করোনাভাইরাসের নেতিবাচক প্রভাবটা নিজের চোখেই দেখলেন জাহানারা-রুমানারা। কারণ পেছানো হয়েছে মেয়েদের ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাই। যে বাছাই পর্ব থেকে তিনটি দল ২০২১ সালে নিউজিল্যান্ডে হতে যাওয়া বিশ্বকাপের মূল পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
সূচি অনুযায়ী জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কায় হওয়ার কথা ছিল এই বাছাই। কিন্তু বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারিতে এই সেটি স্থগিত করেছে ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। তবে এই বাছাই পর্ব পিছিয়ে যাওয়াতে কোনও অসুবিধা দেখছেন না নারী দলের দুই ক্রিকেটার রুমানা আহমেদ ও জাহানারা আলম। দেখছেন সুযোগ হিসেবে। কারণ ওয়ানডে বিশ্বকাপে রুমানাদের এখনও খেলার সুযোগ হয়নি। তাই এই বিশ্বকাপকে ঘিরে দলের সবার স্বপ্নটা ছিল আকাশ ছোঁয়া। সেই লক্ষ্যে গত মাসের শুরু থেকেই প্রস্তুতি ক্যাম্পে থাকার কথা ছিল। কিন্তু সংক্রমণ বেড়ে যাওয়াতে স্থবির হয়ে আছে পুরো ক্রীড়াঙ্গন। এই অবস্থায় সূচি অনুযায়ী বাছাই পর্ব অনুষ্ঠিত হলে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ ছিল না। তাই ইভেন্টটি স্থগিত হওয়াতে সেটা আশীর্বাদ হয়েই এসেছে জাহানারাদের সামনে।
ওয়ানডে অধিনায়ক রুমানা যেমন বাংলা ট্রিবিউনকে বললেন, ‘করোনার কারণে বাছাইপর্ব স্থগিত হবে-এমনটা আমরা আগে থেকেই বুঝতে পারছিলাম। তবে যা হয়েছে, আমাদের জন্য ভালোই হয়েছে। এখন আমরা যতটা সম্ভব ঘরে বসেই ফিটনেসটা ধরে রাখতে চেষ্টা করবো। যেন সব ঠিক হলে মাঠের খেলায় কোনও প্রভাব না পরে। এছাড়া নতুন সূচি যখন ঘোষণা করবে, তখন নিশ্চয়ই আমাদের প্রস্তুতির জন্য সময়ও দেবে। সবমিলিয়ে দুশ্চিন্তার কোনও কারণ দেখি না। আশা করছি আমরা যথেষ্ট প্রস্তুতি নিয়েই বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব খেলতে যেতে পারবো।’
বাংলাদেশের জন্য হতাশার বিষয়টি হচ্ছে ওয়ানডে বিশ্বকাপে এখনও তাদের খেলার সুযোগ হয়নি। তাই সামনের আসরকে ঘিরে রুমানার চোখে-মুখে অনেক স্বপ্ন, ‘আমরা প্রত্যেকে ওয়ানডে বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব নিয়ে সচেতন আছি। আমাদের লক্ষ্য একটাই বাছাইপর্ব পার হয়ে বিশ্বকাপ খেলা। গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কিছু ভুল ছিল। সেইসব ওভারকাম করে অধিনায়ক হিসেবে বলতে চাই, আমাদের লক্ষ্য বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করা। আমরা সেই লক্ষ্য নিয়েই মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি।’
জাতীয় দলের পেসার জাহানারা আলমও মনে করেন স্থগিত হওয়াতে এক অর্থে সেটা ভালোই হয়েছে। বাংলা ট্রিবিউনকের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, ‘যেহেতু সার্বিক অবস্থা ভালো নয়, এই কারণে খেলাটা স্থগিত করা হয়েছে। দশটি দল দশটি দেশ থেকে আসবে, পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারতো। আমার মনে হয় বাছাই পর্ব পিছিয়ে যাওয়াতে ভালো হয়েছে। আমি নিশ্চিত, নতুন করে ওরা যখন সূচি ঘোষণা করবে, তখন প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময়ও দেবে। সুতরাং প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য আমরা সময় পাবো। এই মুহূর্তে আসলে খেলার বাইরে থাকাটাই গুরুত্বপূর্ণ।’
করোনা পরিস্থিতিতে ক্রিকেটাররা এখন মাঠের বাইরেই রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে মাঠের বাইরে থাকাতে কিছুটা বিরক্তি জেঁকে ধরেছে জাহানারাকে। মিরপুরের বাসায় গৃহবন্দি হয়ে আছেন। এই সময়টাতে বাসাতে ফিটনেস ঠিক রাখতে যতটা সম্ভব চেষ্টা করছেন। আক্ষেপ নিয়েই বললেন, ‘কতদিন আর এভাবে থাকা যায়, খুব কষ্ট লাগে, ক্রিকেটকে খুব মিস করি। এই অবস্থা না হলে তো আমরা এখন প্রস্তুতিতে থাকতাম। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আমাদের একটি সিরিজ হওয়ার কথা ছিল। বিশ্বকাপ বাছাই পর্ব ঘিরে কত পরিকল্পনা ছিল, কিছুই বাস্তবায়ন করা গেলো না।’








