করোনাভাইরাসের প্রভাবে বিপদে পড়াদের সহায়তায় নিজের প্রিয় ব্যাট নিলামে তুলেছেন মুশফিকুর রহিম। ২০১২ সালে তিনি এই ব্যাট দিয়েই শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট ডাবল সেঞ্চুরিটি করেছিলেন।
মুশফিকের পাশাপাশি নিলামে অংশ নিয়েছেন যুব বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক আকবর আলীও। আকবর তার ফাইনালের জার্সি এবং গ্লাভস নিলামে তুলেছেন।
শনিবার রাত ১০টায় ‘স্পোর্টস ফর লাইফ’-এর অফিসিয়াল ফেসবুক পাতায় (https://www.facebook.com/SportsForLifeOfficial/) শুরু হয়েছে তাদের নিলাম। বাকিদের নিলামগুলো এক দিনে শেষ হলেও এটি চলবে চার দিন। আগামী ১৪ মে রাত ১০টা পর্যন্ত স্মারকগুলো থাকবে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান পিকাবুর অফিসিয়াল সাইটে (http://www.pickaboo.com/sportsforlife.html)।
মুশফিকের ব্যাটের ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ টাকা এবং আকবর আলীর বিশ্বকাপ ফাইনালে ব্যবহৃত জার্সি ও গ্লাভসের ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছে ১ লাখ টাকা। এছাড়াও একই প্ল্যাট ফর্মে মোসাদ্দকে হোসেন সৈকতের ব্যাটের ভিত্তিমূল্য ৩ লাখ টাকা, নাঈম শেখের ব্যাটের ভিত্তিমূল্য ১ লাখ টাকা ধরা হয়েছে।
পুরো উদ্যোগটি যৌথভাবে পরিচালনা করছে নিবকো স্পোর্টস ম্যানেজমেন্ট, ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘পিকাবু’ ও বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ব্র্যাক। নিলাম প্রক্রিয়া শুরুর আগে অনলাইন কনফারেন্সের মাধ্যমে নিলামের উদ্বোধন করেছেন মুশফিক ও আকবর। তাই স্পোর্টস ফর লাইফ ফেইসবুক পেজ থেকে লাইভে এসেছিলেন দুজনেই। সেখানেই জানালেন এই ইতিহাস গড়া ব্যাট, জার্সি ও গ্লাভস নিলামে তোলার কারণ।
ইতিহাস গড়া ব্যাটটির সঙ্গে অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে মুশফিকের। স্বাভাবিকভাবেই প্রিয় ব্যাটটি হাতছাড়া হওয়ায় খারাপ লাগতে পারে। কিন্তু মিস্টার ডিপেন্ডেবল বললেন, ‘না, আসলে খারাপ লাগছে না। এটাতে অনেক ভালো লাগছে। এই সময়ে আমার এটা দেওয়ার সৌভাগ্য হচ্ছে, সেজন্যই অনেক ভালো লাগছে। এই সময়ে মানুষের সাহায্যে কাজ করতে পারছি, এতেই সব থেকে বেশি ভালো লাগা কাজ করছে। মানুষ যত বেশি টাকা দিয়ে আমার ব্যাটটা কিনবেন, আমরা তত বেশি মানুষকে সাহায্য করতে পারবো।‘
ব্যাটের নিলাম শেষে প্রাপ্য অর্থের কিছু অংশ যাবে ব্র্যাকে। যা তারা দেশের মানুষের কাজে ব্যবহার করবে। বাকি অংশ মুশফিক নিজে ইচ্ছেমতো সাহায্যের কাজে ব্যয় করবেন, ‘যেটা পরিকল্পনা আছে, তেমন একটা অ্যামাউন্ট পেলে নিজ এলাকার মানুষকে আরও বেশি করে সাহায্য করতে পারবো। একটা পরিবার যেন অন্ততপক্ষে ১ মাস ভালোভাবে থাকতে পারে সেভাবে সাহায্য করবো। যত বেশি দামে বিক্রি হবে, তত বেশি মানুষকে সাহায্য করতে পারবো। এছাড়াও নাজমুল ইসলাম অপু নিজ এলাকায় অনেক মানুষকে সাহায্য করছে, তার সঙ্গেও যুক্ত হওয়ার ইচ্ছা আছে।‘
মুশফিকের সঙ্গে সঙ্গে নিলামে উঠেছে আকবর আলীর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের ফাইনাল জার্সি ও কিপিং গ্লাভস। আকবর তার নিলামের পরিকল্পনা নিয়ে জানান, ‘রংপুরে একটা সংগঠন আছে ‘উই ফর দেম’। ওরা সব সময় অনেক ভালো কাজ করে। আমি এখান থেকে যে অর্থ পাবো, তার পুরোটাই ওদের কাছে চলে যাবে। ওরা কেবল এই করোনাভাইরাসের সময়েই কাজ করছে না, এর আগেও বন্যা কিংবা অন্যান্য সময়েও কাজ করেছে। আর ওরা অনেক গুছিয়ে কাজ করে, যা আমার পক্ষে সম্ভব না। তাই এখান থেকে প্রাপ্য টাকা আমি ওদের দেবো।’








