কাউকে কোনও দায়িত্ব দিয়ে যদি তা কেড়ে নেওয়া হয়, অখুশি তিনি হবেনই। যেমন অস্ট্রেলিয়ার উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারি। অস্ট্রেলিয়ার সীমিত ওভারের দলের সহঅধিনায়ক পদ থেকে বাদ পড়ে মন খারাপ না হওয়ার কোনও কারণ নেই ক্যারির।
২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়া দলের কোচ হওয়ার পর জাস্টিন ল্যাঙ্গার নেতৃত্বের নতুন এক মডেল চালু করেন। সাদা বলের ক্রিকেট, মানে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে সহঅধিনায়ক করেন দুজনকে। অ্যারন ফিঞ্চ অধিনায়ক, তার দুই সঅধিনায়ক করা হয় অ্যালেক্স ক্যারি ও প্যাট কামিন্সকে। আগামী মাসে ইংল্যান্ডে তিনটি করে ওয়ানডে ও টি-২০ ম্যাচ খেলতে যাওয়া অস্ট্রেলিয়ার সহঅধিনায়ক পদ থেকে ক্যারিকে বাদ দিয়ে রাখা হয়েছে শুধু কামিন্সকে। গত সপ্তাহে ফিঞ্চ এটি ক্যারিকে জানিয়ে দিয়েছেন। তাকে বলা হয়েছে অস্ট্রেলিয়া আবার সেই পুরোনো পদ্ধতিতে ফিরে যাচ্ছে, যেখানে অধিনায়কের ডেপুটি থাকবে একজনই।
মন খারাপ হলেও ক্যারি বিষয়টি মেনে নিয়েছেন। ২৮ বছর বয়সী উইকেটকিপার ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ওয়েবসাইট ক্রিকেট ডট কম ডট এইউকে বলেছেন, ‘এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আমাকে পরিষ্কার করে বুঝিয়ে বলা হয়েছে। এ অবস্থায় আপনার খারাপ লাগা স্বাভাবিক। তবে আমি কৃতজ্ঞ, আর সবাইকে ধন্যবাদ জানাই এ জন্য যে গত ২৪ মাস ধরে এমন একটি ভূমিকায় কাজ করার সুযোগ আমি পেয়েছিলাম।’
সহঅধিনায়ক হিসেবে প্যাট কামিন্সের প্রশংসা করে ক্যারি বলেছেন যে দলে এমন কিছু সিনিয়র খেলোয়াড় আছেন, যাদের উপস্থিতি অধিনায়ক ও সহঅধিনায়কের নেতৃত্বের আলাদা মাহাত্ম্য বুঝতেই দেয় না, ‘প্যাট কামিন্স দুর্দান্ত একজন নেতা, ঠিক যেমন অ্যারন ফিঞ্চ। এই দলের মধ্যে ডেভিড ওয়ার্নার, স্টিভ স্মিথ, গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের মতো এমন সব সিনিয়র খেলোয়াড় ও মাথা রয়েছে যে আমাদের শুধু একজন বা দুজন মানুষের ওপর নির্ভর করে থাকতে হয় না।’
ক্যারির অবশ্য অধিনায়কত্ব করতে ভালোই লাগে। আগে অ্যাডিলেড স্ট্রাইকার্স এবং রেডব্যাকসের অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। ভবিষ্যতে আবারও যে সুযোগ আসবে না কে বলতে পারে! তবে ছয় মাস পর আবারো প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে ফিরতে যাচ্ছেন ভেবে রোমাঞ্চিত তিনি, ‘এই সফরে যাওয়ার জন্য রোমাঞ্চিত আমি, ছয় মাস হয়ে গেল আমরা কোনও ক্রিকেট খেলিনি। মাঠে আমি আমার সেরাটা দেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছি।’
মার্চের মাঝামাঝি করোনাভাইরাস মহামারি সারা বিশ্বের ক্রিকেট স্থবির করে দেওয়ার পর এই প্রথম ক্রিকেট খেলবে অস্ট্রেলিয়া। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইংল্যান্ডের সঙ্গে ইংল্যান্ডে তিনটি ওয়ানডে ও তিনটি টি-২০ ম্যাচ খেলবে তারা ৪ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।








