সামনেই ইংল্যান্ড সফর করবে পাকিস্তান। দুই বোর্ডের আলোচনা অনুসারেই পাকিস্তানের অনুশীলন ক্যাম্পটি হওয়ার কথা ছিল ‘জীবাণু সুরক্ষিত’ পরিবেশে। কিন্তু পাকিস্তানে করোনা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ায় বাতিল করা হয়েছে সেই ক্যাম্প!
মঙ্গলবার পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) বিবৃতি থেকেই ইঙ্গিত মিলেছে, এই পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশে রাখাটা তাদের জন্য চ্যালেঞ্জিং। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের জন্য পুরোপুরি নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করাটা কঠিনই হয়ে যেত তাদের জন্য।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জুলাইয়ের প্রথম সপ্তাহেই পাকিস্তানের ইংল্যান্ডে উড়ে যাওয়ার কথা। যদিও সেখানে পৌঁছানোর পর পর চার সপ্তাহ কোয়ারেন্টিন ও অনুশীলনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তাই দুই বোর্ড আলোচনা করছে, সফরের সময়টি যেন আরও এক সপ্তাহ এগিয়ে আনা হয়। যুক্তরাজ্য সরকারের বর্তমান বিধিনিষেধই হলো, দেশের বাইরে থেকে কেউ এলে, তাকে বাধ্যতামূলক ১৪ দিনের কোয়ারেন্টিনে যেতে হবে।
এ জন্যই পিসিবির পরিকল্পনা ছিল লাহোরের একাডেমি ও গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে সফরের আগে একটি আবাসিক ক্যাম্প করতে। সেখানে ২৫ সদস্যের দলকেই পুরোপুরি আবাসিকভাবে জনবিচ্ছিন্ন করে অনুশীলন ক্যাম্পের পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
কিন্তু সেখানে মূল সমস্যাটি হচ্ছে, একাডেমিতে এত বিশাল বহরকে আবাসিক সুবিধা দেওয়ার মতো ব্যবস্থা তাদের নেই। তার পরেও পিসিবি চেয়েছিল অনুশীলন থেকে ৮ কি.মি দূরে একটি পাঁচ তারকা হোটেলে দলটিকে রেখে দেওয়ার জন্য। কিন্তু পাকিস্তানে দিন দিন করোনা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় লকডাউন ভেঙে খেলোয়াড়দের বাইরে রাখার বিষয়টিতে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তাদের উদ্বেগ এই জায়গাতে যে, এই পরিস্থিতিতে পরিবেশটি পুরোপুরি জীবাণু সুরক্ষিত রাখা যাবে কিনা। একই সঙ্গে খেলোয়াড়দের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে তারা সক্ষম হবে কিনা। এতসব ঝামেলার কারণে লাহোরের এই ক্যাম্প বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পিসিবি।
সম্প্রতি পাকিস্তানে লকডাউন শিথিল করা হলেও করোনা পরিস্থিতি খুবই খারাপ হয়ে গেছে সেখানে। এখন পর্যন্ত আক্রান্ত পাওয়া গেছে ১ লাখের বেশি। ভাইরাসটিতে মারা গেছেন ২ হাজারেরও বেশি মানুষ। ব্যবসা বাণিজ্য ও অনেকগুলো কলকারখানা খুলে দেওয়া হলেও সেখানে বন্ধ রয়েছে সবধরনের স্পর্শযোগ্য খেলাধুলা। বন্ধ রাখা হয়েছে ইনডোর স্পোর্টস ক্লাব, ইনডোর জিমসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা।








