১৯তম ওভারের শেষ বল। মোহাম্মদ সিরাজ শর্ট বল করলেন। পুল করতে গিয়ে টপ এজ করে ফেললেন ঋষভ পন্ত। উইকেটকিপার ডি ভিলিয়ার্সের নাগাল এড়িয়ে। ওতেই কাজ শেষ। এক ওভার বাকি থাকতেই ম্যাচ জিতে দিল্লি ক্যাপিটালস প্লে-অফে। পন্ত ও মার্কাস স্টয়নিসের মুখে হাসি।
কিন্তু দিল্লির দুই অপরাজিত ব্যাটসম্যানকে অভিনন্দন জানাতে প্রথমেই ছুটে এলেন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোর অধিনায়ক বিরাট কোহলি। কারণ, দিল্লি ৬ উইকেটে ব্যাঙ্গালোরকে হারিয়েও প্লে-অফ যাত্রায় তাদের সঙ্গে নিয়েছে।
এতদিন ধরে প্লে-অফের চারটি স্থানের একটি মাত্র নিশ্চিত হয়েছিল। সোমবার একটি ম্যাচই ভাগ্য গড়ে দিলো দুটি দলের। বাকি থাকলো শেষ স্থানটি। কলকাতা নাইট রাইডার্স, না সানরাইজার্স হায়দরাবাদ পা রাখবে সেখানে। সমীকরণটা খুব সহজ এখন। আাগমীকাল লিগ পর্বের শেষ ম্যাচে প্লে-অফের শীর্ষস্থান নিশ্চিত করা মুম্বাইকে হারাতে পারলেই হায়দরাবাদের প্লে-অফ নিশ্চিত এবং তৃতীয় হয়েই। আর হায়দরাবাদ মুম্বাইয়ের কাছে হেরে গেলে হায়দরাবাদ বাদ, প্লে-অফে যাবে কলকাতা।
আবুধাবির এ ম্যাচে টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে যাওয়া ব্যাঙ্গালোর ৭ উইকেটে করেছিল ১৫২ রান। যাতে সবচেয়ে বড় অবদন দেবদূত পাড়িক্কালের ফিফটির। এবারের আইপিলে পঞ্চম ফিফটি করলেন তরুণ ওপেনার। দ্বিতীয় উইকেটে শিখর ধাওয়ান ও অজিঙ্কে রাহানের ৮৮ রানের জুটিতেই মূলত এই লক্ষ্য ছোঁয়ার রসদটা পেয়ে যায় দিল্লি। সুইপ করতে গিয়ে বাঁহাতি স্পিনার শাহবাজ আহমেদের বলে ক্যাচ হয়ে ফেরার আগে ৪১ বলে ৫৪ করেছেন ধাওয়ান। রিভার্স সুইপ করতে গিযে অফস্পিনার ওয়াশিংটন সুন্দরের শিকার হওয়ার আগে রাহানে ৪৬ বলে করেছেন ৬০ রান। পন্ত ও স্টয়নিস বাকি পথটুকু পাড়ি দিতে হড়বড় করেননি।
ম্যান অব দ্য ম্যাচ অবশ্য কোনও ব্যাটসম্যান নন। বিচারকেরা দিল্লির ফাস্ট বোলার আনরিখ নর্কিয়াকে ম্যাচসেরা বেছে ঠিক কাজটিই করেছেন। কারণ তার বোলিংয়ের কারণেই ব্যাঙ্গালোর ১৫২ রানের বড় স্কোরের চ্যালেঞ্জ জানাতে পারেনি দিল্লিকে। তিন ওভারে ৩৩ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়েছেন নর্কিয়া, তার মধ্যে একই ওভারে সর্বোচ্চ স্কোরার পাড়িক্কাল (৫০) ও ক্রিস মরিসকে ফিরিয়েছেন। তবে এই নর্কিয়ার এক ব্যর্থতাতেই দিল্লিকে বড় মাশুল গুনতে হতে পারতো। অক্ষর প্যাটেলের বলে কোহলির সহজ ক্যাচ ফেলেছিলেন, কোহলি তখন ১৩ রানে। কোহলি অবশ্য ‘জীবন’ ফিরে পেয়ে সেটিকে কাজে লাগাতে পারেননি। নর্কিয়ার পাশে তার দক্ষিণ আফ্রিকান সতীর্থ কাগিসো রাবাদাও ছিলেন উজ্জ্বল। দুই উইকেট নিতে তিনি খরচ করেছেন ৩০ রান।
ব্যাঙ্গালোর দিল্লির কপাল পোড়াতে পারতো নিজেরা ২০ রানের বেশি ব্যবধানে জিতে। সেটি তারা পারেনি। দিল্লিও ব্যাঙ্গালোরের বুক ভেঙে দিতে পারতো ২.৩ ওভার হাতে রেখে ম্যাচ জিতে। পরস্পরের দুর্ভাগ্যের কারণ হয়নি কোনও দলই। বরং হারিয়ে বা হেরে গলাগলি ধরেই প্লে-অফে চলে গেল দিল্লি ও ব্যাঙ্গালোর। সবার শেষে প্লে-অফে যাবে কে, কলকাতা না হায়দরবাদ?
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ব্যাঙ্গালোর: ২০ ওভারে ১৫২/৭ (পাড়িক্কাল ৫০, ডি ভিলিয়ার্স ৩৫, কোহলি ২৯, নর্কিয়া ৩/৩৩, রাবাদ ২/৩০ ও দিল্লি: ১৯ ওভারে ১৫৪/৪ (রাহানে ৬০, ধাওয়ান ৫৪, স্টয়নিস ১০*, শাহবাজ ২/২৬, সুন্দর ১/২৪)।








