বাংলাদেশের বাঁহাতি স্পিনের পথিকৃৎ বলা হয় রামচাঁদ গোয়ালাকে। তার এই দেখানো পথ ধরে পরবর্তীকালে বাঁহাতি স্পিন দিয়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটে জয়ের পতাকা উড়িয়েছেনে এনামুল হক, মোহাম্মদ রফিক, এনামুল হক জুনিয়র, আবদুর রাজ্জাক, সাকিব আল হাসানের মতো খেলোয়াড়েরা। ক্রিকেটে বাংলাদেশের সাফল্যে বাঁহাতি স্পিনারদের অবদান অবিস্মরণীয়।
অথচ যে বাঁহাতি স্পিনার প্রজন্মের পর প্রজন্মকে বাঁহাতি স্পিনার হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন সেই রামচাঁদ গোয়ালা বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিসিবির স্মরণের আলোয় যে প্রবলভাবে ছিলেন তা নয়। মৃত্যুর পর শোকবার্তা জানানোর আগে একবারই তার খবর নিয়েছিল বিসিবি। অসুস্থ রামচাঁদকে কিছু আর্থিক সহযোগিতা করেছিল।
তবে বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা রামচাঁদকে ভোলেননি। যারা তার সঙ্গে খেলেছেন, যারা তাকে খেলতে দেখেছেন, সবাই বেদনাবিধূর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাঠানো তাদের শোকবার্তাগুলো শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় ভরা।
যারা রামচাঁদ গোয়ালার খেলা দেখেননি, এমনকি সরাসরি তাকেই কখনও দেখেননি, সেই বর্তমান প্রজন্মের ক্রিকেটাররাও শ্রদ্ধাবনত চিত্তে স্মরণ করেছেন রামচাঁদকে। এখানেই যেন বাংলাদেশের ক্রিকেট সমাজের একটা আলোকিত দিক উন্মোচিত হয়। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় নির্মিত ক্রিকেট পরম্পরা আরও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন আঁকে।
বাংলাদেশের ক্রিকেটাঙ্গনকে শোকার্ত করে দিয়ে শুক্রবার অনন্তলোকে পাড়ি জমানো রামচাঁদকে স্মরণ করেছেন বাংলাদেশের হয়ে বাঁহাতি স্পিনে সবচেয়ে বেশি উইকেট পাওয়া সাকিব আল হাসান। সাবেক বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ফেসবুকে আবেগময় এক বার্তায় লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ ক্রিকেটের সূচনালগ্নের অন্যতম পথিকৃৎ রামচাঁদ গোয়ালা গতকাল আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। বাংলাদেশ ক্রিকেটের কঠিন সময়ের একজন যোদ্ধা হিসেবে তিনি আজীবন আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন কিংবদন্তি হয়ে। তাঁর শোকাহত পরিবারের সদস্যদের প্রতি রইলো আমার গভীর সমবেদনা।’
রামচাঁদ ১৯৬০ সালের দিকে ক্রিকেট খেলার নেশায় ঢাকায় পাড়ি জমান। এরপর ঢাকার ক্লাব ক্রিকেট রাঙিয়েছেন। খেলেছেন ভিক্টোরিয়া, মোহামেডান ও আবাহনীর মতো ক্লাবে। তিনি হয়ে উঠেছিলেন আবাহনীর প্রতীক, ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটিতে খেলেছেন আশির দশকের শুরু থেকে নব্বইয়ের দশকের শুরু পর্যন্ত। ১৯৯৩ সালে আবাহনী ছেড়ে ময়মনসিংহের পন্ডিতপাড়া ক্লাবে ফিরে আসেন। সেখানে তিন বছর খেলে অবসরে যান। জাতীয় দলের জার্সিতেও তিনি খেলেছেন, কিন্তু আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার সৌভাগ্য হয়নি। ক্রিকেটকে ভালোবেসে থেকে গেছেন অকৃতদার, সঙ্গীহীন জীবন কাটিয়েছেন। বাংলাদেশের ক্রিকেটকে অনেক কিছু দিয়েও আড়ালেই থেকেছেন সবসময়। যেখান থেকে ক্রিকেট জীবন শুরু করেছিলেন, সেই ময়মনসিংহের সার্কিট হাউজ মাঠই ছিল তার জীবনের শেষ দিনগুলোর ঠিকানা।








