বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলে অনেকদিন ধরেই বিদেশি খেলোয়াড়ের দাপট। মৌসুম শুরুর আগে বিদেশি খেলোয়াড় কোটা কমানো-বাড়ানো নিয়ে দেনদরবার চলে। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি,কথা উঠেছে যথারীতি। তবে করোনাকালীন এই কঠিন সময়ে অনেক ক্লাবই বিদেশি খেলোয়াড়মুক্ত ফুটবল মৌসুম চাইছে। এ নিয়ে ক্লাবগুলো কিছুটা দ্বিধাবিভক্ত। মাঠের খেলায় বিদেশি খেলোয়াড় থাকা না-থাকা নিয়ে অনেকেই নানান যুক্তি দিচ্ছেন। বাংলা ট্রিবিউনের ধারাবাহিক এই আয়োজনে আজ থাকছে জাতীয় দলের স্ট্রাইকার নাবীব নেওয়াজ জীবনের মূল্যায়ন-
নাবীব নেওয়াজ জীবনের জীবনে বড় আক্ষেপ, জাতীয় দলে মূল স্ট্রাইকার, কিন্তু ক্লাব দলে মূল স্ট্রাইকারের পেছনে। আগেও অনেকবার বলেছেন এ নিয়ে, আবারও বললেন,‘সত্যি বলতে কী আমি আমার নিজের আসল পজিসনে খেলতে পারছি না। আমি মূলত স্ট্রাইকার। অথচ খেলতে হয় নাম্বার ১০ হিসেবে! প্রতিটা দলে স্ট্রাইকার পজিশনে বিদেশি ফুটবলার। কয়টা ক্লাবে দেশি স্ট্রাইকার খেলে বলেন তো? যে কারণে সেভাবে ভালো পারফরম্যান্স দেখানো অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে।’ বিদেশি খেলোয়াড়ের জন্য নিজের অসুবিধা স্বীকার করেও অবশ্য জীবন চান না লিগটা পুরোপুরি বিদেশি খেলোয়াড়মুক্ত হোক।
ঘরোয়া মৌসুমে চার বিদেশি খেলে একাদশে। নিবন্ধনের সুযোগ পাঁচজনের। বিদেশিদের হটিয়ে স্থানীয় খেলোয়াড়ের মাঠে নামাটা কঠিন। স্ট্রাইকার পজিশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও বেশি। তারপরও জীবন সর্বশেষ সমাপ্ত লিগে স্থানীয়দের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৭ গোল করে আলোচনায় আসেন। রহস্যটা কোথায়? জীবন বলছিলেন, পরিশ্রম, ‘আমার পরিশ্রমের কারণেই এতগুলো গোল পেয়েছি। কোচও আমাকে পছন্দ করেন। তবে হ্যাঁ, নাম্বার নাইন হিসেবে খেলতে পারলে গোলসংখ্যা আরও বাড়ার সুযোগ থাকতো।’
বাংলাদেশের পেশাদার লিগের সফলতম দল আবাহনীতে ‘নাম্বার নাইন’ সানডে সিজোবা, তার পেছনে খেলেন জীবন। বিদেশি খেলোয়াড়েরা বাংলাদেশের ক্লাবগুলোর কাছে সমাদৃত, স্থানীয়রা ব্রাত্য। জীবনের ভাষায়, ‘আমাদের এখানে লড়াই করে কিছু হয় না। হয়তো অনেকে লড়াই করে। অনেকে করতে পারে না। এই যে দেখুন সানডে বা অন্য যে বিদেশিই হোক, তারা কোনও ম্যাচে খারাপ খেলেও পরের ম্যাচে সুযোগ পায়। স্থানীয় খেলোয়াড়েরা তা পায় না। স্থানীয়রা যদি নিয়মিত খেলার সুযোগ পায় তাহলে তারাও একসময় জ্বলে উঠবে।’
তবে সাধারণভাবে বিদেশি খেলোয়াড়দের মান যে ভালো সেটি অস্বীকার করেননি জীবন। তার কথা,‘ শারীরিকভাবে তারা শক্তিশালী। কোয়ালিটির দিক দিয়ে আমরা অনেক ক্ষেত্রেই কিছুটা পিছিয়ে থাকি। তবে আমাদের খেলোয়াড়েরা আগের চেয়ে অনেক সচেতন। তারা জিম করে। খাদ্যাভাসেও পরিবর্তন এসেছে। বিদেশিদের সঙ্গে লড়াই করতে শিখেছে।’
এই জায়গাটিতেই ঢালাওভাবে বিদেশিদের বেশি সুবিধা দেওয়াটা মানতে পারেন না জীবন, ‘মাঠে মেসি খারাপ করলেও তার বদলি হিসেবে অনেক সময় অন্য খেলোয়াড় নেমে থাকে। কিংবা দু-একটি ম্যাচে বিশ্রাম দেওয়া হয় মেসিকে। এটা বাইরের সব লিগেই হয়ে থাকে। আমাদের এখানে বিদেশিরা খারাপ করলেও তাদের বদল হয় কম। তার জায়গায় স্থানীয়দের তেমন সুযোগ হয় না।’
তবে জীবন বিদেশি খেলোয়াড় নিষিদ্ধ করার পক্ষপাতী নন, ‘বিদেশি খেলোয়াড় কমিয়ে আনলে ভালো হবে। একদম নিষিদ্ধ করাটা ঠিক হবে না। বিদেশি খেলোয়াড় ছাড়া খেলা জমবে না। একাদশে দুজন বিদেশি থাকলে ভালো হয়। ফরোয়ার্ড হিসেবে স্থানীয়দের আরও সুযোগ দেওয়া উচিত। বিদেশিদের সঙ্গে খেলে অনেক শেখারও সুযোগ থাকে অনেক।’
ঘরোয়া ফুটবলে গোল পেলেও জাতীয় দলে ঠিক উল্টোটা হয়। ২৭ ম্যাচে মাত্র চার গোল! জীবন এজন্য দোষেন ভাগ্যকে, ‘কেন যেন জাতীয় দলে আসলে আমার ভাগ্য সুপ্রসন্ন হয় না। আমি চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখি না। যেগুলো গোল হওয়া উচিত ছিল, হয়নি। ভাগ্যে না থাকলে কী করার আছে! সর্বশেষ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচেও গোল করার সুযোগ পেয়ে গোল পাইনি। তারপরেও ভবিষ্যতে চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখবো না।’








