এবারের বিপিএলের রংপুর রাইডার্স শুরু থেকে চমক দেখিয়েছে। চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে দাপটে জয়ের পর খুলনা টাইটান্সকে টুর্নামেন্টের সর্বনিম্ন রানে অলআউট করে লজ্জা দেয় নাঈম ইসলামের দল। চিটাগং ও খুলনার বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচেই ৯ উইকেটের বিশাল জয় পায় রংপুর। শনিবারও আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থেকে তৃতীয় ম্যাচে তারা মুখোমুখি হয় একটি করে জয় ও হারের স্বাদ পাওয়া ঢাকা ডায়নামাইটসের। সোহাগ গাজী ও শহীদ আফ্রিদি এদিনও বল হাতে জ্বলে উঠেছিলেন, দুইজনেই পান ২টি করে উইকেট। কিন্তু মোসাদ্দেক হোসেনের সঙ্গে নাসির হোসেন ও কুমার সাঙ্গাকারার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সামনে অসহায় থাকতে হয় রংপুরকে। বিপিএলের চলতি আসরের সর্বোচ্চ রান তাড়া করতে নেমে সুবিধা করতে পারেনি তাদের ব্যাটসম্যানরা।১৯.২ ওভারে মাত্র ৯২ রানে গুটিয়ে যায় রংপুর। তৃতীয় ম্যাচে এসে ৭৮ রানে তারা আসরের প্রথম হারের তিক্ত স্বাদ পেল।
তিন ম্যাচে দ্বিতীয় জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে ঢাকা। সমান পয়েন্ট নিয়েও রান রেটে পিছিয়ে থেকে দুইয়ে নেমে গেছে রংপুর।
এবারের আসরের রেকর্ড লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে রংপুর। সাকিব আল হাসান ২ উইকেট নিয়ে দুপুরেই পেছনে পড়া কেভন কুপারকে ফের টপকে যান। এই ম্যাচ শেষে আবার বিপিএলের শীর্ষ উইকেটশিকারি হন ঢাকার অধিনায়ক। ৩৭ ম্যাচে সাকিবের উইকেট সংখ্যা ৫২; আর খুলনার কুপার ১ উইকেটের ব্যবধানে পেছনে পড়লেন। সাকিবের সঙ্গে বল হাতে উপযুক্ত সঙ্গ দিয়েছেন ডোয়াইন ব্রাভো, তিনিও নেন ২ উইকেট। ঢাকার সাঙ্গাকারা, মোসাদ্দেক ও মেহেদি মারুফ ছাড়া সবাই বল হাতে নেন। রবি বোপারা ছাড়া খালি হাতে ফেরেননি আর কেউ। সাকিব-ব্রাভোর সঙ্গে আলাউদ্দিন বাবু, নাসির হোসেন, সানজামুল ইসলাম, সেক্কুজে প্রসন্ন, মোহাম্মদ শহীদ ১টি করে উইকেট পান। রংপুরের শেষ ব্যাটসম্যান রিচার্ড গ্লিসন অ্যাবসেন্ট হার্ট ছিলেন। রংপুরের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৬ রান করেন অধিনায়ক নাঈম।
এর আগে টস জেতা রংপুরের আমন্ত্রণে ব্যাটিংয়ে নেমে ব্যাটসম্যানদের আলাদা আলাদা নান্দনিক পারফরম্যান্সের সৌজন্যে বিপিএলের এই আসরের সর্বাধিক ১৭০ রানের দলীয় ইনিংস স্কোরবোর্ডে জমা করে ঢাকা, উইকেট হারায় ৬টি।
নিজের প্রথম ওভারে উইকেট পাওয়াটা অভ্যাস বানিয়ে ফেলেছেন সোহাগ গাজী। শনিবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। ঢাকার ওপেনার মেহেদি প্রথম তিন বলে একটি ছক্কা ও একটি চার মারার পর তার চতুর্থ বলে স্কয়ার লেগে আফ্রিদির হাতে ক্যাচ দেন। স্কোরবোর্ডে তখনকার ১০ রানের সবগুলোই ছিল মেহেদির।
দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৬৯ রানের জুটি গড়েন সাঙ্গাকারা ও নাসির। ভাগ্যদেবীর আশীর্বাদসিক্ত এক ইনিংস খেলেন নাসির, ১২ রানে মিথুন আলি ও ৩২ রানে লিয়াম ডসনের হাতে দুইবার জীবন পান। এরপর খেলেন ৩৩ বলে ছয়টি চারে ৩৮ রানের ইনিংস। কিন্তু তিন বলের মধ্যে দুই উইকেটের পতন ঘটিয়ে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেন আফ্রিদি। দলীয় ৭৯ রানে নাসির ও ইংলিশ অলরাউন্ডার রবি বোপারাকে হারায় ঢাকা।
ওপেন করতে নেমে ধীরস্থির ইনিংস খেলেছেন সাঙ্গাকারা। ২৯ রান করেছেন তিনি ২৭ বলে, গাজী দ্বিতীয় স্পেল করতে এসে সাঙ্গাকারার বিদায় ঘণ্টা বাজান। মিড উইকেটের ওপর দিয়ে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে তিনি রুবেল হোসেনের হাতে ধরা পড়েন।
সাকিব আল হাসানের ইনিংসের দৈর্ঘ্য লম্বা হয়নি, ১০ রান করার পর তিনি আত্মসমর্পণ করেন ইংলিশ স্পিনার লিয়াম ডসনের কাছে, এবারও ক্যাচ নেন রুবেল হোসেন। বারবার রাশ টেনে ধরলেও ঢাকার রানের চাকাকে থামাতে পারেনি রংপুর। শেষ দিকে রংপুরের সব চিন্তাভাবনা ওলটপালট করে দেন মোসাদ্দেক। আগের ম্যাচে ৪৬ বলে ৫৯ রান করা মোসাদ্দেকের ব্যাট শনিবারও চড়াও হয় রংপুর বোলারদের ওপর, ২৮ বলে ২টি ছক্কা ও ৭টি চারে তিনি ৪৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। শেষদিকে সেক্কুজে প্রসন্নর ২টি ছয়ে সংগ্রহটা আরও বড় করে ঢাকা। তিনি ছিলেন ১৩ রানে অপরাজিত।
/আরএম/এফএইচএম/








