বিপিএলের তৃতীয় আসর শেষ হয়েছে একদিন আগে। ক্রিকেটাররা এখন যে যার গন্তব্যে ফিরছেন। বাড়ি ফিরছেন আবু হায়দার রনিও। বৃহস্পতিবার দুপুরে বাড়ির পথে রওয়ানা হয়েছেন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের এই নায়ক। সন্ধ্যা নাগাদ তিনি নেত্রকোনায় গ্রামের বাড়িতে পৌঁছাবেন।
গ্রামের বাড়িতে বাবা-মায়ের সান্নিধ্য পেতে অধীর হয়ে আছেন রনি। এর আগেও দীর্ঘ বিরতিতে বাড়ি ফিরেছেন। কিন্তু এবারই ভিন্ন অনুভূতি নিয়ে বাড়ি যাচ্ছেন তিনি। তার দল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স বিপিএলের তৃতীয় আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। বিপিএলে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকার করে তারকাখ্যাতি পেয়েছেন রনি। বাড়ি ফিরছেন চ্যাম্পিয়নের মতোই। নায়ক রনির ফেরার অপেক্ষায় আছেন তার বাবা-মা, ভাই বোনসহ সকল আত্মীয়-স্বজন।
বাড়ি ফিরতে ফিরতে বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে শেয়ার করলেন মনের কথা। কেমন লাগছে এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘খুবই ভালো লাগছে। এমন অনুভূতি নিয়ে আগে কখনও বাড়ি ফিরিনি। কখন পৌঁছাব এটা নিয়ে অস্থির লাগছে। নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারের সেরা মুহূর্ত সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘দলের সবাইকে অবশ্য মিস করছি। প্রায় এক মাস আমরা একটা পরিবার হয়ে ছিলাম। এমন একটি দলের সদস্য হতে পেরে খুব ভালো লাগছে। আপাতত কয়েকটা দিন ক্রিকেটকে ছুটি দিব।’
কুমিল্লার অধিনায়ক মাশরাফি ইতিমধ্যে নড়াইলে অবস্থান করছেন। কিছুদিনের মধ্যেই মাশরাফি পরিবার নিয়ে বিদেশ ভ্রমণে যাবেন। নিজবাড়ি দিনাজপুরে ফিরছেন লিটন দাসও।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) তৃতীয় আসরে বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মধ্যে উজ্জ্বল পারফরম্যান্স করেছেন নেত্রকোনার ছেলে আবু হায়দার রনি। তার পারফরম্যান্স মুগ্ধ করেছে সাবেক ও বর্তমান অনেক ক্রিকেটারকে। পুরো বিপিএল জুড়েই প্রশংসা কুড়িয়েছেন আবু হায়দার রনি। ফাইনালের দুই অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মাশরাফি বিন মর্তুজাও প্রশংসার জোয়ারে ভাসিয়েছেন তাকে।
চলতি আসরে রনি ২১ উইকেট নিয়ে তার আগমনী বার্তা জানান দিয়েছেন ক্রিকেট সংশ্লিষ্টদের। আগামী বছরের শুরুতেই ঘরের মাঠে এশিয়া কাপ। যা অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। এছাড়া মার্চ-এপ্রিলে ভারতে অনুষ্ঠিত হবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। গুরুত্বপূর্ণ এই টুর্নামেন্টে সুযোগ পাবেন কিনা এর জন্য তাকিয়ে থাকতে হবে নির্বাচকদের দিকে।
নির্বাচক ফারুক আহমেদ খুব কাছ থেকে দেখেছেন আবু হায়দার রনিকে। সেখানে তরুন এই পেসারের বোলিং মন কেড়েছে তার। তার মতে, তরুন অনেক ক্রিকেটারই তাদের নজরে আছে। যারা ভালো পারফরম্যান্স করেছে তাদের জন্য জাতীয় দলের দরজা সব সময় খোলা রয়েছে। হয়তো কোনও এক ফরম্যাটে খুব শিগগিরই দেখা যাবে রনিকে।
রনি অবশ্য এইসব নিয়ে একদমই ভাবছেন না। কেননা তার মতে এখনই এগুলো নিয়ে ভাবার সময় আসেনি। কেবলতো শুরু! ধীরে চলো নীতিতে বিশ্বাসী রনি বলেন, ‘এইসবতো আমার হাতে নেই। আমি যেখানেই খেলবো শুধু তাই পারফরম্যান্স করতে। এরপর নির্বাচকরা সুযোগ দিলে, তাদের আস্থার প্রতিদান অবশ্যই দেব।
/আরআই/এমআর/








