মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে অবিশ্বাস্য লড়াইয়ের পরও হার এড়াতে পারলো না পাকিস্তান। ৩৭৩ রানের লক্ষ্যে দিনব্যাপী লড়াইয়ের পর শেষ দিকে আর ৪.৩ ওভার টিকে থাকলেই প্রথম টেস্ট ড্র করতে পারতো সফরকারীরা। কিন্তু নাটকীয়ভাবে সেই টেস্ট ১০১ রানে জিতে টেস্ট র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ আসন দখলের আরও কাছে পৌঁছে গেছে নিউজিল্যান্ড। সিরিজ জিতলেই নিশ্চিত হয়ে যাবে সিংহাসন।
পঞ্চম ও শেষ দিনের আলোচিত লড়াইটা ছিল ফাওয়াদ আলম ও অধিনায়ক রিজওয়ানের। মহাকাব্যিক ১৬৫ রানের জুটি গড়েছিলেন দু’জন। এই জুটিতে ভর করেই সিরিজের প্রথম টেস্ট বাঁচানোর স্বপ্ন দেখছিল পাকিস্তান। ফিরে আসছিল ঐতিহাসিক ত্রিনিদাদ টেস্টের স্মৃতি।
সেই ১৯৮৮ সালের এপ্রিলে ওয়েস্ট ইন্ডিজও ৩৭২ রানের অসম্ভব লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছিল পাকিস্তানকে। ক্যারিবীয়ানদের সেই সময়ের পেস আক্রমণের সামনে যা ছিল অসম্ভব কিছু। তার পরেও পাকিস্তান টেস্ট বাঁচাতে লড়াই করেছিল ১২৯ ওভার পর্যন্ত। ৯ উইকেটে করতে পেরেছিল ৩৪১ রান। হাতে এক উইকেট রেখে সেই টেস্টটা শেষ পর্যন্ত ড্র করতে পারলেও ৩২ বছর ৮ মাস পর প্রায় একই লক্ষ্যের কাছে থেকেও পাকিস্তান ব্যর্থ হয়েছে এবার।
দিনের শুরুতে আজহার আলী ফিরে গেলে মূল লড়াইটাই এসেছে রিজওয়ান ও ফাওয়াদের কাছ থেকে। দলীয় ২৪০ রানে রিজওয়ানকে (৬০) বিদায় দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই জুটি ভেঙে দেন জেমিসন। ফাওয়াদও টিকতে পারেননি এর পর। ১০২ রান করে ফেলা ফাওয়াদকে বিদায় দিয়েছেন চোটগ্রস্ত ওয়াগনার। এর পর আর প্রতিরোধ গড়তে পারেনি কেউ। অথচ আর সাড়ে ৪ ওভার টিকে থাকলেই জয়ের সমান ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারতো সফরকারীরা। নাসিম শাহর ফিরতি ক্যাচ নিয়ে ২৭১ রানে পাকিস্তান ইনিংসের নাটকীয় ইতি টেনে দিয়েছেন মিচেল স্যান্টনার।
এই ইনিংসে কিউইদের হয়ে দুটি করে উইকেট নিয়েছেন টিম সাউদি, ট্রেন্ট বোল্ট, কাইল জেমিসন, নিল ওয়াগনার ও মিচেল স্যান্টনার। ম্যাচসেরা কেন উইলিয়ামসন।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
নিউজিল্যান্ড: ৪৩১ (কেন উইলিয়ামসন ১২৯; শাহীন ৪/১০৯)ও ১৮০/৫ ডি. (ব্লান্ডেল ৬৪; নাসিম ৩/৫৫)
পাকিস্তান: ২৩৯ (ফাহিম ৯১; জেমিসন ৩/৩৫) ও ২৭১ (ফাওয়াদ ১০২; সাউদি ২/৩৩)








