সাদা পোষাকে লেগ স্পিনারদের দাপট সর্বত্র। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলে এখনও লেগ স্পিনাররা সেভাবে দাপট দেখানো শুরু করেননি। তবে তরুণ লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখনকে নিয়ে সাবেক ক্রিকেটারদের প্রত্যাশা, ঘূর্ণি দিয়ে বিশ্বজয় করবেন তিনি। অবশ্য শুরুটা সেভাবেই করেছেন তরুণ এই লেগি। তবে নিয়মিত খেলতে না পারায় কিছুটা হতাশ জুবায়ের নিজেই।
সবকিছু কাটিয়ে সদ্য শেষ হওয়া প্রিমিয়ার লিগে ৭ ম্যাচ খেলেছেন আবাহনীর জার্সিতে। ৫০ ওভারের এই ক্রিকেটে ২৫১ রান খরচায় তিনি ১৩টি উইকেট নিয়েছেন। যদিও প্রথম চারটি ম্যাচে তার ঘুর্ণিতে কুঁপোকাত হয়েছে প্রতিপক্ষ দলগুলো। পরের তিনটি ম্যাচে নিষ্প্রভ ছিলেন তরুণ এই স্পিন জাদুকর।
জুবায়েরের ঘূর্ণি বেশি দেখা যায় সাদা বলেই। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৭ ম্যাচ খেলে তার উইকেট সংখ্যা ৫৫টি। জাতীয় দলের হয়ে সাদা পোষাকে ৬ টেস্ট নিয়েছেন ১৬ উইকেট। তাইতো টেস্ট ক্রিকেটে বর্তমান বাংলাদেশ দলের অটোমেটিক চয়েজ বলা হয় লিখনকে।
প্রিমিয়ার লিগে বেশ কিছু ম্যাচ ভালো খেলায় এই ফরম্যাটে ভবিষ্যতে ভালো খেলার স্বপ্ন দেখছেন জুবায়ের হোসেন লিখন। সোমবার অনুশীলন শেষে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। লিখন বলেন, ‘জাতীয় দলে ঢোকার পর থেকেই চেষ্টা ছিল নিজের বোলিংয়ের উন্নতি করা। স্কিল আরও বাড়িয়ে নেওয়া। স্ট্রোক বলটায় আরও উন্নতি করা। আমার হাতে অনেক ভেরিয়েশন আছে। ভেরিয়েশনের কারণে স্ট্রোক বলে একটু সমস্যা হচ্ছে। এটা নিয়ে কাজ করছি, এক জায়গায় কাজ করা। সত্যি কথা বলতে অভিজ্ঞতা একটা বড় জিনিস। আস্তে আস্তে সবার সঙ্গে কথা বলছি। ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতে আরও ভালো করব। লিগে প্রথম দিকের ছন্দটা না থাকায় শেষের দিকে খেলতে পারেন নি।’
আগের দুই লিগের চেয়ে এবারের অভিজ্ঞতা কেমন ছিল এমন প্রশ্নে লিখন বলেন, ‘ধরতে গেলে এবারই কিন্তু আমার প্রথম প্রিমিয়ার লিগ। এর আগেরবার বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি। এবারই আমি বেশি ম্যাচ খেলেছি। পরেরবার যখন প্রিমিয়ার লিগ খেলব চেষ্টা করব এবারের ভুলত্রুটি গুলো শুধরাতে।’
লিখনের ফিটনেস নিয়ে মারিও ভিল্লাভারায়েন প্রায়ই কথা বলেন। লিখনও এটা স্বীকার করলেন। তবে দ্রুত ফিটনেসের উন্নতি করতে পারবেন বলে বিশ্বাস লিখনের। তিনি বলেন, ‘একটু মোটা হয়ে গিয়েছিলাম। এটা কমানো কোনও কঠিন বিষয় নয়। দুই এক মাস কষ্ট করলেই কমে যাবে। এটা নিয়েও কাজ করছি। জিম-রানিং ও মুশফিক ভাইয়ের সঙ্গেও কাজ করছি। এটা কমিয়ে ফেলতে পারব।’
লিগে আপনি অনেক বেশি পরীক্ষা করতে চাচ্ছিলেন। স্বাভাবিক বোলিংয়ে চেয়ে অনেক কিছু করতে গিয়ে পরে সাফল্য পাননি। বিষয়টি কিভাবে দেখছেন জানতে চাইলে লিখন বলেন, ‘আমি শুরুটা যেভাবে করেছিলাম কিন্তু শেষটা সেভাবে করতে পারিনি। পর পর দুটি ম্যাচে আমি উইকেট না পাওয়ার কারণে ডাউন হয়ে গিয়েছিলাম। আমি এটা পরবর্তীতে উপলব্ধি করেছি।’
/আরআই/এমআর/








