টানা হারের বৃত্তে থাকা যে কোনও দলেরই দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাবে! কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমির ক্ষেত্রেও তেমনটাই হয়েছে। প্রথম ৬ রাউন্ডে সবকটি ম্যাচেই হার দেখতে হয়েছে মাহমুদুল হাসাল লিমনের নেতৃত্বাধীন কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমিকে। শেষ পর্যন্ত সপ্তম রাউন্ডে কাগজে কলমে শক্তিশালী দল আবাহনীর বিপক্ষে মুখোমুখি হয়ে জয় পেয়েছে তারা।
ম্যাচটিতে মাহমুদুল হাসান লিমনের ব্যাটিং ও বোলিং দৃঢ়তায় টুর্নামেন্টে প্রথম জয় তুলে নিয়েছে কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমি। এদিন তারা আবাহনীকে ৩ উইকেটে হারিয়ে টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় অঘটন ঘটিয়েছে। ব্যাট ও বলে দারুণ পারফরম্যান্সের সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কার পেয়েছেন মাহমুদুল হাসান লিমন।
শেষ ৩০ বলে প্রয়োজন ১৫ রান। হাতে ছিল ৩ উইকেট। ক্রিজে লেট মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান বিশ্বনাথ হালদার ও নুরুজ্জামান। কিন্তু আবাহনীর বোলারদের কোনও রকম পাত্তা না দিয়েই ১৯ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমি।
আগে ব্যাটিং করা আবাহনী নির্ধারিত ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ২৮২ রান সংগ্রহ করে। তামিম ইকবাল ও অভিষেক মিত্র ওপেনিং জুটিতে ৮৮ রান যোগ করেন। তামিম ব্যক্তিগত ৪৮ রানে ফিরে গেলে ক্রিজে নামেন লিটন। কিন্তু আগের ম্যাচগুলোতে ধারাবাহিকভাবে ব্যর্থ হওয়া লিটন এই ম্যাচেও আট রানের বেশি করতে পারেননি।
এরপর ভারত থেকে উড়িয়ে আনা মনোজ তেওয়ারী ক্রিজে নামেন। অভিষেক মিত্র ততক্ষণে টুর্নামেন্টের প্রথম হাফসেঞ্চুরির দেখা পেয়ে যান। তার আগে অবশ্য ৩১ রানের ছোট একটি জুটি গড়েন তিনি। ব্যক্তিগত ৬৩ রানে তিনি সাজঘরে ফেরেন।
শেষ দিকে তেওয়ারীর ৪৪, মোসাদ্দেক হোসেন ৪২ ও নাজমুল হোসেন শান্ত’র ৩৭ রানে আবাহনী ২৮২ রানের সংগ্রহ পায়।
কলাবাগান ক্রিকেট একাডেমির বোলারদের মধ্যে একাই তিনটি উইকেট নিয়েছেন মাহমুদুল হাসান লিমন। তিনি ১০ ওভারে ৫২ রান খরচায় নিয়েছেন এই তিনটি উইকেট। এছাড়া যতিন সাক্সেনা দুটি উইকেট নিয়েছেন।
২৮৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে কলাবাগানের টপ অর্ডার ব্যাটসম্যানরা। যদিও দলীয় ৩১ রানে ওপেনার ইরফান শুক্কুর ফিরে যান। ক্রিজে নামেন বিদেশি ক্রিকেটার যতিন। তিনি মোহাম্মদ আরাফাতের সঙ্গে ভালোই এগিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু দলীয় ৪৮ রানে আরাফাত ফিরে গেলে কিছুটা ছন্দপতন ঘটে কলাবাগানের ইনিংসের। এরপর যতিন সাক্সেনা ফিরে যান ব্যক্তিগত ৪৩ রানে।
১২৫ রানে তিন উইকেট হারানো কলবাগানকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান দলের অধিনায়ক মাহমুদুল হাসান লিমন। তিনি পুরোটা সময় আবাহনীর বোলারদের ওপর ছড়ি ঘোরান। ১১১ বলে ৮ চার ও ৩ ছয়ে তিনি ১০৬ রানের ইনিংস খেলেন। ম্যাচটি হয়তো শেষ করেই সাজঘরে ফিরতে পারতেন লিমন। কিন্তু সাকলাইন সজিবের বলে এলবিডব্লিউর ফাঁদে পরেন জয়ের কাছাকাছি থাকতেই। বাকি কাজটুকু খুব ভালো ভাবে শেষ করেন দুই লেট মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান নুরুজ্জামান ও বিশ্বনাথ হালদার। নুরুজ্জামান ১৭ ও বিশ্বনাথ হালদার ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন।
আবাহনীর বোলারদের মধ্যে আবুল হাসান রাজু তিনটি উইকেট নিয়েছেন। এছাড়া তাসকিন আহমেদ, সাকলাইন সজিব ও জুবায়ের হোসেন লিখন প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নিয়েছেন।
/আরআই/এফআইআর/








