ক্রীড়াঙ্গনে দুর্নীতি, অনিয়ম ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। একই সঙ্গে দেশের ক্রীড়া ফেডারেশনগুলোকে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ১ হাজার ২৪৪ কোটি টাকার সিড মানি (প্রাতিষ্ঠানিক তহবিল) অনুমোদনের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১৬ আগস্ট) জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সভাকক্ষে নবনিযুক্ত অ্যাডহক কমিটির ১৪টি ফেডারেশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
সভায় আমিনুল হক জানান, অনুমোদিত সিড মানি বিভিন্ন শ্রেণি অনুযায়ী ফেডারেশন ও জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হবে। এর মধ্যে ফুটবল, ক্রিকেট ও হকি ফেডারেশন সর্বোচ্চ ৫০ কোটি টাকা করে পাবে। অন্য ফেডারেশনগুলোকে নির্ধারিত শ্রেণি অনুযায়ী অর্থ দেওয়া হবে।
তিনি জানান, সিড মানি থেকে অর্জিত বার্ষিক লভ্যাংশের ৭৫ শতাংশ সংশ্লিষ্ট ফেডারেশনগুলোকে দেওয়া হবে। এই অর্থ নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজন, প্রশিক্ষণ ও খেলোয়াড়দের কল্যাণে ব্যয় করা যাবে। বাকি ২৫ শতাংশ মূল তহবিলে পুনর্বিনিয়োগ করা হবে। এর মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে ক্রীড়া খাতকে একটি টেকসই আর্থিক কাঠামোর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
দুর্নীতিতে কঠোর ব্যবস্থা
ক্রীড়াঙ্গনে দীর্ঘদিনের অনিয়মের প্রসঙ্গে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৭ বছরে বিভিন্ন ফেডারেশনে জমে থাকা অনিয়ম ও অপকর্ম সরকারের নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থা এসব বিষয়ে তদন্ত করছে।
তিনি বলেন, দুর্নীতি বা অনিয়মের সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে শুধু সাংগঠনিক শাস্তির মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ থাকবে না। প্রচলিত আইন অনুযায়ীও তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফেডারেশনের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থাগুলোর নির্বাচন শেষ না হওয়া পর্যন্ত বর্তমান কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।
নারী ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তায় গুরুত্ব
নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্ব দেন আমিনুল হক। দেশের প্রতিটি ক্রীড়া কমপ্লেক্সে নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
এ ছাড়া প্রতিটি ফেডারেশনকে আগামী পাঁচ বছরের জন্য সুনির্দিষ্ট ক্রীড়া পরিকল্পনা ও ক্যালেন্ডার তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বছরে জাতীয় পর্যায়ে অন্তত চারটি টুর্নামেন্ট আয়োজনের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অন্তত তিনটি প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া অথবা দেশে আন্তর্জাতিক আসর আয়োজনের নির্দেশনাও দেওয়া হয়।
চার মাস পরপর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা
খেলোয়াড়দের ক্রীড়া ভাতার ক্ষেত্রেও জবাবদিহিতা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতি চার মাস পরপর খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করা হবে।
ধারাবাহিকভাবে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স দেখাতে ব্যর্থ হলে ভাতার তালিকা থেকে তাদের বাদ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে সম্ভাবনাময় নতুন খেলোয়াড়দের ওই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
সভায় অ্যাথলেটিকস, হকি, সাইক্লিং, সাঁতার, শুটিং, কাবাডি, ভলিবল, দাবা, ব্যাডমিন্টন, টেনিস, টেবিল টেনিস, মহিলা ক্রীড়া সংস্থা, আর্চারি ও বক্সিং ফেডারেশনের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।









