ওয়ালটন ঢাকা প্রিমিয়ার ক্রিকেট লিগের চলতি আসরে প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হয়েছিলো দুই পরাশক্তি আবাহনী ও মোহামেডান। ম্যাচটিতে মুশফিকের মোহামেডানের কাছে ৮ উইকেটে হার মেনেছে তামিমের আবাহনী। এদিন মোহামেডানের বোলারদের সামনে মাত্র ১৮৩ রানে গুটিয়ে যায় তামিমের আবাহনী। জবাবে ৬.১ ওভার হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মোহামেডান।
টসে হেরে ব্যাটিং করতে নেমে প্রথম ওভারেই বড় হোঁচট খায় আবাহনী। শুভাশিষ রায়ের লাফিয়ে উঠা বল কোনওভাবেই এড়াতে পারেননি তামিম (৪)। এই ম্যাচেও হতাশ করলেন লিটন কুমার দাস (৩)। ডানহাতি স্পিনার হাবিবুর রহমানের সোজা বল টেনে সুইপ করতে গিয়ে স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন। আবাহনী শিবিরে পরের আঘাতটিও করেন হাবিবুর রহমান। ৭ রান করা অভিষেক মিত্র ড্রাইভ করতে গিয়ে মিড অনে আরিফুলের হাতে ক্যাচ দেন।
১৫ রানে ৩ টপ অর্ডার ব্যাটসম্যাকে হারিয়ে বিপদে পড়ে আবাহনী। এরপর খানিকটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করেন মানবিন্দর বিসলা ও নাজমুল হোসেন শান্ত।
দলীয় ৬২ রানে ভারতের বিসলার (২৩) উইকেট নিয়ে ৪৭ রানের প্রতিরোধ ভাঙেন ডানহাতি স্পিনার নাঈম ইসলাম। তার বিদায়ের পর আবাহনীর রানের চাকা টেনে নেওয়ার দায়িত্ব এসে যায় দুই তরুণের কাঁধে। কিন্তু ৩৮ রানের জুটি হওয়ার পর তাতে ভাঙন ধরান বাঁহাতি স্পিনার এনামুল হক জুনিয়র।
১১৭ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে আবাহনীর ইনিংস সেখানেই শেষ হতে পারতো। যদি না তাসকিন আহমেদ ও আবুল হাসান রাজু ৫১ রান করতেন। আবুল হাসানকে (২৮) ফিরিয়ে এ জুটি ভাঙেন নাঈম ইসলাম জুনিয়র। তবে তাসকিন আহমেদ শেষ পর্যন্ত ৩৮ রানে অপরাজিত থাকেন। শেষ পর্যন্ত ৪৮.৪ ওভারে ১৮৩ রানে অল-আউট হয় আবাহনী।
মোহামেডানের বোলাদের মধ্যে শুভাশিষ রায় সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নিয়েছেন। ১০ ওভার ২ মেডেনে ৩৪ রানে ৩ উইকেট নেন ডানহাতি এ পেসার। হাবিবুর রহমান, নাঈদ ইসলাম জুনিয়র প্রত্যেকে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।
১৮৪ রানের জয়ের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ওপেনিং জুটিতে ৯৭ রান আসে মোহামেডানের। তার আগে অবশ্য ওপেনার সৈকত আলী রিটায়ার্ড হার্টে সাজঘরে ফেরেন।
ইজাজ আহমেদ ব্যক্তিগত ৪২ রানে ফিরে গেলে ক্রিজে নামেন মুশফিক। তিনি অবশ্য ইনিংসটা বড় করতে পারেননি এদিন। ১৭ রান করে তাসকিনের বলে উইকেট কিপারের হাতে তালুবন্দি হন মুশফিক।পরের সময়টুকু উপুল থারাঙ্গা ও নাঈম ইসলাম মিলে পার করেন। ৩৭ বল বাকি থাকতেই ৮ উইকেটের বড় জয় তুলে নেয় মোহামেডান। থারাঙ্গা ৭৭ ও নাঈম ২৫ রানে অপরাজিত থাকেন।
আবাহনীর বোলারদের মধ্যে তাসকিন ও অমিত কুমার একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
/আরআই/এমআর/








