করোনাভাইরাস সৃষ্ট আর্থিক সংকটের বলি হয়ে গত মঙ্গলবার বিদায় নিতে হয়েছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কেভিন রবারর্টসকে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটির প্রধান নির্বাহী নিক হকলিকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধান নির্বাহী (সিইও) নিয়োগ করেছে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া। আইসিসির সাবেক অস্ট্রেলীয় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ম্যালকম স্পিড মনে করেন, শীর্ষ কর্মকর্তার আস্থা ও সম্মানটা হারিয়ে ফেলাতেই পদত্যাগ করতে হয়েছে কেভিন রবার্টসকে। তার কাছে এটাও মনে হচ্ছে, নতুন প্রধান নির্বাহী যেন এক আনকোরা অফ-স্পিনার যে তার প্রথম ওভারেই মুখোমুখি হচ্ছে সময়ের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান ভারতের বিরাট কোহলির।
কেভিন রবার্টস সম্পর্কে স্পিড এসইএন রেডিওকে বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয়েছে তিনি (রবার্টস) খেলোয়াড়দের সম্মান ও শ্রদ্ধা হারিয়ে ফেলেছিলেন। একবার আমাকে এক গুরুজন বলেছিলেন, “সম্মান ও শ্রদ্ধা হলো সতীত্বের মতো, যখন আপনি একবার হারাবেন তা আর ফিরে পাবেন না”।’
২০১৭ সালে একবার বেতন কাঠামো নিয়ে বিতর্কে জড়িয়ে খেলোয়াড়দের তোপের মুখে পড়েছিলেন কেভিন রবার্টস, শেষ তিনটি মাস তো করোনাভাইরাসের কারণে গেছে খুবই কঠিন। নতুন প্রধান নির্বাহী হকলির সামনেও কঠিন এক পথ, সব অংশীজন, রাজ্য সংস্থা ও খেলোয়াড়দের আস্থার সম্পর্কটা তাকে ফিরিয়ে আনতে হবে। এই সংকটের মধ্যেও ভাবতে হচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আয়োজনের কথা। স্পিড খুবই কঠিন সময়ের মুখোমুখি দেখছেন হকলিকে, ‘এর চেয়ে খারাপ সময় আর হয় না। এ যেন আনকোরা এক অফ-স্পিনার তার প্রথম ওভার বোলিং করতে যাচ্ছেন বিরাট কোহলিকে। নিক হকলিকে আমি চিনি না, নিশ্চয়ই তিনি ক্রিকেটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কিছু সময় ধরে। তবে তার সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ। কোভিড-১৯ মহামারির ১৫ রাউন্ডের মাত্র ষষ্ঠ রাউন্ডে আছি আমরা।’
কেভিন রবার্টস বোর্ডের ৮০ ভাগ কর্মচারীকে ২০ শতাংশ বেতন দিয়ে বিদায় করে সমালোচিত হয়েছেন। রাজ্য ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনগুলোর বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছিলেন, আবার খেলোয়াড়দের নতুন বেতন কাঠামো নিয়েও কাজ করছিলেন। স্পিড মনে করেন বিষয়গুলো আরও ভালোভাবে সামলানো যেতো, ‘একজন প্রধান নির্বাহী হঠাৎ করেই বলতে পারেন না ৮০ ভাগ কর্মীকে আমি ২০ শতাংশ বেতন দেবো। এটা অবশ্যই বোর্ডের মাধ্যমে হতে হবে।’
এদিকে সাবেক অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক অ্যালান বোর্ডার শুধু রবার্টসকেই দোষ দিতে রাজি নন, আর্থিক সংকট ভালোভাবে সামলাতে বোর্ডেরও দায় দেখেন।








