আগেরদিনই স্কোরবোর্ডে ৩৪০ রান জমিয়ে শ্রীলঙ্কা নিশ্চিত করে দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে এবার একটা রেকর্ড তারা করতে চলেছে। আর মাত্র ৩ রান যোগ হতেই নতুন সেই রেকর্ড হলো- দক্ষিণ আফ্রিকায় তাদের সর্বোচ্চ টেস্ট স্কোর। শুধু রেকর্ডই তো নয়, ৩৯৬ রানের বড় একটা বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে প্রোটিয়াদের পিঠে। তবে প্রোটিয়ারা রবিবার দ্বিতীয়দিনে জবাব দিয়েছে ভালোই। দ্বিতীয়দিন শেষ করেছে ৪ উইকেটে ৩১৭ রানে। সাবেক অধিনায়ক ফ্যাপ ডু প্লেসি ব্যাট করছেন ৫৫ রানে, তার সঙ্গী টেম্বা বাভুমা ৪১ রানে।
তবে প্রোটিয়াদের এই আপাত আনন্দের মধ্যে মিশে আছে ডিন এলগারের দুঃখ। মাত্র পাঁচ রানের জন্য তিন অঙ্ক ছুঁতে পারেননি বাঁহাতি ওপেনার, যেটি হতো তার ১৩তম টেস্ট সেঞ্চুরি। মিডিয়াম পেসার দাসুন শানাকাকে রিটার্ন ক্যাচ দেওয়ার আগে ১৬টি চারে সাজিয়েছিলেন ৯৫ রানের ইনিংসটি। এইডেন মার্করামকে নিয়ে গড়েছিলেন ১৪১ রানের ওপেনিং জুটি। পেসার বিশ্ব ফার্নান্ডোর বলে ওই শানাকার হাতেই ক্যাচ হয়ে জুটিটি ভাঙেন মার্করাম। দ্বিতীয় উইকেটে রাসি ফন ডার ডুসেনকে নিয়ে এলগার যোগ করেন ৫৯ রান। দলীয় ২০০ রানের মাথায় ফিরে যান ডুসেন ও এলগার, অধিনায়ক ডি কক অভিষিক্ত লেগস্পিনার ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার প্রথম টেস্ট শিকার হয়েছেন ১৮ রান করে। ২০ রানের মধ্যে ৩ উইকেট খুইয়ে একটু সঙ্কটেই পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। তবে সেখান থেকে ডু প্লেসি ও বাভুমা মিলে শুধু বিপদই সামাল দেননি, অবিচ্ছিন্ন পঞ্চম উইকেটে ৯৭ রানের জুটি গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকাকে লিড নেওয়ারই স্বপ্ন দেখিয়েছেন। ‘স্বপ্ন’টা বাস্তব হওয়ারই জোরালো সম্ভাবনা। কারণ আগেরদিনই ব্যাট করার সময় উরুর পেশিতে চোট পেয়ে সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন অলরাউন্ডার ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা। তার অফস্পিনটা শ্রীলঙ্কা মিস করছে, আজ আবার পেসার কাসুন রাজিথা নিজের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলটি করতে গিয়ে কুচকির চোটে পড়েছেন। তার ওভারটি সম্পূর্ণ করেছেন শ্রীলঙ্কার হয়ে আলো ছড়ানো শানাকা। ৮৭ বলে ৩ চার ও ৫ ছক্কায় ৬৬ রান করে অপরাজিত থাকেন এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার। তার সৌজন্যেই চারশো ছুঁই ছুঁই রান করেছে শ্রীলঙ্কা।
ধনাঞ্জয়া ডি সিলভা ও রাজিথা না থাকায় শ্রীলঙ্কার বোলিংয়ের ভারসাম্যটা হয়েছে নষ্ট। প্রোটিয়া ব্যাটসম্যানরা এর সুযোগ নিয়েছেন। ৭২ ওভারে তাদের রান ৩১৭, ওভারপ্রতি রান হয়েছে ৪.৪। অনভিজ্ঞ প্রোটিয়া বোলাররা উদার হাতে রান বিলিয়েছেন, এখন বিলোচ্ছেন লঙ্কান বোলাররা। রানের উৎসব চলছে সেঞ্চুরিয়নে। টেস্টের পরিণতি কোনদিকে যাবে, সেটি পরিষ্কার হবে আগামীকাল তৃতীয়দিনে।








