অস্ট্রেলিয়া সফরে এসে ভারতের দুঃখ-দুর্দশা কম ছিল না। অ্যাডিলেডে প্রথম টেস্টে পেতে হয়েছে ৩৬ রানে অলআউটের লজ্জা। পারিবারিক কারণে দ্বিতীয় টেস্টে নেই নিয়মিত অধিনায়ক কোহলি। তার ওপর চোটে ছিটকে গেছেন সামি-শর্মারা। একই কারণে চলমান টেস্ট থেকেও খুঁড়িয়ে মাঠ ছেড়েছেন উমেশ যাদব। বক্সিং ডে টেস্টে সেই ভারতই অবিশ্বাস্যভাবে ঘুরে দাঁড়ালো দাপুটে ভঙ্গিমায়। মেলবোর্নে দ্বিতীয় টেস্টে অস্ট্রেলিয়াকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে আজিঙ্কা রাহানের দল। তাতে ৪ ম্যাচের সিরিজে এখন ১-১ সমতা।
চতুর্থ দিনের সকালের সেশনে অজিরা লড়াই করেছিল ঠিকই। তবে ৪ উইকেট হাতে নিয়ে স্কোরিংটা ছিল ধীর লয়ের। ১৯৮৬ সালের পর ঘরের মাঠে এত স্লথ গতির ইনিংস খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। যেখানে বাউন্ডারিই ছিল মাত্র ১০টি। একটু দেরি করে নেওয়া লাঞ্চ বিরতির আগেই অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দিয়েছেন অশ্বিন। তাতে অস্ট্রেলিয়ার লিডও বেশি ছিল না, ৬৯! অবশ্য এদিন অস্ট্রেলিয়াকে গুটিয়ে দিতে বড় ভূমিকা ছিল সিরাজের। লড়াই করতে থাকা ক্যামরন গ্রিনের উইকেটটি নিয়েছেন তিনিই। গ্রিন বিদায় নিয়েছেন সর্বোচ্চ ৪৫ রানে। নাথান লায়নের উইকেট নিয়ে সিরাজ অভিষেকেই গড়েছেন অনন্য এক রেকর্ড। কিছুদিন আগে বাবাকে হারানো এই পেসার প্রথম ভারতীয় বোলার হিসেবে অভিষেকে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে ৫ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন।
এই ইনিংসে ৩৭ রানে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট নিয়েছেন সিরাজ। দুটি করে নিয়েছেন বুমরাহ, অশ্বিন ও জাদেজা।
অবশ্য ৭০ রানের মামুলি লক্ষ্যে খেলতে নেমেও বিপদে পড়ে গিয়েছিল সফরাকরীরা। ১৯ রানে বিদায় নিয়েছিলেন দু’জন। অনেকেই ভাবতে শুরু করেছিল ৩৬ রানের সেই ভূত না ভর করে আবার। তা অবশ্য হয়নি। ভারতকে নিরাপদে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন শুভমান গিল (৩৫) ও ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক রাহানে (২৭)। ম্যাচসেরা হয়েছেন প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান রাহানে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
অস্ট্রেলিয়া: ১৯৫ ও ২০০ (গ্রিন ৪৫, ওয়েড ৪০; সিরাজ ৩/৩৭)
ভারত: ৩২৬ ও ৭০/২ (গিল ৩৫*, রাহানে ২৭*; স্টার্ক ১/২০, কামিন্স ১/২২)








