পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ৭ জানুয়ারি থেকে সিডনিতে যদি ভারত-অস্ট্রেলিয়া সিরিজের তৃতীয় টেস্টটি না-ই হতে পারে, সেটি হবে মেলবোর্নে। অস্ট্রেলীয় ক্রিকেট বোর্ড (ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া) আজ বৃহস্পতিবার জানিয়েছে, সিডনিতেই তৃতীয় টেস্ট আয়োজনের সর্বোচ্চ চেষ্টা চলবে। কোভিড-১৯ প্রাদুর্ভাবে নিতান্তই যদি তা সম্ভব না হয় তাহলে মেলবোর্ন প্রস্তুত থাকবে বিকল্প ভেন্যু হিসেবে।
সিডনির উত্তর সৈকত এলাকায় হঠাৎই করোনাভাইরাসের প্রকোপ বেড়ে গেছে। এ কারণে সতর্কতার অংশ হিসেবে আজ বৈঠকে বসেছিল ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার বোর্ড প্রশাসকদের স্টিয়ারিং কমিটি। সেখানেই ঠিক হয়েছে এসসিজিতে যদি ৭ জানুয়ারি থেকে নির্ধারিত তৃতীয় টেস্ট আয়োজন সম্ভব না হয় সেটি হবে এমসিজিতে। তবে ১৫ জানুয়ারি থেকে শুরু ব্রিজবেনের গ্যাবায় নির্ধারিত সিরিজের চতুর্থ টেস্ট নিয়ে কোনও প্রশ্ন ওঠেনি।
এমসিজিকে তৃতীয় টেস্টের বিকল্প ভেন্যু হিসেবে প্রস্তুত রাখা হলেও ২৬ ডিসেম্বর এখানে শুরু বক্সিং ডে টেস্ট চলাকালেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। `আমরা সবসময়ই বলে এসেছি যে বৈশ্বিক মহামারির মধ্যে পুরো গ্রীষ্মের ক্রিকেট সূচিটা সম্পূর্ণ করতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে, যেখানে প্রয়োজন ত্বরিৎ ব্যবস্থা গ্রহণ ও সমস্যা সমাধানের চেষ্টা। এর সঙ্গে জড়িত প্রতিটি ব্যক্তির নিরাপত্তা ও মঙ্গল আমাদের কাছে অগ্রাধিকার তালিকার শীর্ষে’- বলেছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিক হকলি।
হকলি আরও জানিয়েছেন, ‘রেকর্ডসংখ্যক করোনা পরীক্ষায় সামাজিকভাবে করোনা সংক্রমণের হার নিম্নমুখী ধরা পড়াটা আশাব্যাঞ্জক খবর। তারপরও সিডনির অবস্থার যদি অবনতি হয়, তাহলে আমাদের আপৎকালীন ব্যবস্থা তো থাকবেই।’
অস্ট্রেলিয়া কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার কোভিড-মুক্ত পরিবেশে সিরিজটি আয়োজনের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ায় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
সেই ৩০ বছর আগে, ১৯৯০ সালে, এমসিজি সর্বশেষ জানুয়ারি টেস্টের আয়োজক ছিল। অ্যালান বোর্ডারের নেতৃত্বে সেই টেস্টে মার্ক টেলরের দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি ও টেরি অলডারম্যানের চতুর্থ ইনিংসে ৫ উইকেট নেওয়ার সুবাদে অস্ট্রেলিয়া পাকিস্তানকে হারিয়েছিল ৯২ রানে।
আবার ১৯৮১ সালের পর একই মৌসুমে টানা দুটি টেস্ট কখনও আয়োজন করেনি মেলবোর্ন। সেবার এমসিজিতে মধ্য ডিসেম্বরে গ্রেগ চ্যাপেলের অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে দিয়েছিল পাকিস্তান। ১১ দিন পরই এমসিজিতে শুরু পরের টেস্টে অবশ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ৩৯ বছর পর আবার একই মৌসুমে এমসিজিতে টানা দুটি টেস্ট আয়োজনের সম্ভাবনা জেগেছে। শুধুই সম্ভাবনা, কারণ বক্সিং ডে টেস্টের মধ্যেই সিডনির অবস্থা ভালো হয়ে যেতে পারে।








