যুব বিশ্বকাপের সাফল্য নিয়েই বড়দের মঞ্চ মাতানোর স্বপ্ন এঁকেছিলেন তানজিম হাসান সাকিব। কিন্তু করোনার কারণে সেসব এখন দূর দিগন্তের অস্ত! যুব দলের এই পেসার মনে করেন, বিশ্বকাপ জিতে যে রোমাঞ্চ সঙ্গী হয়েছিল সবার, সেখানে এখন ভাটার টান! এখন মাঠে ফিরে ক্রিকেটের সেই রোমাঞ্চে জোয়ার আনাই আসল লক্ষ্য তার সামনে।
বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্য জুনিয়র সাকিবের আবাহনীর জার্সিতে প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ খেলার কথা ছিল। কিন্তু করোনার মহামারিতে খেলাতো দূরের কথা, এক প্রকার গৃহবন্দি হয়েই দিন পার করছেন অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী দলের এই পেসার।
অথচ ভারতের বিপক্ষে যুব বিশ্বকাপের ফাইনালে বোলিংয়ে অসাধারণ ধার ছিল তার। ৮.২ ওভারে ২৮ রান খরচায় নিয়েছেন দুটি উইকেট। শুধু ফাইনালেই নয়, পুরো টুর্নামেন্টেই ছন্দময় বোলিং করে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ট্রফির খরা ঘুচাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছেন। বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে জুনিয়র সাকিব বলেছেন সেই ধারে এখন মরচে পড়েছে তার, ‘ক্ষতিতো কিছুটা হয়েছে। খেলার বাইরে থাকা মানেই ক্রিকেটারদের জন্য ক্ষতি। এছাড়া আমাদের পুরো দলটিকে নিয়ে অনুশীলন ক্যাম্প হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে হয়নি। সবমিলিয়ে তাই ক্ষতিই বলা চলে।’
বিশ্বকাপ থেকে ফিরে অল্প কিছুদিনের মধ্যেই প্রিমিয়ার লিগের প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছিল। সেই লক্ষ্যে বিকেএসপির এই ক্রিকেটার নাম লেখান ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনীতে। তখন বিশ্বকাপ জয়ের রোমাঞ্চ সঙ্গী থাকায় বড়দের ক্রিকেটও মাতানোর স্বপ্ন ছিল সাকিবের। এখন পরিস্থিতি যেমন, তাতে সেই স্বপ্ন এখনও স্বপ্নই, ‘বিশ্বকাপ থেকে আসার পর একটা মোটিভেশন কাজ করছিল। রোমাঞ্চিত ছিলাম, লিগে বিশেষ কিছু করবো। বিশ্বকাপের পর পর প্রিমিয়ার লিগটা খেলতে পারলে সবমিলিয়ে দারুণ কিছু হতো। রোমাঞ্চ নিয়ে খেলতে পারলে খেলাটা হয়তো ভালো হতো। এই মুহূর্তে অনাকাঙ্ক্ষিত একটা কারণে আমরা মাঠের বাইরে। একজন ক্রিকেটার হিসেবে মাঠের বাইরে থাকাটা সব সময়ই কষ্টের। এই কষ্টটা দিন দিন আরও বাড়ছে।’
যদিও তার আশা, মাঠের খেলা শুরুর আগে ক্রিকেটারদের প্রস্তুতি নেওয়ার যথেষ্ট সুযোগ দেবে বিসিবি, ‘তবে আমার মনে হয় না করোনা যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খেলা শুরু হবে। আমাদের প্রস্তুতির জন্য বিসিবি কিছুদিনের জন্য হলেও হয়তো সময় দেবে। ওই সময়টাতে চেষ্টা করবো আগের মতো মোটিভেশন ফিরিয়ে আনতে।’
এই মুহূর্তে মাঠের বাইরে থাকলেও সাকিব একেবারে বসে নেই। ফিটনেস নিয়ে কাজ করার পাশাপাশি বোলিংয়ের কিছু বিষয় নিয়েও কাজ করছেন, ‘আমার যেসব ভুলগুলো আছে, সেগুলো নিয়ে কাজ করছি। আমাদের নির্বাচক নাজমুল হোসেন শান্ত, আমাদের কোচ জাকি স্যার বলেছিলেন আমার বোলিংয়ের কিছু বিষয় সংশোধন করতে হবে। আমি বাসায় বসে পুরনো ভিডিওগুলো দেখে সেগুলো শোধরাতে চেষ্টা করছি। সামনে যখন স্কিল অনুশীলনের সুযোগ আসবে, তখন চেষ্টা করবো ভুলগুলো সংশোধন করে নিতে।’








