মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে হঠাৎ অশান্ত হয়ে উঠেছিল নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট। মাঠের চারদিকে দৃষ্টিনন্দন সব ছক্কাবৃষ্টি করে সেঞ্চুরি পূরণ করেছেন রাজশাহীর এই অধিনায়ক। একই সঙ্গে বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপের প্রথম সেঞ্চুরিটিও এলো বামহাতি এই ওপেনারের ব্যাট থেকে। ৫২ বলে ৪ চার ও ১০ ছক্কায় নাজমুল নিজের টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন।
নাজমুল সেঞ্চুরি উদযাপন করার মুহূর্তেও ছিলেন আগ্রাসী ভঙ্গিমায়। ডিপ মিড উইকেটে তাসকিন আহমেদকে বিশাল ছক্কা মারার পর ড্রেসিংরুমের দিকে ফিরে পেশীবহুল হাত দেখাতে দেখা যায় রাজশাহীর অধিনায়ককে। যদিও সেঞ্চুরির পর খুব বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। ৫৫ বলে ১১ ছক্কা ও ৪ চারে নাজমুল শেষ পর্যন্ত থামেন ১০৯ রানে। কামরুল ইসলামের একটি বল কভারে খেলতে গিয়ে তামিমের হাতে তালুবন্দি হন তিনি।
আউট হওয়ার আগে অবশ্য ছক্কা বৃষ্টিতে তামিম ইকবালকে ছুঁয়েছেন নাজমুল। ২০১৯ সালের বিপিএলে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে ১৪১ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে চ্যাম্পিয়ন করিয়েছিলেন তামিম। ওই সেঞ্চুরি করতে মেরেছিলেন ১১টি ছক্কা। মঙ্গলবার নাজমুলও অভিজ্ঞ এই ওপেনারকে ছুঁয়েছেন সমান ১১টি ছক্কা মেরে। সম সংখ্যক ছক্কায় সাজিয়েছেন নিজের ১০৯ রানের ইনিংসটি।
শুধু তাই নয়, কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে এতোদিন একাধিক সেঞ্চুরি ছিল কেবল তামিমের। মঙ্গলবার সেখানেও তামিমের সঙ্গী হয়েছেন নাজমুল। চলতি বছর বঙ্গবন্ধু বিপিএলে ৫৭ বলে ৮ চার ও ৭ ছয়ে ১১৫ রানের অপরাজিত একটি ইনিংস খেলেছিলেন নাজমুল।
মঙ্গলবার নাজমুলের এমন অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ে বরিশালের বিপক্ষে ২০০ রানের স্কোর গড়েছে রাজশাহী। পাশাপাশি তরুণ ব্যাটসম্যান আনিসুল ইসলামও দুর্দান্ত ব্যাটিং করেছেন। ৩৯ বলে ৭ চার ও ৩ ছক্কায় আনিসুল টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় হাফসেঞ্চুরির দেখা পেয়েছেন। খেলেছেন অবিশ্বাস্য ৬৯ রানের ইনিংস। নাজমুল ও আনিসুলের ব্যাট ভর করেই মূলত ৭ উইকেট হারিয়ে ২২০ রানের দেখা পায় রাজশাহী।








