ক্ষোভ অনেকটাই কমে গেছে ড্যারেন স্যামির। সাবেক ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক আর অনঢ় হয়ে বসে নেই যে সানরাইজার্স হায়দরাবাদে যে সতীর্থ তাকে ‘কালু’ নামে ডেকেছিল তাকে ক্ষমা চাইতে হবে। কারণ হলো সংশ্লিষ্ট ক্রিকেটারটি তার সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে হৃদয়ের ভালোবাসা থেকেই এটি হয়েছে। এটার মধ্যে অন্যকিছু নেই। গায়ের রংয়ের দিকে ইঙ্গিত করে বৈষম্যমূলক আচরণ তার সঙ্গে করা হয়নি।
২০১৩ ও ২০১৪ সালে স্যামি যখন ভারতের টি-টোয়েন্টি লিগ সানরাইজার্স দলে খেলেন, তখন তাকে সহখেলোয়াড়েরা ‘কালু’ নামে ডাকতেন। তখন তিনি শব্দটির প্রকৃত অর্থ জানতেন না। মনে করতেন তাকে হয়তো সতীর্থরা বলশালী ঘোড়ার সঙ্গে তুলনা করে। তিনি মজাই পেতেন। কিন্তু ছয় বছর পর এই সেদিন ভারতীয় স্ট্যান্ড আপ কমেডিয়ান হাসান মিনহাজের একটি টেলিভিশন শো দেখে বুঝতে পারেন ‘কালু’ মানে কালো মানুষ যা অপমানসূচক দৃষ্টিভঙ্গিতেই কাউকে বলা হয়। এতে ক্ষুব্ধ হন ২০১২ ও ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে শিরোপা জেতানো অধিনায়ক এই সপ্তাহের প্রথম দিকে ওই সতীর্থদের ক্ষমা চাইতে বলেন তার কাছে।
ওই ক্রিকেটারের কথা হওয়ার পর স্যামির মনটা একেবারেই গলে গেছে, টুইট করে জানিয়েছেন, ‘আমি আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে ওদের একজনের সঙ্গে আমার খুবই চমৎকার কথাবার্তা হয়েছে এবং আমরা এখন নেতিবাচক দিকে তাকানোর চেয়ে মানুষকে এ ব্যাপারে কীভাবে শিক্ষা দেওয়া যায় সেটা নিয়ে ভাবছি। আমার ভাই আমাকে আশ্বস্ত করেছে যে সে ভালোবাসা থেকেই আমার সঙ্গে ওরকম করেছে এবং আমি তাকে বিশ্বাস করি।’
বিষয়টি নিয়ে ইএসপিএন-ক্রিকইনফোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্যামি বলেছেন, ‘ঘটে যাওয়ার অনেক পরে ক্ষমা চাওয়া, এটা আমার করা উচিত হয়নি। যদি আমি বা আমার কোনও সতীর্থ কোনও কিছু করে ফেলি যা আসলে ইচ্ছাকৃত নয়, তাই এখন আমার উপলব্ধি হচ্ছে, ওটা করলে আমার সতীর্থকে কষ্ট দেওয়া হতো।’
এতকিছু পরেও স্যামি কিন্তু তার সাবেক ওই সতীর্থের নাম প্রকাশ করেননি। তবে অনেকেই ধরে নিচ্ছেন ওই ক্রিকেটারটি হতে পারেন ইশান্ত শর্মা। গত মঙ্গলবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইশান্তের একটি পুরোনো ইনস্টাগ্রাম পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। তাতে ইশান্তের সঙ্গে স্যামি, ডেল স্টেইন এবং ভুবনেশ্বর কুমারকে দেখা যায়। ছবিটির ক্যাপশনে লেখা: আমি, ভুবি, কালু ও গান রাইজার্স।
ইশান্তের এই পোস্ট দেখে সমালোচনার বান ছুটেছে। কিন্তু ভারতীয় পেসার নীরব। একটি কথাও বলেননি কোথাও।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মিনিয়াপোলিসে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের নির্যাতনে জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ নাগরিক নির্মম মৃত্যুর পর বিশ্বজুড়ে আবার তোলপাড় তুলেছে বর্ণবাদ। আন্দোলন চলছে দেশে দেশে, বর্ণবাদের বিরুদ্ধে ছড়িয়ে পড়েছে ঘৃণা। অনেক কৃষ্ণাঙ্গ ক্রীড়াবিদ ও পেশাজীবী সরব হয়েছেন বর্ণবাদের বিরুদ্ধে।








