২০১৭ আইসিসি চ্যাম্পিয়নস ট্রফির ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে বিধ্বংসী জয়ের তিন বছর পূ্র্তি স্মরণ করলো পাকিস্তান ১৮ জুন, বৃহস্পতিবার। পাকিস্তানের ওই বিজয়ী দলের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদের স্মৃতির মণিকোঠায় চিরদিন থাকবে এই দিনটি, দিনটিকে কখনও ভুলতে পারবেন না তিনি, ‘অনেক দিন পর কোনও বড় টুর্নামেন্টে পাকিস্তান ভারতের বিপক্ষে জেতে, যে ভারত দলটি খুবই শক্তিশালী। সুতরাং পাকিস্তানের প্রতিটি মানুষ ছিল খুব খুশি। আর আমার জন্য, এমনকি আমার পরিবারের সবার কাছে ১৮ জুন তারিখটি চিরদিন মনে রাখার মতো। নিশ্চয়ই কারো পক্ষে এটি ভোলা সম্ভব নয়।’
চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের তৃতীয় বর্ষ পূর্তিতে ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকট্র্যাকারকে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন সরফরাজ আহমেদ। সেই সাক্ষাৎকারে অবশ্য যতটা না উচ্ছ্বাসের সঙ্গে জয়ের স্মৃতি রোমন্থন করেছেন তার চেয়ে বেশি হতাশা নিয়ে কথা বলেছেন ভারত–পাকিস্তান দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সম্পর্ক ছিন্ন থাকায়। পাকিস্তানের উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান অবশ্য আশাবাদী যে শিগগিরিই কোনও এক সময় সম্পর্কটি আবার জোড়া লাগবে।
তবে ঠিক এই মুহূর্তে সরফরাজের কাছে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ মনে হচ্ছে। বিশেষ করে পাকিস্তানি অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদি সম্প্রতি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে বিতর্কিত মন্তব্য করে ভারতের ক্রিকেট সমাজকে খেপিয়ে তোলার পর। আর এ কারণেই হরভজন, যুবরাজ সিংয়ের মতো ভারতীয় ক্রিকেটার, যারা আফ্রিদির ফাউন্ডেশনের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল একসময়, তারাই তার সঙ্গে সম্পর্ক রাখেননি।
তবে সরফরাজ জানেন ভারত ও পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের মধ্যে আদতে সম্পর্ক কত উষ্ণ, এ নিয়েই তার অক্ষেপ যে কেন আগের মতো তা আর হচ্ছে না। ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফি জয়ের পরই তো দেখেছেন দুই দলের খেলোয়াড়েরা একসঙ্গে আনন্দ করেছে, একসঙ্গে মেতে উঠেছে হাসি-ঠাট্টায়। এমন সম্পর্ক আগে থেকেই ছিল, সরফরাজ স্মরণ করেছেন ১৩-১৪ বছর আগের কথা, ‘ আমি যখন ২০০৭ সালে ভারতে গেছি বা ভারত দল ২০০৮ সালে পাকিস্তানে এসেছে, দুই দলের খেলোয়াড়দের একসঙ্গে বসে খেতে বসেছি। কিন্তু এখন দুর্ভাগ্যজনকভাবে এমন এক পরিস্থিতি যে দুই দল আর পরস্পরের সঙ্গে খেলতে পারছে না। তবে আশা করি পরিস্থিতির উন্নতি হবে এবং সেই আগের মতোই ভারত-পাকিস্তান আবার ক্রিকেট খেলবে।’
ভারত-পাকিস্তান সিরিজ আবার শুরু হওয়াটা বিশ্ব ক্রিকেটের জন্যই খুব দরকার বলে মনে করেন সরফরাজ। কারণ এ দুটি দল পৃথিবীর যেকোনও প্রান্তে যখনই মুখোমুখি হোক, একটা রোমাঞ্চ ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৭ চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেই যেমন হয়েছে। টুর্নামেন্টে ভারতের কাছে প্রথমে বিধ্বস্ত হয় পাকিস্তান। পরে শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে তারা ঘুরে দাঁড়ায় এবং ফাইনালে ওঠার পথে হারায় ইংল্যান্ডকে।
‘আপনারা জানেন ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ কেমন। সে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ হোক, বা কোনও টুর্নামেন্টে, দুই দেশের মানুষই এ ম্যাচ নিয়ে উত্তেজিত থাকে। এশিয়া কাপের সময় শিখর ধাওয়ানের সঙ্গে দুবাইয়ের একটি অনুষ্ঠানে আমার সঙ্গে দেখা হয়েছিল শিখর ধাওয়ানের, আমাদের দুজনেরই উপলব্ধি ছিল একইরকম। আমাদের দিক থেকে আমরা চাই ভারতকে হারাতে, আবার ভারতও চায় পাকিস্তানের বিপক্ষে জিততে। জনতা সবসময়ই প্রত্যাশা করে থাকে যে আমরা ভারতের সঙ্গে জিততে। এই অনুভূতিটা অসাধারণ’- বলেছেন অধিনায়কত্ব হারিয়ে পাকিস্তান দল থেকেও বাদ পড়া ৩৩ বছর বয়সী ক্রিকেটার।








