হঠাৎ করেই সব ধরনের ক্রিকেট থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন নিউজিল্যান্ড ক্রিকেট দলের অধিনায়ক ব্রেন্ডন ম্যাককালাম। জানিয়ে দিয়েছেন আগামী বছর ফেব্রুয়ারিতে ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজের পরই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসরে যাবেন তিনি। ফলে তাকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাচ্ছে না কিউইরা।
ব্যাট হাতে ফর্মের তুঙ্গে ছিলেন। দলও দুর্দান্ত খেলছিল, নিঃসন্দেহে আরও কয়েকটা বছর ২২ গজে প্রতাপের সঙ্গে প্রতিপক্ষকে শাসাতে পারতেন কিন্তু তারপরও ম্যাককালামের অবসরের ঘোষণা কিউই ক্রিকেটের জন্য আকস্মিক আঘাতই বটে।
মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবেই অবসরের ঘোষণা দেন ম্যাককালাম। অবসরের কারণ হিসেবে তিনি জানান, পরিবার-স্বজনদের সঙ্গে আরও কিছুটা বাড়তি সময় কাটানোর জন্যও অবসর নিচ্ছেন তিনি। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা দীর্ঘদিন ধরে ভোগাতে থাকা পিঠের ব্যথা তাকে এমন সিদ্ধান্ত নিতে প্রভাবিত করেছে।
ফেব্রুয়ারি তো বেশ দেরি। ঘোষণা কি পরেও দেওয়া যেত না? এমন এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, 'আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আমি খেলছি না। সেটা নিয়ে যাতে কোনও ভুল বোঝাবুঝি তৈরি না হয় তাই এই আগাম ঘোষণা।' বলে গেলে কিউইদের ভবিষ্যৎ নেতার কথাও। তার মতে, কেন উইলিয়ামসন যোগ্য নেতা। তিনি নিউজিল্যান্ডকে এগিয়ে নিয়ে যাবেন।
অবসরের মাঠ হিসেবে ক্রাইস্ট চার্চকে বেছে নিয়েও রোমাঞ্চিত ম্যাককালাম। ওই শহরে জন্ম নেন তিনি। তাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর উপলক্ষ হিসেবে ঘরের মাঠকেই বেছে নিয়েছেন ম্যাককালাম।
তিনি বলেন, নিউজিল্যান্ড দলে খেলতে পারাটা সত্যি অন্যরকম ব্যাপার। নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি আমি। সতীর্থ-সমর্থক-পরিবারের সকলের নিকট কৃতজ্ঞ আমি।
আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ম্যাককালামের অভিষেক ২০০২ সালের ১৭ জানুয়ারি। একদিনের ক্রিকেটে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিডনিতে। ক্যারিয়ারে খেলেছেন ২৫৪টি ওয়ানডে ম্যাচে। তাতে ৫ সেঞ্চুরি ও ৩১ ফিফটিতে ৫,৯০৯ রান। সর্বোচ্চ ১৬৬ রান। ৩০.৩০ গড়ে তার স্ট্রাইক রেট ৯৫.০৩।
২০০৪ সালের ১০ মার্চ হ্যামিল্টনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে প্রথমবার নেমেছিলেন সাদা পোশাকে। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে পরে নিউজিল্যান্ডের পক্ষে টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ৩০২ রানের ইনিংসটি খেলেছেন। ৯৯ টেস্ট ১১ সেঞ্চুরি আর ৩১ ফিফটিতে রান ৬,২৭২। গড় ৩৮.৪৮।
২০০৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি, ইতিহাসের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে অভিষেক ম্যাককালামের। পরে ৭১টি টি-টুয়েন্টি ম্যাচে খেলে ২ সেঞ্চুরি ১৩ ফিফটিতে সর্বোচ্চ ৯১ ছয়ের রেকর্ডের সাথে ২,১৪০ রান করেছেন। প্রথম শ্রেণি, লিস্ট-এ এবং টি-টোয়েন্টি লিগগুলো মিলিয়ে আরও ২২ হাজারের ওপর রান সংগ্রহ করেছেন তিনি। রেখে যাচ্ছেন দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলার স্মৃতিও!
/এমআর/








