের কিংবদন্তি স্পিনার এরাপল্লী প্রসন্নের কথা উঠেছে। তার খেলোয়াড়ি জীবনে যত স্পিনারের মুখোমুখি হয়েছেন, তাদের মধ্যে প্রসন্নকেই সেরা মনে করেন ইয়ান চ্যাপেল। ১৯৬৭-৬৮ সিরিজে অস্ট্রেলিয়ার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের মুখোমুখি হয়ে ২৫ উইকেট নিয়েছিলেন সাবেক ভারতীয় স্পিনার!
‘আমার খেলা সেরা প্রতিপক্ষ স্পিনার প্রসন্ন। তার বিপক্ষে খেলে একটি ভালো ইনিংস দাঁড় করাতে আপনার মাথা খারাপ হয়ে যাওয়ার জোগাড় হতো। অস্ট্রেলিয়ায় তার পারফরম্যান্স ছিল বিস্ময়কর। অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হওয়ার আগে ১০০ রান দিয়ে কোনও উইকেট ছিল না তার, আর যখন শেষ করলো, সিরিজে ২৫ উইকেট। তার জন্য সবসময়ই আমার শ্রদ্ধা থাকবে, ইঞ্জিনিয়ারিং বিদ্যাকে সে যেন মিশিয়েছিল স্পিন বোলিংয়ে।’- এরাপল্লী প্রসন্নকে নিয়ে এখনও প্রসন্ন অনুভূতি ইয়ান চ্যাপেলের।








